Ultimate magazine theme for WordPress.

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অসহায়দের পাশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি): “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশ যখন জনবান্ধব পুলিশিং এ ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশেও প্রাণঘাতি “করোনা ভাইরাস” (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করলে কর্মবঞ্চিত গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষ যখন অন্ন সংস্থানের অভাবে দিশেহারা, ঠিক তখনই বিষয়টি অনুধাবন করে চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে “মানুষ মানুষের জন্য, পুলিশ জনগনের বন্ধু, সেবাই পুলিশের ধর্ম” এই ব্রত সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার তৃণমূল অসহায় গরিব দুঃখীদের মাঝে ২৯.০৩.২০২০ খ্রি. তারিখ হতে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
এই কর্মসূচিতে পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা মহোদয় “খাদ্য যাবে বাড়ী” নামে ১টি ইউনিক পদ্ধতি চালু করেন। যে পদ্ধতিতে খাদ্য সামগ্রী পেতে আগ্রহী প্রার্থীগণ পুলিশ সুপারের, কার্যালয়, চুয়াডাঙ্গার হেল্প ডেস্কে এসে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল এন্ট্রি করে গেলে বা পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গার ফোনে নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার এসএমএস ও ফেসবুকে ইনবক্স করলে রাতের অন্ধকারে তাদের বাড়ীতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও কোন অসহায় ব্যক্তি বা লকডাউনে থাকা পরিবার পুলিশ সুপার’কে ফোন করে জানালে তৎক্ষনাৎ তাদের নিকট খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
অদ্য ০৫.০৫.২০২০ খ্রিঃ পর্যন্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম ইতোমধ্যে কর্মবঞ্চিত গরিব ও দুস্থ ৫১২৬টি পরিবারের মধ্যে ৩ কেজি চাউল, ১ কেজি ডাউল, ১ কেজি আলু, ১/২ লিটার সয়াবিন তৈল, ৫০০ গ্রাম লবন, ১টি লাউ, ১টি মিষ্টি কুমড়া, ১ প্যাকেট নুলডস, ১ প্যাকেট টোষ্ট বিস্কুট, ৫০০ গ্রাম পিয়াজ, ১০০ গ্রাম গুড়া হলুদসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিভিন্ন সময়ে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়াও আরো ৫০০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যহত আছে। এবিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হয়ে তিনি জানান দেশের ও দেশের মানুষের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি কাজটি করে চলেছেন। এ সময় তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল বিত্তবানদের’কে যার যার অবস্থান থেকে গরিব, দুস্থদেরকে সাহায্য করার আহŸান জানান এবং সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেন। পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা এই মহতী কাজের ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল শ্রেনী মানুষের নিকট মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছেন।
এছাড়াও পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা মহোদয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসরত জনসাধারণকে সচেতন করতে ২০ মার্চ/২০২০খ্রিঃ ২য় সপ্তাহ থেকে ১২০০০ লিফলেট বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি সর্ম্পকে জনগণকে সচেতন করতে পুলিশের প্রত্যেক অফিসের সামনে সাইন বোর্ড/ব্যনার প্রদর্শণ, প্রত্যেক থানা এলাকার গ্রামে গ্রামে একাধিকবার মাইকিংসহ গান-বাজনার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে সচেতনামুলক প্রচারণা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা প্রত্যেক অফিসের সামনে বিল বোর্ড আকারে প্রদর্শণ ও হ্যান্ড লিফলেট বিতরণ, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ২বার ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অনান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা, মহামারী দেখা দিলে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, অফিসার ও ফোর্সের মধ্যে মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের ওয়েলফেয়ার নিশ্চিতকরণ, সরকারী নির্দেশনা মেনে যথাযথ লকডাউন সু-নিশ্চিত করণ, লকডাউনকৃত বাড়ীতে লাল পতাকা সংযোজন ও সাধ্যমত খাদ্য সহায়তা প্রদান, এতিমখানার এতিমদের সাথে ইফতারী করণ ও ইফতারীর প্যাকেট প্রদান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ পরিবার ও কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্যদের বাসায় ঈদ উপহার সামগ্রী প্রেরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.