তাঁদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব: পরীমনি

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিজের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরানোর জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে ঢালিউডের আলোচিত তারকা পরীমনিকে। গতকাল সোমবার যৌথভাবে তাঁর ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠিয়েছেন দুই আইনজীবী। যদিও নোটিশটি সোমবার রাত পর্যন্ত হাতে পাননি পরীমনি। তবে গণমাধ্যমে নোটিশের বিস্তারিত তিনি দেখেছেন। নোটিশ হাতে পেলে বেশ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান পরীমনি।

ওই নোটিশে লেখা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত পরীমনির সব ধরনের অশ্লীল ছবি ও ভিডিও অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সব ধরনের অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল, স্থিরচিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণ করা ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই, এসব করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি বলেন, ‘আমার পেজে এমন কোনো ভিডিও নেই যেটা আমাকে সরাতে হবে। কেউ যদি সেটা দেখিয়ে বলতে পারেন, আমি সরাব। ফাইভ স্টার হোটেলে আমি যে অনুষ্ঠান করেছি, সেখানকার কোনো ভিডিও বা স্টিল ছবি আমি ফেসবুক ছেড়েছি? আমার অনুমতি ছাড়া বাইরে থেকে এগুলো ছাড়া হয়েছে। কোথায় কে কোন ভিডিও দেখল, সেই ভিডিও আমার ঘাড়ে চাপাতে পারেন না।’ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ফেসবুক খোলার পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব ভিডিও বা ছবি আপলোড করেছি, সেগুলো সবাই দেখেছেন। আমার ফেসবুকে কোথাও কি কোনো অশ্লীল ছবি আছে? যেসব ছবির ইঙ্গিত করে নোটিশ দিয়ে আমাকে সেগুলো সরাতে বলা হয়েছে, সেসব ছবি আমি আপ করেছি? আমার আপ করা এমন একটি ছবিও কেউ দেখাতে পারবেন? এর আগে হাতে সিগারেটসহ দুটি ছবি আদালত থেকে সরাতে বলা হয়েছিল, এক ঘণ্টার মধ্যে সরিয়েছি।’

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘সবাই আমার পেছনে লাগে কেন রে ভাই? জন্মদিনের অনুষ্ঠানের পর আমাকে অপমান করে যে ভিডিওগুলো বানানো হলো, অনুষ্ঠানের গান বাদ দিয়ে অশ্লীল গান জুড়ে ভিডিওগুলো ভাইরাল করা হয়েছে। এখন খেলা জমে যাবে। আমি উল্টো ওদের নামে অভিযোগ করব। আমার ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে যারা অশ্লীল গান জুড়ে ভাইরাল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের নাম উল্লেখ করে পরীমনি জানান, চ্যানেলটি তাঁর বেশি ক্ষতি করেছে, তাঁকে অপমান করেছে। তিনি বলেন, ‘এমন একটি দায়িত্বশীল চ্যানেল আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের মূল গান বাদ দিয়ে অশ্লীল বাংলা গান জুড়ে ভিডিও প্রকাশ করেছে। কীভাবে করল এটা? তারা কী চায়? অনুষ্ঠানটি ছিল আমার ব্যক্তিগত, চার দেয়ালের মাঝে। আমার অনুমতি ছাড়া কেন আমার অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ করা হলো? এখন যদি আমি তাদের নামে অভিযোগ করি, তাহলে এর বিচার করবে কে? আমি অবশ্যই ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলব।’ যখন এই ভিডিওগুলো ভাইরাল হলো, তখন অভিযোগ করেননি কেন?

নোটিশ পাঠানো দুই আইনজীবীর নামে পাল্টা নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘আমি এখন ওই দুই উকিলের নামে নোটিশ পাঠাব। আমাকে ডিস্টার্ব করেছেন তাঁরা, আমার কাজ হ্যাম্পার করেছেন। আমি এখন তাঁদের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইব। আমার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছেন, যার ক্ষতিপূরণ তাঁদের অবশ্যই দিতে হবে। এই নোটিশের খবর দেখে আমি ট্রমায় চলে গেছি। আগামী দুই মাস তো কাজই করতে পারব না।’

সোমালিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহামেদ হুসেইন রোবেল এবং নৌবাহিনীর কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহামেদ আবদুল্লাহি মোহামেদ। দেশটির নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত শেষ না হবে ততক্ষণ তারা নিজ নিজ পদে ক্ষমতা ফিরে পাবেন না। 

সোমালিয়ার

এদিকে প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপের কারণে হর্ণ অব আফ্রিকা হিসেবে পরিচিত সোমালিয়ার রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

সোমবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক থাকার কথা জানার পরপরই প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি মোহামেদ হুসেইন রোবেলকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করবেন এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি কোনো ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

 

 

জমি দখলের একটি মামলার তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে এসব কথা বলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোহামেদ হুসেইন রোবেলের কার্যালয় এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্টের এমন পদক্ষেপকে ভয়ানক বলে উল্লেখ করেছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামরিকভাবে দখলের এই প্রচেষ্টা আইনের লঙ্ঘন।

 

 

সৌদি আরবের সংগীত উৎসবে একসঙ্গে নাচলেন নারী-পুরুষ

কৌশলগত সমীকরণ বদলে দেবে ইরান

 

 

 

 

 

গ্রাহকের বিনিয়োগের বিপরীতে অধিক লাভ দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার এক বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা এক হাজার গ্রাহকের প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ।

সংস্থাটির নাম রুদ্র ফাউন্ডেশন। গতকাল রোববার ভুক্তভোগী নয়জন গ্রাহক ধুনট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান রুদ্রবাড়িয়া-বিলপথিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বকুল আমিন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রঞ্জু সরকারসহ পরিচালনা পর্ষদের ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক ১১টি মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত বক্তব্যে বকুল আমিন বলেন, উপজেলার রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জু সরকার বগুড়া পল্লি উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) একটি প্রকল্পে কাজ করতেন। সেখানকার প্রকল্প শেষ হওয়ায় তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি তাঁর বাবা মোজাফফর সরকার, স্ত্রী দৃষ্টি আক্তার, ভাই রুহুল আমিনসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। ওই এনজিওর নাম দেওয়া হয় রুদ্র ফাউন্ডেশন।

গ্রাহকের অর্থ জামানতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রঞ্জু সরকাররা এনজিওটির কার্যক্রম শুরু করেন। পরে তাঁরা শেরপুর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শিরিন মহল নামে একটি বাসায় সংস্থার প্রধান কার্যালয় গড়ে তোলেন। সেই কার্যালয় থেকে তাঁরা এলাকার মানুষদের অধিক লাভ দেওয়ার কথা বলে রুদ্র ফাউন্ডেশনের নামে গ্রাহকদের বিনিয়োগ করাতে থাকেন। প্রায় এক হাজার গ্রাহক তাঁদের অর্থ ওই এনজিওতে জমা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা বকুল আমিন ১১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বেসরকারি চাকরিজীবী জাফর ইকবাল ৫ লাখ, নূরনাহার বেগম ২ লাখ, মনির ইসলাম ১৫ লাখ ৭০ হাজার, রোজিনা খাতুন ১ লাখ, মুন ৫ লাখ, কৃষক রফিকুল ইসলাম ১৭ লাখ, আবদুল হামিম ১১ লাখ ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুস সালাম ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা জমা রাখার কথা জানান।

এই নয়জন বিনিয়োগকারী বলেন, তাঁরা জমানো টাকা ফেরত চেয়ে এনজিওর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। নভেম্বর মাস শুরুর আগেই চেয়ারম্যানসহ অন্যরা কার্যালয় বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন। এ ঘটনার পর তাঁরা রঞ্জু সরকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আসামি করে আদালতে পৃথক ১১টি প্রতারণার মামলা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রুদ্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রঞ্জু সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বগুড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণা করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থার চেয়ারম্যান রঞ্জু সরকারসহ অন্যরা পলাতক। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রাজধানীতে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা দূর করতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের অংশ হিসেবে চালু হলো ঢাকা নগর পরিবহন। আজ রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের বিআরটিসি ডিপোতে এক অনুষ্ঠানে এ বাসসেবার উদ্বোধন করা হয়। এ বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটারের রুটে বিআরটিসির বাসের পাশাপাশি সবুজ রঙের বাস নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহন যাত্রা শুরু হলো আজ। উদ্বোধন উপলক্ষে বাসগুলো ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বাসসেবা উদ্বোধনের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম একটি বাসে (ট্রান্সসিলভা) চড়ে যাত্রা শুরু করেন। তাঁরা রাজধানীর শংকর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নেমে যান। এ পথের ভাড়া ১১ টাকা। টিকিট কেটেই বাসে ওঠেন দুই মেয়রসহ কর্মকর্তারা।

২১ কিলোমিটারের এ রুটে ঢাকা নগর পরিবহনের ৫০টি বাস নিয়ে রেশনালাইজেশনের কার্যক্রম শুরু হলো। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বিআরটিসি এবং ট্রান্সসিলভার বাস নিয়ে ঢাকা নগর পরিবহনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
 

 

 

 

 

 

এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের কারণ কী, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকেই আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, লঞ্চের ইঞ্জিনেও ত্রুটি ছিল। তদন্ত দলের সদস্যরা গতকাল শনিবার ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতীরে নোঙর করে রাখা পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শন করেছেন।

তদন্ত দলের প্রধান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘আমরা ইঞ্জিনে কিছু ত্রুটি পেয়েছি।’

এ ছাড়া কাগজে-কলমে লঞ্চটি যে মাস্টারের (চালক) চালানোর কথা ছিল, তিনি চালাচ্ছিলেন না বলেও জানা গেছে। লঞ্চে মাস্টার নিয়োগের বিষয়টি নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হয়।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার মাহবুব রশিদ গত রাতে মুঠোফোনে বলেন, অভিযান-১০ লঞ্চের চারজন মাস্টার ও ড্রাইভারের মধ্যে তিনজনের নিয়োগের বিষয়টি মালিক অধিদপ্তরকে জানাননি। লঞ্চটির সার্ভে সনদে প্রধান মাস্টার হিসেবে যাঁর নাম আছে, তাঁর পরিবর্তে অন্য এক মাস্টার লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন। এটি নিয়মের ব্যত্যয়। লঞ্চমালিক মাস্টার ও ড্রাইভার পাল্টাতে পারেন। তবে সেটি করতে হবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে জানিয়ে।

* লঞ্চটি যে মাস্টারের চালানোর কথা ছিল, তাঁর পরিবর্তে চালাচ্ছিলেন আরেকজন। * লঞ্চটি ছাড়ার আগে বিআইডব্লিউটিএ যে ‘চেক লিস্ট’ করেছিল, তাতে উল্লেখ ছিল: লঞ্চে কোনো ত্রুটি নেই। * নৌ আদালতে মামলা হয়নি, ঝালকাঠিতে অপমৃত্যুর মামলা।

এদিকে তদন্ত দল জানতে পেরেছে, আগুন লাগার সময় লঞ্চটির প্রধান দরজা বন্ধ ছিল। যে কারণে জ্বলন্ত অবস্থায় লঞ্চটি নদীতীরের কাছে নোঙর করলেও যাত্রীরা প্রধান দরজা থেকে বের হতে পারছিলেন না। যে যেভাবে পেরেছেন, জানালা দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৩৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৮৫ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ জন।

অগ্নিনির্বাপণ সম্পর্কে জানেন না লঞ্চকর্মীরা

আগুন লাগলে তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে লঞ্চের কর্মীদের প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র থাকলেও তা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটিও জানেন না লঞ্চের কর্মীরা। ফলে চলন্ত অবস্থায় লঞ্চে আগুন লাগলে হয় পানিতে ঝাঁপ দিতে হবে, নয়তো উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকার সদরঘাট স্টেশনের কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, লঞ্চের কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণযন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা নেই। এমনকি লঞ্চ ডুবে গেলে যাত্রীরা কীভাবে জীবন রক্ষাকারী বয়া (পানিতে ভেসে থাকার সরঞ্জাম) ব্যবহার করবেন, সে সম্পর্কেও তাঁরা ভালোভাবে জানেন না। আর বেশির ভাগ লঞ্চের মধ্যে বয়া এত শক্ত করে বাঁধা থাকে যে এগুলো প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার মতো অবস্থা থাকে না।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদরঘাট থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে ২২১টির মতো যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের অনুমতি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮৫টি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছাড়ে।

সদরঘাট টার্মিনালে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারীদের জন্য অগ্নিমহড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আর মালিকেরা আবেদন না করলে লঞ্চের কর্মীদের জন্য অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা মহড়ার ব্যবস্থা ফায়ার সার্ভিস করে না। গত দুই বছরের মধ্যে শুধু ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলা এমভি মানামী লঞ্চে একবার অগ্নিমহড়া করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়।

নৌ অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব ঢাকার শ্যামপুরের বিআইডব্লিউটিএর ঘাটে অবস্থিত ‘রিভার ফায়ার স্টেশন’–এর। বিশেষ এ ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মালেক মোল্লা বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে জন্য তাঁরা সচেতনতামূলক প্রচার চালালেও কোনো মহড়া বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন না।

অভিযান লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের সঙ্গেই ছিল রান্নাঘর। নিয়ম না মেনে সেখানে রান্নাঘর স্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সুন্দরবন-১১ লঞ্চের চালক আবদুস সালাম মৃধা বলেন, বড় লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে রান্নাঘরের দূরত্ব বেশি থাকলেও ছোট আকৃতির লঞ্চগুলোতে রান্নাঘর একদম লাগানো থাকে। রান্নার কাজে ব্যবহার করা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর সূত্র বলছে, অভিযান–১০ লঞ্চের মালিক অনুমতি না নিয়ে লঞ্চের ইঞ্জিন বদলেছেন। আগে এ লঞ্চে ৫৫০ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন থাকলেও তা পাল্টে ৭২০ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। নতুন ইঞ্জিন লাগানোর পর লঞ্চটির দ্বিতীয় যাত্রা শুক্রবার। এটিকে ‘ট্রায়াল ট্রিপ’ (পরীক্ষামূলক যাত্রা) বলা যায়।

তবে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাট টার্মিনাল ছাড়ার আগে বিআইডব্লিউটিএ যে ‘চেক লিস্ট’ তৈরি করেছিল তাতে বলা হয়েছিল, লঞ্চে কোনো ত্রুটি নেই। চেক লিস্ট অনুযায়ী, লঞ্চের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৫০ জন, যা রাতে ৪২০ জন। তবে লঞ্চ ছাড়ার আগে যাত্রীসংখ্যা ৩১০ জন উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যাত্রী ছিল অনেক বেশি। লঞ্চে ১২৫টি বয়া এবং ২০টি অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র থাকার কথা। তবে আগুন লাগার পর অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

নৌ–আদালতে মামলা হয়নি, ঝালকাঠিতে অপমৃত্যুর মামলা

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলাটি হয়েছে।

আইন অনুযায়ী নৌদুর্ঘটনাবিষয়ক সব মামলা নৌ আদালতে দায়ের হতে হবে। নৌ আদালতে মামলার বাদী হবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক। গত রাত ১০টা পর্যন্ত নৌ আদালতে কোনো মামলা হয়নি বলে জানান নৌ আদালতের প্রসিকিউটিং অফিসার মুন্সী মো. বেল্লাল হোসাইন।

গতকাল ঝালকাঠিতে গিয়ে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শন করেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ ছড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন ওরফে বিটিভি। ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান টেলিভিশন নামে এর সম্প্রচার শুরু হয়। আজ সেই পথচলার ৫৮ বছর পূর্ণ হলো। শুরুতে ছিলো পিটিভি নামে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) নামকরণ করা হয়। ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভির রঙ্গিন সম্প্রচার শুরু হয়।

 

বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের যুগে খেলা বা ইত্যাদির মতো বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া বিটিভি মুখী খুব একটা হতে চান না দর্শকরা। অথচ রঙ্গিন সম্প্রচারের থেকে প্রায় ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়টাকে ধরা হয় বিটিভির সোনালী সময় হিসেবে।

 

একটা সময় ছিলো যখন মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর বিনোদনের মূল উপাদান ছিলো বিটিভি। বিশেষ করে সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে আরাম করে টিভি দেখার চেয়ে আনন্দের আর কিছুতে ছিলো না। আজও সেই মধুর শৈশব হয়তো অনেককেই হাতছানি দিয়ে যায়।

 

 

মনে করে দেখুন তো আপনার কৈশোরে হাজারো শৃঙ্খলার বন্ধনের বাহিরে গিয়েও পাশের বাড়ির টেলিভিশনটির দিকে চোখ রাখতেন কিনা? অতীতের সেই মুহুর্তগুলো স্যাটেলাইটের হাজারো বিনোদনের মাঝে আজ শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে। ৯০’র দশকে কি এমন ছিলো যা বিটিভি দেখতে বাধ্য হতো সবাই। চোখ রাখা যাক সেই তালিকায়-

 

বাংলা চলচ্চিত্র
সবাই আঙুলের কড়ে গুনে কাটাতেন ছয়টি দিন- কবে হবে শুক্রবার। ওইদিন যে বিটিভিতে প্রচার হবে বাংলা চলচ্চিত্র। তখন প্রতি শুক্রবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে প্রচার হতো বাংলা চলচ্চিত্র। সেই সময়ে দুপুরের খাবার শেষে সবাই জট পাকিয়ে বসতেন হোম থিয়েটারের পরিবেশে। একটা সময় শনিবার বিকেলেও প্রচার হতো সিনেমা।

 

ছায়াছন্দ
বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিলো ছায়াছন্দ। বাংলা ছবির গান নিয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠানে প্রচার হতো নতুন পুরোনো ছবির গান।

 

 

বিটিভি

ইত্যাদি

 

হানিফ সংকেতের পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি ছিলো বিটিভির সফল একটি আয়োজন। কৌতুকের আড়ালে বৈচিত্রময় শিক্ষামূলক নাটিকা, গান, তারকাদের উপস্থিতি আর হানিফ সংকেতের প্রাণবন্ত উপস্থাপনাই ছিলো অনুষ্ঠানটির প্রাণ। এই ইত্যাতি বহু তারকার আবিষ্কারক। এমনকি আজকের জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের উত্থানও বলা চলে ইত্যাদি দিয়ে। ফোঁক গানের গায়ক পথিক নবীও এই অনুষ্ঠানে গেয়েই পরিচিতি পেয়েছিলেন। সময়ের স্রোতে সেই জনপ্রিয়তা আর না থাকলেও এখনও অনেকেই সময় হলে বিটিভিতে ঢুঁ মারেন ইত্যাদির খবর শুনলে।

 

 

নাটক এবং হুমায়ূন আহমেদের নাটক

বাংলা টিভি নাটকের বিকাশ ও প্রসারে বিটিভির ইতিহাস উজ্জ্বল। বহু খন্ড ও ধারাবাহিক নাটক বিটিভির মাধ্যমে উপহার পেয়েছে জাতি যা বিনোদনের পাশাপাশি নানারকম বিকাশ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বলা যায় এ দেশে অভিনয়ের আঙিনা বিস্তৃত হয়েছেই বিটিভির কল্যাণেই। জন্ম নিয়েছে অসংখ্য প্রতিভাধর ও কিংবদন্তি শিল্পী-নির্মাতা।

বিটিভি

আর বিটিভির নাটক নিয়ে কথা বলতে গেলে সবার আগে চলে আসে প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নাম। তার অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ছিলো বিটিভির জনপ্রিয়তার বিরাট উপাদান। বিশেষ করে অয়োময়, এইসব দিনরাত্রি, নক্ষত্রের রাত, বহুব্রিহী, সবুজ ছায়া ধারাবাহিক নাটকগুলো দেশব্যাপি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো। আর কোথাও কেউ নেই নাটকে বাকের ভাই চরিত্র দিয়ে সারা দেশে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই নাটকে নির্দোষ বাকের ভাইয়ের ফাঁসি মেনে নিতে পারেননি দর্শকেরা। তাই নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ যাতে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি না দেন সেজন্য মিছিল করেছিলো দেশের মানুষ। সে এক যুগান্তকারী ইতিহাস। যার সঙ্গে চিরকাল মিশে থাকবে হুমায়ূন আহমেদ, বাকের ভাই চরিত্রের অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর ও বিটিভির নাম।

 

 

আলিফ লায়লা

বিটিভি

 

নব্বই দশকের বিটিভির অনুষ্ঠানের সূচি করতে গেলে আলিফ লায়লার নাম রাখতে হবে সমীহ করেই। আরব্য রজনীর কাহিনী নিয়ে নির্মিত ভারতীয় এই টিভি সিরিজটি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলো বাংলাদেশে। আজও হয়তো কেউ কেউ হয়তো আলিফ লায়লার চরিত্রগুলোর কথা চিন্তা করে হেসে ফেলেন, উপভোগ করেন নানা সংলাপ। আলিফ লায়লা শিরোনামে গানটিও ছিলো দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়।

 

 

সিন্দাবাদ
আরব্য রজনীর আরেক জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ছিলো সিন্দাবাদ। সাগরের গুপ্তধন আর জলদস্যুদের কল্পকাহিনী নিয়ে নির্মিত সিরিজটি সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রচার করা হতো টিভিতে।

 

 

এক্স-ফাইলস
এক্স-ফাইলের মতো জনপ্রিয় বিদেশি টিভি সিরিয়ালগুলোর বাংলা ভাষায় ডাবিং করে সম্প্রচার করা হতো। অনেকেই শখের বশে এক্স ফাইলস এর বিখ্যাত উক্তি `দ্য ট্রুথ ইজ আউট দেয়ার` লাইনটি বন্ধুদের আড্ডা বা গল্পের সময় বলে থাকতেন।

 

ম্যাকগাইভার
বাংলাদেশে এক সময় একটি অস্ত্রের নামই ছিলো `ম্যাকগাইভার চাকু`। যা মূলত সুইস আর্মির ব্যবহৃত চাকু হিসেবেই দেখানো হয়েছিলো জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ম্যাকগাইভার। নব্বই এর দশকের এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে কিনা ম্যাকগাইভার দেখেনি। তাহলে বুঝুন কেমন জনপ্রিয় ছিলো এটি।

 

রোবোকোপ
অর্ধেক মানব আর অর্ধেক ম্যাশিন। আর এই অদ্ভুদ মানবের নামই ছিলো রোবোকোপ। বাংলাদেশের অনেকেই ১৯৮৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত রোবোকোপ ছবিটি দেখেন নি। তাদের কাছে তখন টিভি সিরিয়াল হিসেবে পরিচিত এই রোবোকোপ সিরিজটিই ছিলো একমাত্র আনন্দের উৎস।

 

রবিন হুড
নব্বই এর দশকের তরুনীগন রবিন হুডের স্বপ্নে বিভোর থাকতেন। আর তরুণদের মাঝে ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি রাখার রীতির প্রচলন শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে বিটিভিতে প্রচারিত হওয়া জনপ্রিয় টিভি সিরিজগুলোর একটা ছিলো রবিনহুড।

 

হারকিউলিস
আলিফ লায়লার পর হারকিউলিস ছিলো সমান জনপ্রিয় বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে। হারকিউলিসের অতিমানবীয় কাজ কর্ম মুগ্ধ হয়ে দেখতো বাংলাদেশি দর্শকরা। রূপকথা আর একশনের মিশ্রনে অসাধারণ এক টিভি সিরিয়াল ছিলো হারকিউলিস।

 

আসছে বাজরাঙ্গি ভাইজান ২

বড়দিনের কনসার্টে পিয়ানো বাজিয়ে অবাক করলেন কেট

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.