পাকিস্তানের পার্লামেন্টে হাতাহাতি

একেটিভি ডেস্ক

বাজেট অধিবেশন চলার সময় পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ গত মঙ্গলবার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। দেশটির ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা শেহবাজ শরিফ। এ সময় হঠাৎ সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ হাতে থাকা বাজেট বই ছুড়ে মারেন অন্যের দিকে।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার তিনবার সংসদ মুলতবি করেন। কিন্তু তাতেও থামেনি হট্টগোল। হট্টগোলের নেতৃত্বে ছিলেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন মন্ত্রী। তাঁরা স্পিকারের কথা না শুনে স্লোগান দিতে ও শিস বাজাতে থাকেন। শেহবাজ শরিফকে ঘিরে রাখেন তাঁর দলের সদস্যরা। তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান।
এতে আহত হন ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নারী আইনপ্রণেতা মালেকা বোখারি। তিনি চোখে আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানায়, প্রথমে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আলী নাওয়াজ খান বিরোধী দলের দিকে বাজেট বই ছুড়ে মারেন। বিরোধীরাও তাঁর দিকে পাল্টা বাজেট বই ছোড়েন। হট্টগোল ছড়িয়ে পড়লে নিরাপত্তারক্ষীরা ঢুকে মানবদেয়াল তৈরি করে দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের ঠেলে পরস্পরের মধ্যে বাজেট বইসহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য শাহ মাহমুদ কোরেশি, আসাদ উমর, শাফকাত মাহমুদ, ফাওয়াদ চৌধুরীর মতো অনেকেই উপস্থিত থাকলেও তাঁরা হট্টগোল না থামিয়ে আরও উৎসাহ দেন। বিরোধীরা যেন বাজেট বক্তৃতা করতে না পারে, সেই সরকারি নীতির প্রতিফলন দেখান।
সংসদে অন্য বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির সদস্য ও চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি সেখানে শান্ত হয়ে বসে এ হট্টগোল দেখতে থাকেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা ওই হট্টগোল থামাতে ব্যর্থ হলে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। কিন্তু তাঁর আগেই শেহবাজ শরিফকে সরিয়ে দেন পিএমএল–এনের সদস্যরা।
অধিবেশন শেষ হওয়ার ১০ মিনিট পরও পাল্টাপাল্টি বই ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে।
পরে স্পিকার আসাদ কায়সার এ ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, তাঁরা শেহবাজ শরিফ ও বিলওয়াল ভুট্টোকে বক্তৃতা করতে দেবেন না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও অন্য মন্ত্রীদের বক্তব্য নীরবে শোনার লিখিত নিশ্চয়তা না দেন।

Loading...