বিশেষ সাক্ষাৎকারে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কোভিড-১৯ ত্রাণ কমিটির সদস্য সচিব

দিনাজপুর সদর প্রতিনিধি রায়হান কবির | ১০ আগষ্ট ২০২০

দিনাজপুরে দিন দিন যতই যাচ্ছে ততই করোনাভাইরাস প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, শহরের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আছে যারা স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক গুরুত্ব মেনে চলতে অপরাগতা প্রকাশ করছে কিছু স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে মানুষদেরকে সচেতনতামূলক মাইকিং করে এবং বুঝিয়ে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে এর মধ্যেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে অনেক। দিনাজপুরে আক্রান্ত অনেক আছেই। মৃতদের মধ্যে চিকিৎসক, নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কিছু আলোকিত মুখ আছেন। আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে আছেন সাংবাদিক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অনেক গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিত্ব। এর হাত থেকে মানুষ কবে মুক্তি পাবে জানেন না কেউ। এক অকল্পনীয় ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে দেশে সরকার, প্রশাসন, বিভিন্ন গোষ্ঠী, ব্যক্তি নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ও করছেন। সেই সব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট পরিস্তিতি মোকাবেলায় মানুষকে প্রেরণা ও এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অনেকে।
দিনাজপুর জেলাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। পলিটিক্যাল, নন পলিটিক্যাল নানা উদ্যোগ চলছে এবং কাজ করে যাচ্ছে পরিস্থিতি মোকাবেলায়।

তিনি আরো বলেন, আমি জেলার প্রত্যেকটি আনাচে-কানাচে মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি কিন্তু আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া যে মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে এখন পর্যন্ত সুস্থ রেখেছেন আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মানুষের সাথে মেলামেশা এবং অবস্থান করে থাকি আল্লাহর কাছে এটাই চাওয়া তিনি যেন আমাদের সকলকে সুস্থতা দান করেন এবং করোনা নামক ভাইরাস থেকে হেফাজত করেন।

এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেন ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল। তার পিতা মরহুম আব্দুর রশিদ চৌধুরী দিনাজপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ১৯৬৫ হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। দিনাজপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদকও ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালের ৮মে ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থয় যখন মৃত্যু বরণ করেন সেই সময় তার একটি জীপ গাড়ী ছিল যা তার মৃত্যুর কারণে পড়েই থাকত। ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের সময় পীরগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইকরামুল হক জীপ গাড়িটি তার নির্বাচনী প্রচারের জন্য নিয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঐ গাড়ীটি তাদের দখলে নেয় এবং ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ভিতরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এভাবে মাইকেলের পিতার জীপ গাড়িটি ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বচনী প্রচারে যেমন অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছিল তেমনি মুক্তিযুদ্ধে গাড়িটি পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে পরিণত হয়েছিলেন।

আশির দশকে ছাত্রলীগের মাধম্যে রাজনীতিতে আসেন ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল। ১৯৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, দিনাজপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৬-৯৭ সালে আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিতে যুগ্ম ক্রীড়া সম্পাদক, ২০০৪ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১২ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি এখনো পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। যখন যে দায়িত্বে থাকেন তা বেশ দক্ষতার সাথে পালন করেন। এভাবে তিনি দলের ভিতরে ও বাইরে ব্যক্তিগত ইমেজ বৃদ্ধি করেছেন। কোভিদ-১৯ ত্রাণ কমিটির সদস্য সচিবের নতুন দায়িত্ব পেয়েও চেষ্টা করেছেন যথাযথ দায়িত্ব পালনের। এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর চ্যানেল-৬ এর প্রতিনিধি তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন।

ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল বলেন যে, সব শ্রেণীর লোককেই আমরা ত্রাণ দিয়েছি। এখানে রবিদাস সম্প্রদায়ের একটা বিরাট জনগোষ্ঠী আছে। তাদেরকে ত্রাণ দিয়েছি। দিনাজপুর শহর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০টি করে পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছি। উপজেলা পর্যায়েও দিনাজপুরের প্রায় সব উপজেলাতেই ত্রাণ দিয়েছি। আমাদের ত্রাণ দলিত, শ্রমজীবী, দরিদ্র, রিক্সা চালক, মটর শ্রমিক এবং যাদের প্রয়োজন তাদেরকেই দেয়া হয়েছে। তবে ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করেছিলাম। আমরা কিছু দরিদ্র সাংবাদিককে দলীয় অফিসে এনে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলাম। সাংবাদিকদের কাজের সুবিধার জন্য প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল ভাইয়ের কাছে ৫০টি পিপিই হস্তান্তর করেছিলাম। তখন চেষ্টা করেছি দ্রুততার সাথে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের। রমজান মাসে একদিনেই ৪টি উপজেলা বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুরের ৫টি পয়েন্টে দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ দিয়েছিলাম। যখন যে উপজেলায় গিয়েছি সেখানেই গরিব মানুষদের কে যতটুক পেরেছি ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে।
ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল বলেন, আমার এই রাজনীতি জীবনে আমি মানুষের সেবা এবং ন্যায় পথে চলে মানুষের সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারি। তিনি আরো বলেন আমার বাবা যেমনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে গিয়েছেন তার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে আমি তার ধারাবাহিকতায় তার আদর্শ মেনে রাজনৈতিক জীবনে মানুষকে পাশে নিয়ে জীবনকে অতিবাহিত করতে পারি।

পরিশেষে, তিনি দেশবাসীর ও সমাজের মানুষের কাছে দোয়া চেয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপ সুষ্ঠু এবং সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেই জন্য দোয়া চান।

Loading...