নাইজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন এরদোগান

তুরস্ক ও নাইজেরিয়া নিজেদের সম্পর্ক আরও বাড়াতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

আফ্রিকা সফরে বের হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তার সফর শুরু হয় অ্যাঙ্গোলায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পর তিনি টোগো সফর করেন। এর পরে আসেন নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এ সফরে এরদোগান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি তার প্রাসাদে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে বৈঠকে বসেন দুই নেতা। এর পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তারা।

এরদোগান জানান, তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত গুলেনিস্ট সন্ত্রাসী গ্রুপকে দমনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এফইটিওর অবৈধ তৎপরতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখব।

তুরস্ক নাইজেরিয়ার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসবাদের লড়াইয়ে সমর্থন দিতে পারে তুরস্ক, যোগ করেন এরদোগান।

এরদোগান আরও বলেন, আমরা নাইজেরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করছি, যা সন্ত্রাসী সংগঠন, সশস্ত্র দল ও জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এ সফরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী এমিনি এরদোগান, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগ্লু, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী ফাতিহ ডোনমেজ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী মেহমেত মুস।

২০২০ সালে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে তুরস্কের শীর্ষ বাণিজ্যিক সহযোগী নাইজেরিয়া।  দেশটিতে ২০১৬ সালের মার্চে সফরে গিয়েছিলেন এরদোগান।

সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এ ছাড়া ২১-২২ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় তুরস্ক-আফ্রিকা অর্থনীতি ও বাণিজ্য সম্মেলন এবং ১৭-১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় তুরস্ক-আফ্রিকা পার্টনারশিপ সম্মেলনের আগে এরদোগানের আফ্রিকা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.