তিন কিশোর হত্যায় ওসিকে তলব…..

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ আগষ্ট ২০২০

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানকে ঢাকায় তলব করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

গতকাল বুধবার কমিশনের এক চিঠিতে এ তলবের কথা জানানো হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরে তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। তথ্যানুসন্ধান কমিটি ঘটনাস্থলে তদন্ত শেষ করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ এর ১৬ (খ) (গ) ধারায় কমিশনের তথ্যানুসন্ধান কমিটির সামনে তথ্য উপাত্ত নিয়ে কমিশনের ঢাকার কার্যালয়ে ওসিকে ২৩ আগস্ট হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নাঈম হোসেন (১৭), রাসেল ওরফে সুজন (১৭) ও পারভেজ হাসান (১৭) নামের তিন কিশোর নিহত হয়। প্রথমে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রের ভেতরে কিশোরদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তারা মারা যায়। তবে পরে শনিবার যশোর জেলা পুলিশ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) গত বৃহস্পতিবার সকালে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কেন্দ্রের প্রধান প্রহরীকে আঘাত করা কিশোরদের পেটাতে হবে অচেতন না হওয়া পর্যন্ত। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একে একে ১৮ কিশোরকে আবাসিক ভবন থেকে ধরে আনা হয়। এরপর তাদের দুই হাত জানালার গ্রিলের মধ্যে আটকে, পা বেঁধে ও মুখে গামছা গুঁজে দিয়ে রড এবং ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে পেটানো হয়। এতে মারা যায় ৩ কিশোর, গুরুতর আহত হয় ১৫ জন। সেদিন দুপুরে তাদের খেতেও দেওয়া হয়নি।

এর আগে ৩ আগস্ট কেন্দ্রের হেড গার্ড (আনসার সদস্য) তাঁর চুল কেটে দিতে বলেছিলেন এক কিশোরকে। ওই কিশোর চুল কেটে না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করলে কয়েক কিশোর মিলে নূর ইসলামকে মারধর করে। এর জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।
৩ আগস্ট এবং ১৩ আগস্ট ঘটনা ঘটার পর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানার জন্যই মানবাধিকার কমিশন ওসিকে তলব করেছে।

আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে ওসি মনিরুজ্জামান একেটিভিকে বলেন,‘ দীর্ঘ সময় মিটিং এ ছিলাম, তাই কোনো চিঠি এসেছে কি না তা জানি না। কমিশন থেকে ডাকলে অবশ্যই যাব।’
৩ আগস্টের ঘটনা সম্পর্কে মনিরুজ্জামান বলেন,‘সেই দিনের ঘটনা ঘটার পর কেন্দ্র থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা অন্য সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে যাই। গার্ডকে কিশোরেরা মেরেছে, তাই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে আসি। আর এ ঘটনায় তো কেন্দ্রেরই আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি বা কিছুই করা হয়নি। এরপর তো ১৩ আগস্টের ঘটনা ঘটে।’

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত কিশোর পারভেজ হাসানের বাবা খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রোকা মিয়া যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) তিন কিশোর হত্যাকাণ্ডে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ নুরুল বাসির একেটিভিকে  বলেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর হত্যাকাণ্ডে কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছি। আজকের কোনো এক সময় মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে। পরে মহাপরিচালক ওই প্রতিবেদন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।’

Loading...