দুই ছাতারের লড়াই

ঢাকার রাজারবাগ থেকে গ্রিন লাইন বাস ছাড়ল সকাল সাড়ে সাতটায়। গন্তব্য গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি পার হয়ে দুপুরের দিকে ফরিদপুরের নিমতলায় ‘অ্যাবলুস ক্যাফেটেরিয়া’র সামনের আধঘণ্টার যাত্রাবিরতি। ক্যাফেটেরিয়ার বারান্দায় বসে চা পান করতে করতে দেখি ওদিকটায় কিছু যাত্রী কৌতূহলে কিছু একটা দেখছেন। এগিয়ে গেলাম। ক্যাফেটেরিয়ালাগোয়া একটি বড় ডোবার ভেতরে কচুরিপানার ওপরে ধুন্ধুমার লড়াই লেগেছে দুটি ছাতার পাখির। বুঝলাম, লড়াইটা বেশ আগেই লেগেছে। দুটিরই ঘাড়-মাথার কিছু পালক খসে গেছে ইতিমধ্যে, মাথার তালু ও চোখের কিনারে রক্তের ফোঁটা।

এদিক–ওদিক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে চুপ করে বসে আছে আরও চারটি ছাতার ও তিনটি সদ্য উড়তে শেখা বাচ্চা। সবাই নীরবে দেখছে লড়াই। এমনিতে ডাকাডাকি না করে থাকতে পারে না ছাতাররা, কিন্তু এখন একদম চুপ। দেখছে লড়াই। শুধু মাঝেমধ্যে লেজ নাড়ছে।উদ্বিগ্নতা ওদের চোখে। লড়াইরত পাখি দুটি ক্লান্ত-শ্রান্ত ও উদ্‌ভ্রান্ত। চোখ হয়ে গেছে আরও হলুদ, তবুও লড়ছে সমানে। এ কামড়ে ধরছে ওর গলার পালক তো ও ধরছে ঘাড়। এ চাইছে ওর চোখ অন্ধ করে দিতে প্রচণ্ড ঠোকরে তো ও চাইছে বুক ফুটো করে দিতে।

শৈশব-কৈশোরের ফকিরহাটের ‘সাধুর গাছতলা’র মেলায় বুলবুলির লড়াই দেখেছি, দেখেছি বাস্তবেও। দেখেছি কালিম-কোড়া-ডাহুক-জলময়ূরের লড়াই, সেগুলোর কারণ জানলেও ছাতারের মরণপণ লড়াইয়ের কারণ আমার অজানা। আগে উল্লেখিত পাখিগুলোর ক্ষেত্রে লড়াইয়ের ফল ‘মৃত্যু’ হতে আমি দেখিনি। বাড়ি গিয়ে মুন্সীবাড়ির বাগানে যখন হালতি ও রাঙা হালতির বাসা-ডিম ও ছানা দেখছি, তখন একটি হালতির বাসার সামনে আবারও দেখি ছাতারের লড়াই। তবে, লড়াইটা ওরা চালাতে পারেনি বেশিক্ষণ, মাটির ওপরের বাসা থেকে বেরিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হালতিটা যেই না গিয়েছে তেড়ে, অমনি লড়াই বন্ধ। উড়ে গেল দূরে।

সারা দেশে দেখতে পাওয়া ছাতারেরা সাতভাই, সাতভায়লা, প্যাঁচা, ঝগড়াটে প্যাঁচা ও ক্যাঁচা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Jungle Babbler.

Leave A Reply

Your email address will not be published.