বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সুশাসনের বিকল্প নাই: ইনু

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সুশাসনের বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। 

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতা-জাতীয়তাবাদীর আদর্শে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।’

সোমবার (১৯ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)  আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।  

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর সবচাইতে বড় আঘাত। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তি মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। খুনীরা শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদেরই হত্যা করেনি, তারা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ভিত্তি ও আত্মাকেই হত্যা করতে চেয়েছিল।’

তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু খুনিরা তাই সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের পথে ঠেলে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে প্রমাণ হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে খুন ও পাকিস্তানপন্থার রাজনীতির মূল ঘাঁটি বিএনপি। বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিষবৃক্ষ।’

ইনু বলেন, ‘বিএনপিসহ পাকিস্তানপন্থিদের সাথে কোনো আপস, মিটমাট চলে না। এরা ষড়যন্ত্রকারী। সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। তাই ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ঘাঁটি-খুটি সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। ঘরকাটা ইঁদুর, ঘরের লোক, আপন লোকদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে, যেন ষড়যন্ত্রকারীরা কোনও সুযোগ না পায়।’

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে দূরে সরিয়ে রেখে মুজিব বর্ষ পালন কোনো ফল দিবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেই মুজিব বর্ষ পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘‘সমস্যার জন্য অন্যদের কাঁধে, জনগণের কাঁধে দোষ দেয়ার অভ্যাস মন্ত্রীদের বাদ দিতে হবে। মন্ত্রীদের কারবার দাঁড়িয়েছে, ‘ভাত দেয়ার মুরোদ নাই, কিল মারার গোসাই’র মত।’’ 

জাসদ সভাপতি  হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ। 

Loading...