বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি ফেঁসে যাচ্ছেন!

বলিউড তারকা, অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি তাঁর স্বামী রাজ কুন্দ্রার পর্ণো ব্যবসার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত আছে কিনা, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ। কারণ এই বলিউড অভিনেত্রী স্বামীর অধিকাংশ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছে বলে জেনেছে মুম্বাই পুলিশ। শিল্পা, বলিউড এই অভিনেত্রী তাঁর স্বামীর অবৈধ পর্ণোগ্রাফি ব্যবসা সম্পর্কে কতটুকু জানতেন তারই তদন্ত করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এ ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে জানতে গত ২৩ জুলাই শিল্পা আর রাজের বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযানে গিয়েছিল মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

অভিযানের সময় তাঁরা রাজ কুন্দ্রাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। শিল্পা ও রাজকে পাশাপাশি বসিয়ে তারা ছয় ঘণ্টার মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানতে পেরেছে যে শিল্পা ‘ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রি’তে নির্দেশকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তবে কিছুদিন আগে এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এই বলিউড নায়িকা। বর্তমানে তা তদন্ত করে দেখছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

এছাড়া ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের থেকে কোন রকমের আর্থিক সুবিধা শিল্পা পেতেন কিনা সে ব্যাপারেও নজর রাখছে মুম্বাই পুলিশ। আর এজন্যই শিল্পার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে তাঁরা। তবে এখনো পর্যন্ত শিল্পা শেঠি কে গ্রেপ্তার করেনি ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তবে সূত্রমতে আবারো তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ  করা হতে পারে। এরইমধ্যে ভারতের কিছু শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম জল আরও ঘোলা করেছে। তাঁদের দাবি, রাজের ‘হটশটস’ অ্যাপের ব্যাপারে ভালোভাবেই জানতেন শিল্পা।

শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ তিনি তাঁর স্বামীর সব কীর্তি আড়াল করেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের জালে আটক হওয়ার পর জানা গিয়েছে যে, ‘হটশটস’ অ্যাপে ২০ লাখের বেশি গ্রাহক ছিলেন। গভীর তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ এক ভয়াবহ তথ্য জানতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছে যে ১০ কোটি রুপির বিনিময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ১২১ পর্ণো ভিডিও  শিল্পার স্বামী বিক্রি করতে চলেছিলেন।

তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পর্ণোগ্রাফি আইন অনুযায়ী মামলা হয়েছে। এ মামলায় ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা জানার জন্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। রাজ কুন্দ্রা গ্রেফতার হবার পরেই  বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও ডিলিট করার প্রমাণ পেয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এক্ষেত্রে ডিলিট করা ডেটা পুনরায় উদ্ধার করার চেষ্টা করছে ফরেনসিক বিভাগ। ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্তে  জানা গিয়েছে একটা মোটা অঙ্কের টাকা রাজের অ্যাকাউন্টে এসেছে কোনো এক জুয়া কোম্পানী থেকে।

অপরদিকে রাজ তাঁর গ্রেপ্তার অবৈধ উল্লেখ করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।  তাঁর অভিযোগ, অবৈধ ভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজ ও এই মামলায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত রায়ন থার্পের রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ক্রাইম ব্রাঞ্চের আবেদনে ২৭ জুলাই অব্দি তাঁদের রিমান্ড আরো বৃদ্ধি করেছেন আদালত। রিপোর্ট লেখা অব্দি শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রা সহ এই কান্ড সর্বমোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।

রাজ সম্পর্কে ক্রাইম ব্রাঞ্চের আরো একটি অভিযোগ যে পুলিশের তদন্তকার্যে কোনরকম সাহায্য করছেন না তিনি। গত ১৯ জুলাই রাতে রাজ কে গ্রেফতার করে  কারাগারে পাঠায় মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

 

সম্পাদনা: আরিফুল ইসলাম লিখন

Loading...