প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে যেমন কাটছে শাহরুখপুত্র আরিয়ানের জেলজীবন

 

 

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানের বর্তমান ঠিকানা মুম্বাইয়ের আর্থার রোড জেল। ‘মান্নাত’-এর বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত তরুণ এখন জেলের এক সাধারণ বন্দী। মাদক-কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দেহে ১৩ দিন ধরে বিচারিক হেফাজতে আছেন এই তারকাপুত্র। বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ছেলে হয়েও কোনো বিশেষ সুবিধা পাননি আরিয়ান। আর এসব কথা বাইরে প্রকাশ করেছেন আর্থার রোড জেলের এক কয়েদি।

 

ভারতের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় এক দৈনিক পত্রিকা আর্থার রোড জেলে আরিয়ান কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন তা জানিয়েছেন। ১৬ অক্টোবর আর্থার রোড জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন কয়েদি শ্রাবণ নডার। তিনি জালিয়াতির মামলায় ছয় মাস ধরে আর্থার রোড জেলে বন্দী ছিলেন।

 

এই সংবাদপত্রের কাছে শ্রাবণ আরিয়ানের কারাবন্দী জীবনের কিছু কথা জানিয়েছেন। আরিয়ানকে জেলের যে ব্যারাকে রাখা হয়েছিল, সেই একই ব্যারাকে ছিলেন শ্রাবণ। আরিয়ানকে জেলে খাবার দেওয়ার দায়িত্ব তার-ই ছিল। সাত দিনের কোয়ারেন্টিনের পর শাহরুখপুত্রকে ১ নম্বর ব্যারাকে রাখা হয়েছিল। আর্থার রোড জেলে একটা ব্যারাকে চারটি সেল আছে। আর একেকটা সেলে ১০০ জন কয়েদিকে রাখা হয়। তাই একটা ব্যারাকে সব মিলিয়ে ৪০০ জন কয়েদি থাকেন। আরিয়ানকে যে সেলে রাখা হয়েছে, সেখানে ১০০ জন কয়েদি আছেন। আর ১০টি সিলিং ফ্যান লাগানো আছে।

 

শ্রাবণ জানিয়েছেন, আরিয়ান শুধু প্রথম দিন জেলের চা খেয়েছিলেন। আর কোনো খাবার মুখে তুলতেন না তিনি। জেলের ক্যানটিন থেকে আরিয়ান প্রচুর পরিমাণে মিনারেল পানি, কিছু চিপস আর বিস্কুটের প্যাকেট কিনেছিলেন বলে জানিয়েছেন আরিয়ান। আর শুধু পানিতে ডুবিয়ে বিস্কুট খেতেন এই তারকাপুত্র। শ্রাবণ জানিয়েছেন যে জেলের নিয়ম অনুযায়ী কয়েদিদের তাঁর প্রাপ্য খাবার নিতে হবে। আরিয়ান তাঁর প্রাপ্য খাবার নিতেন। তবে তা তিনি অন্য কয়েদিদের দিতেন বলে শ্রাবণ জানিয়েছেন। আরিয়ান কিছুই খেতেন না। জেল রক্ষীরা অনেকবার আরিয়ানকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছেন। শাহরুখপুত্র বলতেন যে তাঁর একদম খিদে নেই। শ্রাবণ জানিয়েছেন, জেলে একদম চুপচাপ আরিয়ান বসে থাকতেন। কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন না তিনি। বাসা থেকে পাঠানো জিনস আর টি-শার্ট পরে থাকতেন আরিয়ান।

শ্রাবণ জানিয়েছেন, কোনো রকম ভিআইপি সুযোগ-সুবিধা তাঁকে দেওয়া হতো না। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে শ্রাবণ আরিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এই তারকাপুত্র শ্রাবণকে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য অনেক শুভকামনা জানিয়েছিলেন। শ্রাবণ জানিয়েছেন, জবাবে তিনি আরিয়ানকে বলেছিলেন যে শিগগিরই তিনিও জেলের বাইরে বের হয়ে আসবেন।

 

শ্রাবণ আরও জানিয়েছেন, জেলে আসার পর আরিয়ান খুব ঘাবড়ে ছিল। আর খুব টেনশনের মধ্যে থাকতেন। তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। সন্ধ্যার পর আরিয়ান জেলে টেলিভিশন দেখতেন না। চুপচাপ এক পাশে শুয়ে থাকতেন। অন্যান্য কয়েদিদের সঙ্গে ভোর ছয়টায় আরিয়ান ঘুম থেকে উঠে পড়তেন বলে জানিয়েছেন শ্রাবণ। নাশতায় তাঁকে কয়েকটি বিস্কুট ও চা দেওয়া হতো। সব খাবার তিনি অন্য কয়েদিদের বিলিয়ে দিতেন। আজও শাহরুখপুত্র জামিনে ছাড়া পাননি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.