পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগার কারণ মিথ্যা!

পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগার কারণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে ঘাট সরানোর সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। আজ রোববার, পদ্মাসেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ফেরির ধাক্কার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। 

রোববার দুপুরে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলামের কাছে তদন্ত কমিটি ওই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা এড়াতে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট কিংবা মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তরের সুপারিশ করেছে। এছাড়া পদ্মাসেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা এড়াতে বেশকিছু সুপারিশ  জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বর্তমান শিমুলিয়াঘাট স্থানান্তর করে কান্দিপাড়ার পুরাতন মাওয়া ফেরিঘাটে ঘাট স্থাপন করা যেতে পারে কিংবা মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটকে সরিয়ে মাঝিকান্দি ফেরিঘাট স্থাপন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমান শিমুলিয়াঘাট কিংবা বাংলাবাজার ঘাট স্থানান্তর করার ফলে পদ্মাসেতুর পিলারে ধাক্কা লাগবে না।  রুট পরিবর্তন হওয়ার ফলে ফেরির পদ্মাসেতুর পিলার ঘেষে যেতে হবে না।

তাছাড়া আরো একটি সুপারিশ হলো, এ নৌপথে দুর্বল, ধীরগতি, চলাচলের অনুপযোগী ফেরি প্রত্যাহার করে দ্রুতগতির ফেরি চালু করা যেতে পারে। পদ্মাসেতুর পিলারের পাইল ক্যাপ অংশে যাতে রাবারের ফেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে  সেই ব্যাপারেও  সুপারিশ জানিয়েছে গঠিত কমিটি। এতে করে অসতর্কতাবশত  বা দুর্ঘটনা জনিত কারণে পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগলেও রাবার সেটি প্রতিহত করতে পারবে। এতে করে পিলারের ক্ষতির সম্ভাবনা  কম থাকবে।

এদিকে, ইলেকট্রিক সিস্টেম ফেইলের কারণে পিলারে ধাক্কা লাগার কারণ মিথ্যা  ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সদস্য এস এম আশিকুজ্জামান জানান, পিলারের ধাক্কা লাগার ঘটনায় শাহ জালাল ফেরির মাস্টার মো. আবদুর রহমান ও সুকানি সাইফুল ইসলাম দায়ী। ইতোমধ্যে তাদের দু’জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সতর্ক ও দক্ষতার অভাবেই এমনটি ঘটেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, পানির স্রোত ও ফেরির গতি উভয় মিলে যে গতি নিয়ে ফেরি চলার কথা ছিল সেসময় সেটি হয়নি। যখন তারা এ গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল সেসময় অনেক দেরি হয়ে যায়। ফেরি সেতুর পিলারের কাছে চলে যায়। ফেরির মাস্টারের উচিত ছিল স্রোতে না এসে অর্থাৎ ১৭ নম্বর পিলারের পথে না এসে আরও আগেই ১২-১৩ নম্বর পিলারের পথ দিয়ে যাওয়া।

 

সম্পাদনা: আরিফুল ইসলাম লিখন।

Loading...