পরীমনিকে যেনো কোনো কষ্ট না দেয়া হয়- সেফুদার দাবি

সেফাত উল্লাহ সেফুদা বলেছেন, পরীমনি অনেক ভালো অভিনেত্রী, তাকে যেনো কোনো কষ্ট না দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে একথা বলেন তিনি।

লাইভে সেফুদা বলেন, পরীমনি অনেক অসুস্থ্য। পরীমনি বুঝতে পারে নাই যে পুলিশ এসেছে। তাকে আগে অনেকেই থ্রেড করেছে। তাই সে মনে করেছে কোনো বাহিনী হয়তো এসেছে। সে তো থানায় টেলিফোন করেছে। থানার লোক বলতে পারতো, র‌্যাব গেছে। হারুন সাহেব বলেছেন, পুলিশ আসেনি, তুমি দরজা খুলো না। সি ওয়াজ মিসগাইডেড।

সেফুদা আরও বলেন, তার বাসায় কিছু লোক আছে, তারাও জানালা দিয়ে দেখতে পারতো র‌্যাব আসছে কি না। বাইরে অনেক লোকজন ছিল। মিডিয়ার লোকজন ছিলো। পুলিশের লোক ছিলো। কিন্তু সিভিল ড্রেসে লোকজন দরজা ভেঙেছে। প্রথমে আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো নাটক করছে নাকি, না সিনেমার কোনো দৃশ্য? পরে দেখলাম, না ঘটনা সত্যি। আমি মনে করেছিলাম রিয়েলি এটা কোনো নাটকের দৃশ্য। কারণ পরীমনি তো অনেক ভালো অভিনেত্রী। পরে দেখলাম, না! এটা সত্যি লাইভ।

 

 

পরীমনি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার আগের ভিডিও রেকর্ডগুলো দেখলে বুঝবেন, আমি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছি। এমনকি যেদিন তাকে অ্যারেস্ট করেছে সেদিনও আমি তাকে বকাবকি করেছি। তাকে অনেক হেদায়াত করেছি, তুমি যেভাবেই হোক টাকা-পয়সা কামাইছো। তোমার পার্সোনালিটি ডেভেলপ করো। তুমি এত বেশি ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষী কেন? তোমাকে ডিসিপ্লিনড হতে হবে। তোমাকে আরও বেশি পার্সোনালিটি ডেভেলপ করতে হবে।

 

 

মাদকসহ পরিমনি আটক

বুধবার বিকেলে পরীমনির বনানীর বাসায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে যায় র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের সদস্যরা। তাদের দেখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভ শুরু করেন পরীমনি। তিনি সেখানে অভিযোগ করেন, তার বাসায় বিভিন্ন পোশাকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বলছেন। কিন্তু তিনি দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাকে আটক করে র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করার কথা জানায় র‌্যাব।

পরীমনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন। কিছুদিন আগে ঢাকার সাভারের বোটক্লাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে আলোচনায় আসেন তিনি। ওই ঘটনায় কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছিলেন, তারা আবার জামিনও পেয়েছেন। এর মধ্যেই আবার একাধিক ক্লাবে পরীমনির ভাঙচুরের অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বাস করা চিত্রনায়িকা পরীমনির ভিন্ন রকম দিন কাটল। বুধবার রাতে আটক হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আদালতে হাজির করার আগপর্যন্ত ২০ ঘণ্টার মতো র‍্যাব সদর দপ্তরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে।

 

 

রাত সাড়ে আটটার দিকে আদালতে হাজির করে মাদকের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরীমনিকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

এর আগে বুধবার বিকেলে বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে মদ ও বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করে র‍্যাব। অভিযান শেষে মধ্যরাতে তাঁকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি।

র‍্যাব সূত্র জানায়, পরীমনিকে র‍্যাব সদর দপ্তরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়। সেখানে আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে সদর দপ্তর পৌঁছানোর পর পছন্দমতো পরীমনি দুটি সেদ্ধ ডিম, ভাত ও চায়নিজ সবজি খান। এ ছাড়া তাঁকে লেমন জুস দেওয়া হয়। সকালে পরীমনিকে দেওয়া হয় পরোটা, সেদ্ধ ডিম ও গরুর মাংস। পরীমনি দুপুরে খেয়েছেন ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি-ডাল।

 

 

র‍্যাব হেফাজতে কেমন ছিলেন পরীমনি

একাধিক র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, পরীমনি যতক্ষণ র‌্যাব সদর দপ্তরে ছিলেন, একটু পরপরই তিনি লেমন জুস চেয়ে খেয়েছেন। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক।

র‍্যাব হেফাজতে পরীমনি কেমন ছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাইরুল ইসলামের কাছে। জবাবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, র‍্যাব সদর দপ্তরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়েছিল পরীমনিকে। তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি র‍্যাব কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন।

 

গত জুনে রাজধানীর অদূরে বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে তাঁকে হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে বলে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন পরীমনি। পরে তাঁর মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন এখন জামিনে মুক্ত।

গতকাল বিকালে পরীমনির বাসায় যায় র‍্যাবের একটি দল। এ সময় পরীমনি ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় তিনি থানা-পুলিশ, ডিবির কর্মকর্তা ও পরিচিতজনদের কাছে ফোন করে তাঁকে রক্ষার আকুতি জানান। র‍্যাবের সদস্যরা বারবার পরিচয় দিলেও ভেতর থেকে দরজা খুলছিলেন না পরীমনি।

 

 

একপর্যায়ে দরজা খুলে দেওয়া হলে র‍্যাবের সদস্যরা ভেতরে ঢোকেন। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। একপর্যায়ের পরীমনিকে আটক করা হয়। অভিযান শেষ র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরীমনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াইন, আইস, এলএসডি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

পরীমনিকে আটকের পর রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজকে আটক করে র‍্যাব। পরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরীমনি ও নজরুল রাজসহ এই চক্র ডিজে পার্টির আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করত। এসব অর্থ তারা বিভিন্ন ব্যবসার কাজে লাগাত।

 

এদিকে রাতে পরীমনির মামলা তদন্তের দায়িত্বভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

পরীমণির বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি’র বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। সর্বশেষ প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানের পর বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব।

তার বাসা থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে— বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, নতুন মাদক এলএসডি ও আইস।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রায়ই রাতেই মাতাল হয়ে দলবেঁধে বিভিন্ন ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তার বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গত ১৪ জুন প্রথমে ফেসবুকে ও পরে সংবাদ সম্মেলন করে নাসির ইউ মাহমুদ নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ আসতে থাকে। তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনের নানা দিক নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা।

 

 

১৪ জুন প্রথমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন তিনি। ফেসবুকে অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর ওইদিন রাতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ী ও ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেন, ৮ জুন তিনি ঢাকা বোট ক্লাবে গেলে সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার সঙ্গীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন।

পরদিন নাসির ইউ মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় নাসির ইউ মাহমুদসহ দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়। ১৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান নাসির ইউ মাহমুদ।

এর একদিন পর ১৬ জুন অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয় পরীমণির বিরুদ্ধে। তখন অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, বোট ক্লাবের ঘটনার আগের দিন পরীমণি একজন সদস্যের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়ে কমিউনিটি ক্লাবে আসেন। তার পোশাক ও আচার-আচরণ দেখে তাকে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

 

 

তখন পরীমণি চিৎকার ও চেচামেচি শুরু করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫-২০টি গ্লাস ও ছাইদানী ছুঁড়ে মারেন এবং ভাঙচুর করেন।

গুলশান থানা পুলিশও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯–এর একটি কলে গুলশান থানা-পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কথা-কাটাকাটির জেরে ক্লাবে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন পরীমণি। পরে আর ওই ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি।

 

 

পরীমণির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হচ্ছে— প্রায়ই তিনি মধ্য রাতে মাতাল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। মানতেন না কোনও নিয়ম। নিজের খেয়াল ‍খুশি অনুযায়ী, গভীর রাতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে দল বেঁধে মদপান করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, তার কারণে প্রায়ই বিভিন্ন ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। এক ক্লাবে কিছু সময় কাটিয়ে আর যেতেন অন্য ক্লাবে।

 

 

চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযানের পর বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদসহ তাকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। র‍্যাব সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বিপুল পরিমাণে মাদকসহ পরীমনিকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরীমনিকে বাসা থেকে বের করা হয়নি।

এর আগে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় বিকেল ৪টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর ৩০ মিনিট পর তার বাসায় একে একে তিন থেকে চারজন র‍্যাবের নারী সদস্যকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপরই পরীমণিকে আটক করা হতে পারে বা হয়েছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাকে আটক করার জন্যই র‍্যাবের নারী সদস্যরা বাসার ভেতরে গিয়েছেন বলে মনে করছেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।

 

 

অভিযানে থাকা র‍্যাবের সদস্যরা ছাড়া বাসার ভেতরে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাসার প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে র‍্যাব।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমণির বনানীর লেক ভিউ ১৯/এ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে র‍্যাবের এ অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

 

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণির বাসায় অভিযান

পরীমণির বাসার মূল গেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র‍্যাব-১ এর কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, র‍্যাব সদর দফতরের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা সদরদফতরের টিমকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে এসেছি। তিনি বলেন, আমরা মূলত অভিযানস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। তবে কী কারণে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তাকে আটক করা হবে কি না এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।

এর আগে, র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

 

অভিযান চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরীমণি তার বাসার বারান্দায় এসে নিচে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের উপরে ওঠার জন্য ডাকতে থাকেন। এর আগে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, তার বনানীর বাসায় কেউ হামলা চালিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই লাইভ ভিডিও ভাইরাল হয়।

গত জুন মাসে রাজধানীর একটি ক্লাবে পরীমণিকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান। এরপর তা আমলে নেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত নাসির ইউ আহমেদ গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি

জটিল রোগে আক্রান্ত পরীমণি

অনেকদিন ধরেই ভার্টিগো রোগে ভুগছেন পরীমণি। লকডাউনের আগে ভারতে গিয়ে লম্বা সময় চিকিৎসাও করিয়েছেন। কিন্তু উন্নতি সেভাবে হয়নি।

গুরুতর অসুস্থ পরীমণি দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে। ৩ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্টাটাসে নিজের অসুস্থতার কথা জানান।

 

তিনি বলেন, রোগটি এখন মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে বলে আমি অনুভব করছি। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরী।

লকডাউনের পুরোটা কাটিয়েছেন বাসাতেই। মাঝে ‌প্রীতিলতার লুক নিয়ে কিছুদিন কাজ করলেও এখন রয়েছেন বিশ্রামে।

 

 

ভার্টিগো হলো এমন একটি অসুখ বা অনুভূতি, যাতে আপনি বা আপনার চারপাশের পরিবেশ নড়াচড়া করছে বা ঘুরছে বলে মনে হবে। এটি ক্রমশ এতো তীব্র হতে পারে যে, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে চলমান লকডাউনের কারণে, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়াও পরীর জন্য জটিল হয়ে গেল। তবে আগের চিকিৎসাপত্র অনুসরণ করেই ঔষধ সেবন করছেন বলে জানান পরী।

 

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব

 

পরীমণি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, তার বনানীর বাসায় কেউ অভিযানে গিয়েছে। বুধবার বিকেলের দিকে পরিমণির বনানীর লেক ভিউ ১৯/এ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান করছে

 

 

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

অভিযান চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরীমণি তার বাসার বারান্দায় এসে নিচে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের উপরে ওঠার জন্য ডাকতে থাকেন। এ সময় তিনি ভবনের পাঁচতলার বারান্দায় এসে সাংবাদিকদের বলেন, ভাই আপনারা উপরে কেন আসছেন না, আপনারা উপরে আসেন।

 

 

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পরীমণির বাসার নিচে দেখা যায়, র‍্যাব-১ এর একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া, পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িও রয়েছে। বাসার আশপাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। মূল গেটের সামনে কয়েকজন র‍্যাব সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছিলেন র‌্যাবের কয়েকজন নারী সদস্যও।

জানা গেছে, পরীমণির বাসার মূল ফটক বন্ধ করে র‍্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে র‍্যাবের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় প্রাথমিকভাবে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সেখানে দায়িত্বরত এক র‍্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযানটি মূলত পরিচালনা করছে র‍্যাব সদর দফতর, সহযোগিতায় রয়েছেন র‍্যাব-১ এর সদস্যরা।

এর আগে, ফেসবুক লাইভে এসে পরীমণি অভিযোগ করেন, তার বাসায় বিভিন্ন পোশাকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বলছেন। কিন্তু তিনি দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

পরীমণি লাইভে বলেন, ওই ব্যক্তিরা বাসার গেট ভেঙে উপরে এসে বারবার কলিং বেল বাজাচ্ছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশের লোক বলে দাবি করছেন। যদিও তাদের গায়ে বিভিন্ন রঙের পোশাক থাকায় বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।

এই অবস্থায় পরীমণি বনানী থানায় যোগাযোগ করেছেন বলেও লাইভে জানান। সেখান থেকে ফোর্স পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো এসে পৌঁছায়নি লাইভে বলেন পরী।

পরীমণির ভাষ্য, আমি এ কারণেই ভয় পাচ্ছিলাম। এখানে আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি এতো অসুস্থ। তিন দিন ধরে ঠিকমতো উঠতেই পারছি না। এক পর্যায়ে সহকর্মী, সাংবাদিক ও পরিচিতদের দ্রুত তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন আলোচিত এ অভিনেত্রী।

 

 

গত জুন মাসে রাজধানীর একটি ক্লাবে পরীমণিকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান। এরপর তা আমলে নেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত নাসির ইউ আহমেদ গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, পরীমনির বাসায় অভিযানের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের টিমের কোনো সদস্য পরীমনির বাসায় যায়নি।

মৌ ও পিয়াসার দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানিয়েছে র‌্যাব। তাঁর নাম মিশু হাসান। আজ বিকেল সোয়া চারটায় কুর্মিটোলায় র‌্যাবের সদর দপ্তরে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।

পরীমনি

গত রোববার রাতে পিয়াসাকে গুলশানে ও মৌকে মোহাম্মদপুরে তাঁদের নিজ নিজবাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি জানায়, এ সময় দুজনের বাসা থেকে ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এই দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পিয়াসা ও মৌয়ের উদ্ধার করা ভিডিও ক্লিপগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

 

আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়াসা ও মৌ তাঁদের বাসায় নাচ–গানের আসর বসাতেন। লোকজন ডেকে এনে মদ, ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করতেন। তবে পিয়াসা ও মৌয়ের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ায় তাঁদের মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

 

আরও ১০ মডেলের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ

ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লেট নাইট পার্টি করে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করা আরও ১০-১২ জন মডেলের সন্ধান মিলেছে। তারা দু’একটি বিজ্ঞাপন ও ইউটিউবভিত্তিক নাটকে অভিনয় করে নিজেদের সামান্য পরিচিত করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ে নামে। নিজেদের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই সক্রিয়। নিজেদের মধ্যে একটি চক্র গড়ে তুলে এসব মডেলরা ব্ল্যাকমেইলিং করে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা।

সম্প্রতি এই চক্রের দুই সদস্য মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, চক্রের অধিকাংশ সদস্য ঢাকার বাইরের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা মডেল হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে আসেন। ছোট কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর নিজেদের মডেল হিসেবে তেমন প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি । আবার অনেকে ইউটিউবভিত্তিক কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে নিজেদের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে এমন ৮-১০ জন কথিত মডেল একত্রে একটি চক্র গড়ে তোলেন। যার অন্যতম সদস্য ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ।

 

আরও জানা যায়, এ চক্রের সদস্যরা বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজের সুবাদে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে পার্টিতে যেতেন। সেখানে গিয়ে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। ধনীর দুলালদের সঙ্গে সখ্যতার পর অনেক ক্ষেত্রে পার্টির পর তাদের সঙ্গে রাত কাটাতেন। লিপ্ত হতেন অসামাজিক কাজে। কথিত এসব মডেলদের মধ্যে অনেকে লেট নাইট পার্টির দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করতেন।

 

পার্টি শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরে এসব ধারণ করা ভিডিও এসব ধনীর দুলালদের পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করতেন চক্রটির সদস্যরা। এদের মধ্যে অনেকেই নিজদের মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে চক্রটিকে টাকা দিয়ে ভিডিও ডিলিট করাতেন। আর যারা টাকা দিতে রাজি হতেন না তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিত। বাধ্য হয়ে টাকা দিতেন অনেকে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের মোবাইল পরীক্ষা করে এমনই কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিও দিয়েই মূলত ব্ল্যাকমেইল করা হতো।

 

গ্রেপ্তার

 

 

বারে কিংবা পার্টি সেন্টারে এসব মডেলদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই লেট নাইট পার্টি হতো

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের বারে কিংবা পার্টি সেন্টারে এসব মডেলদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই লেট নাইট পার্টি হতো। এসব পার্টিতে সমাজের বিত্তশালী পরিবারের সদস্যরা আসতেন। তারা মদ্যপান ও নাচ-গান করে রাত কাটাতেন।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে নিয়মিত লেট নাইট পার্টিতে যেতেন এমন ১০ ধনীর দুলালকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও তাদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।

মডেল চক্রের বিষয়ে ডিবি দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, এমন একটি চক্র রাজধানীতে সক্রিয় আছে জানতে পেরে তারা বারিধারা থেকে পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌকে গ্রেফতার করেন। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের বিষয়ে অনেক তথ্যই তারা জানতে পেরেছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তারা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

 

 

উল্লেখ্য, গত গত রোববার রাতে রাজধানীর বারিধারায় থেকে পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌকে গ্রেফতার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারের সময় দুজনের কাছ থেকে মাদক ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে গুলশান থানায় পিয়াসার বিরুদ্ধে ও মোহাম্মদপুর থানায় মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। পরে সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত পিয়াসা ও মৌকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

নারী দেহের যে ৫টি অঙ্গ বড় হলে সৌভাগ্যবতী হিসেবে ভাবা হয়

Loading...