দুর্বল হয়ে পড়েছেন কিম

হঠাৎ করেই অনেক বেশি ওজন কমে গেছে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং-উনের। দেশটির সরকারি টিভি চ্যানেলের ফুটেজে কিমকে অনেকটা দুর্বল দেখা গেছে। ওই ফুটেজে আরও দেখা যায়, কিমকে এত দুর্বল দেখে বেশ কয়েকজন কাঁদছেন ও শোক প্রকাশ করছেন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

কিমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুজব রয়েছে। তবে দেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে কখনোই এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।

কোরিয়া সেন্ট্রাল টেলিভিশনে গত শুক্রবার কিমের দুটি ফুটেজ প্রচারিত হয়েছে। একটি ফুটেজে কিমকে এক অনুষ্ঠানে যেতে দেখা গেছে। ফুটেজে বোঝা গেছে, কিমের ওজন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। প্রচারিত খবরের দ্বিতীয় ফুটেজে দেখা গেছে, পিয়ংইয়ংয়ের এক বাসিন্দা সেন্ট্রাল টিভিকে বলছেন, ‘কিমকে এত দুর্বল দেখে আমরা খুবই শোকাহত।’ কিমকে দেখে সেখানে উপস্থিত সবাই কাঁদতে শুরু করেন। এই মাসে ওয়ার্কার্স পার্টির বৈঠকের ফুটেজ ও ছবিতেও মনে হয়েছে, কিম জং–উন ওজন হারাচ্ছেন।

উত্তর কোরিয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ান কোরিয়া সেন্টারের প্রধান কেওয়াক গিল সিও বলেন, কিম জং–উনের ওজন কমে যাওয়ার খবর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়টি বিস্ময়কর। কারণ, কোরিয়ার সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে কখনোই কিমের কোনো নেতিবাচক খবর প্রকাশিত বা প্রচারিত হয় না। সম্ভবত এর মাধ্যমে কোরিয়া সেন্ট্রাল টেলিভিশন বোঝাতে চেয়েছে, কিম ইচ্ছে করেই ওজন কমিয়েছেন। কিমের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশের জন্যও এমন খবর প্রচার করা হতে পারে।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতায় আসেন কিম জং-উন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর ওজন অনেক বেশি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস ও বাতজনিত রোগের কারণে কিমের ওজন এত বেশি বলে ধারণা করা হয়।

২০১৪ সালে এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো খবর পাওয়া যায়নি কিম জং–উনের। অনেকটা অদৃশ্য হয়ে যান তিনি। সে সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ এমনকি মারা গেছেন বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কিমকে একটি লাঠির সাহায্যে হাঁটতে দেখা যায়। সে সময় বলা হয়, তাঁর গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

Loading...