তুরস্ক-রশিয়ার যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান হাফতার বাহিনীর

দুই পরাশক্তি দেশের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে সামরিক অভিযান চলিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লিবিয়ার বিদ্রোহী সামরিক কমান্ডার হফতার। এর আগে তুরস্ক ও রাশিয়া তাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

হাফতার মুখপাত্র আল মসমারির এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার দাবি করেন, রাজধানী ত্রিপোলি দখল করে রাখা মিলিশিয়াদের পরাজিত ও সন্ত্রাসী  গোষ্ঠীর বিনাশের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পুনর্জাগরণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হতে পারে।

বর্তমানে লিবিয়ায় জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রিত সরকার চলছে। এই আন্তর্জাতিক সমর্থিত সরকারের কাজ থেকে লিবিয়ার রাজধানী দখলে নিতে গত বছরের এপ্রিল থেকে অভিযান শুরু করেছে হাফতার বাহিনী। জাতিসংঘের হিসেবে অন্তত এক হাজার মানুষ নিহত ও অপর অন্তত ৫ হাজার আহত হয়েছে। গত বুধবার ইস্তানবুলে বৈঠকের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন লিবিয়ার দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। ত্রিপোলির জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এই আহ্বান স্বাগত জনায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার তুরস্ক ও রাশিয়ার যুদ্ধবিরতির আহ্বানের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে হাফতার বাহিনী। বাহিনীর ‍মুখপাত্র আহমেদ আল মাসমারি বলেন, আমরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিরি পুতিনের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে স্বাগত জানাই। তবে ত্রিপোলি দখল করে রাখা সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ …শেষ পর্যন্ত চলবে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের সহিংসতা আর বিভক্তিতে জর্জরিত হয়ে আছে লিবিয়া। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে সক্রিয় রয়েছে দুটি সরকার। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পরিচালিত জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। আর দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পরিচালিত জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন সরকারটিকে সমর্থন দিচ্ছে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সৌদি আরব ও ফ্রান্স।

Loading...