প্রথম হারের মুখ দেখলো টাইগাররা।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয় দিয়ে দারুণ সূচনা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জিতলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যেত। তবে হঠাৎ করেই টি-টোয়েন্টিতে সেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশ দলকে আবারো দেখা গেল হারারেতে। সেই চিরাচরিত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা, ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা, মিস ফিল্ডিং ও পরিকল্পনাহীন বোলিং। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার টাইগার ক্যাপ্টেন মাহমুদউল্লাহের মতে, টানা জয়ের পরও দলের কেউই আত্মতুষ্টিতে ছিলেন না। বরং জয়ের জন্যই ফোকাসড ছিল সবাই। রিয়াদের ব্যাখ্যায়, টপ অর্ডারের  ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই হেরেছে বাংলাদেশ। 

প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর গতকাল শ্রীহীন ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথমে টস জিতে জিম্বাবুয়ে ব্যাট করে ১৬৬ রানের টার্গেট দেয় সফরকারীদের। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি ব্যর্থতার নমুনা আরো একবার মাঠে দেয়। ব্যাটিং ব্যর্থতার এদিনে  ১৬৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায়। দীর্ঘদিন জয়ের অপেক্ষায় থাকা জিম্বাবুয়ে এখন সিরিজে ১-১ সমতায়। সফরকারীরা হেরেছে ২৩ রানে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল্লাহ জানান,‘আমরা আত্মতুষ্টিতে ছিলাম এমনটা নয়। আমরা ম্যাচ জয়ের জন্য ফোকাস ছিলাম। কিন্তু পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে না পারায় হেরেছি।’ ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে তিনি  জানান, ‘ব্যাটিং ইউনিট হিসাবে আমরা আজ ভালো করতে পারিনি। ১৬৬ রান তাড়া করার জন্য শুরুটা ভালো করা জরুরি। আমরা সেটা করতে পারিনি।’

ব্যাটিং ব্যর্থতার এইদিন বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি গড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেন ও সদ্য অভিষিক্ত শামীম হোসেন। জয়ের আশার আলো দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত  জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শামীম হোসেন ও আফিফ হোসেন ছাড়া আর কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। মাহমুদুল্লাহ নিজের  আউট নিয়ে বলেন ‘আমার ব্যাটিং  নিয়ে আমি হতাশ না। প্রথমে উইকেট হারানোর পরও আমরা সাবধান হতে পারেনি, পরেও ধারাবাহিক উইকেট হারিয়েছিল। তবে হয়তো ৫০ বা তার বেশি দু-একটা জুটি গড়তে পারলে সেখান থেকেই দলকে অন্যরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। আমরা সেভাবে কোনো জুটিই গড়তে পারিনি।’ এছাড়া ম্যাচ হারলেও দলের খেলোয়ারদেরকে প্রশংসা করতে ভুলে যাননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাইলেন্ট কিলার জানান, তার দলে ব্যাটিং ও বোলিং এ খুবই ভালো ভারসাম্য আছে। পেস বোলিং, স্পিন, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং সহ সব জায়গায়তেই দারুণ ভারসাম্য থাকলেও গতকাল তারা ভালো খেলতে পারেনি যার জন্য তাদের পক্ষে ফল আসেনি। আগামীকাল ২৫ জুলাই জিম্বাবুয়ের হারারেতে একই মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী সর্বশেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

 

সম্পাদনা:  আরিফুল ইসলাম লিখন।

Loading...