প্রায় কোটি টাকার বিল, দায় নেয় না কেউই!

সরকারি বিশেষ অনুদান বা ভর্তুকিতে বেতন পান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনটাই ঘটেছে। এমনকি করোনা শুরুর সময় থেকে বেশ টানাপোড়েনেই গেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের দিন।

মাসের পর মাস বেতন বাকি, ঈদের সময়ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করতে হয়েছে তাদের। অথচ প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় চলচ্চিত্রের সাত-সাতটি সংগঠনের কার্যালয়। ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ–পানির বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ তাদের কাছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি পায় প্রায় কোটি টাকা।

কিন্তু পরিশোধের নাম নেই কারও। এমনকি কেন পরিশোধ করা হয় না- জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র নেতা উল্টো হুমকিই দিলেন। বললেন, ‌‘এমন বিল চাওয়াটাই অন্যায়।’

১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকাসহ বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, রক্ষণাবেক্ষণ খরচসহ চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলোর কাছে ঘর ভাড়া দেয় বিএফডিসি। যা কয়েক দফায় ভাড়ার অঙ্ক বাড়ানো ও কমানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতিমাসে তা ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার ঘর ভাড়া, হাজার টাকার উপরে পানির বিল, আছে বিদ্যুৎ বিলও। কিন্তু অর্থ পরিশোধ করেনি সমিতিগুলো। এদের মধ্যে আছে- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি, চিত্রগ্রাহক সংস্থা, সিডাপ, ফিল্ম এডিটরস গিল্ড ও ব্যবস্থাপক সমিতি।

বিএফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, ‘সমিতিগুলো কোনোভাবেই বিল পরিশোধ করছে না। প্রতি মাসেই তাদের নোটিশ দেওয়া হয়। এখানে বিদ্যুৎ বিল, ঘর ভাড়া ও পানির বিল আছে। এটার পরিমাণ কোটি খানেক কিনা- তা আমি সঠিক বলতে পারব না। আমাদের হিসাব বিভাগ বলতে পারবে।’

বিষয়টি তোলা হয় এফডিসির হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা নিকেশ বড়ুয়ার কাছে। তিনি বললেন, ‘এ বিষয়টি দেখভাল করে প্রশাসন বিভাগ। আমরা শুধু নির্দেশ অনুযায়ী বিলটির নোটিশ পাঠাই। আমরা প্রতি মাসেই তাদের কাছে এটি পাঠাই; কিন্তু উনারা এ বিষয়ে মনযোগী নন। এটার পরিমাণ ৭০ লাখেরও অনেক বেশি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের বকেয়া বিল ৭৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ টাকা ছিল।

গত প্রায় দু বছরে এর পরিমাণ আরও ৮ লাখ টাকা মতো বেড়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বিলই হয়েছে ২৬ লাখ টাকা।

Loading...