নারীকে বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন!

মানব সমাজে অপরাধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু দিনে দিনে অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ইদানীং মহামারী আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এর কোনো প্রতিকার কাজে আসছে না। নারী নির্যাতন মানবতার এক ভয়ংকর নিগ্রহ। সামাজিক অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদেশে এখন অহরহ ঘটছে নারী ও শিশু ধর্ষণ। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই নারীকে শিশু অপহরণকারী বলে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করেছেন মোস্তাক আহমেদ ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি। পরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার ও মোস্তাক আহমেদ ফয়সাল-(৩০) কে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা নারী বাদী হয়ে রবিবার বিকেলে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

নির্যাতিতা নারী জানান, তার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার হরষপুর গ্রামে। গ্রেফতার ফয়সালের বাড়িও ওই এলাকায়। ফয়সাল বিয়ে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে।

পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোস্তাক আহমেদ ফয়সাল ওই নারীকে মোবাইল ফোনে বলেন,  স্ত্রীর সাথে ফয়সালের ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ওই নারীকে তার বাসায় আসতে হবে। ফোনে ফয়সাল ওই নারীকে আশুগঞ্জ উপজেলার উজানভাটি হোটেলের সামনে আসতে বলেন।

ফয়সালের কথামতো শনিবার বিকেলে ওই নারী উজানভাটি হোটেলের সামনে আসেন। পরে সেখান থেকে ফয়সাল তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাউতলী গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর ফয়সাল ওই নারীর কাছে ২০ টাকা দাবি করেন। পরে ওই নারী তার ভাইয়ের কাছে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা আনেন। বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাওয়ার পর ফয়সাল ওই নারীর কাছে থাকা নগদ ৪ হাজার টাকাও তার মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায়। পরে একটি ননজুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে ওই নারীর স্বাক্ষর রাখে।

এক পর্যায়ে ফয়সাল ও তার শ্যালক ওই নারীকে মারধর করে তার চুল কেটে দেন। পরে গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম ছ্যাঁকা দেয়। পরে শনিবার রাত ১০টার সময় ফয়সাল ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ওই নারীকে শিশু অপহরণকারি বলে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ফয়সালকে গ্রেফতার করে। ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, ফয়সালের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওই নারীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তোভোগী নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি সাজানো নাটক। গ্রেফতার ফয়সাল একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানায় ১১টি মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার বিকেলে ওই নারী বাদী হয়ে অভিযুক্ত ফয়সাল, তার শ্যালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই নারীর কাছ থেকে নেওয়া স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে।

Loading...