বাংলাদেশে উৎপাদিত টিকা অন্য দেশেও দেয়ার সক্ষমতা আছেঃ প্রধানমন্ত্রী

টিকা উৎপাদন করে অন্য দেশকে দেওয়ার সক্ষমতাও আছে বাংলাদেশেরঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদন করে অন্য দেশকে দেওয়ার সক্ষমতাও বাংলাদেশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে চাই। ভ্যাকসিন তৈরির যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো আপনাদের (উন্নত দেশগুলোকে) সরিয়ে দিতে হবে, উন্মুক্ত করতে হবে। এটা জনগণের প্রাপ্য, তাদের সম্পদ হিসেবেই দিতে হবে, সারা বিশ্বের কোনও মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে দূরে থাকতে না পারে। আমাদের সুযোগ দিলে আমরা উৎপাদন করবো। আমরা বিশ্ববাসীকেও দিতে পারবো।

 

 

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ শীর্ষক পুরস্কার প্রবর্তন করায় সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাতে ওই প্রস্তাব আনা হয়। প্রস্তাবের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, টিকা উৎপাদনের ল্যাব তৈরির জন্য জমিও নিয়ে রেখেছি, এভাবে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের যে সাফল্য, তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, আমি এটাও বলে এসেছে।

বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তন করায় ইউনেস্কোকে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি। এই সময় জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির পিতার নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের ও জনগণের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দেশকে এগিয়ে যাচ্ছি, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন মর্যাদা ও সম্মানের স্থানে উঠে এসেছে।

আলোচনায় স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে জাতির পিতার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে বিধ্বস্থ একটি দেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বলোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। এতো অল্প সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বীকৃতি আদায়ের ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের কাজ শুরু করলেন তখনই তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে নয়, পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয় যাতে বাংলাদেশ কখনো বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, বাঙালি জাতির বিজয় যেন ব্যর্থে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চলেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী ক্যু-পাল্টা ক্যু, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এর পর আমরা কী দেখেছি? ১৯টা ক্যু হয়েছে। হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিক, বিমান বাহিনীর অফিসার ও সৈনিক এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছে, নির্যাতন চলেছে। গুলি-অস্ত্র, দুর্নীতি- এটাই ছিল জননীতি। এর বাইরে একটা দেশকে যে উন্নত করা যায়, সেদিকে কোনো আন্তরিকতাই আমরা দেখিনি। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে একটি দেশের যে উন্নয়ন করা যায়, আমরা তা প্রমাণ করেছি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশে আসার পর কী দেখেছি? বিজ্ঞান পড়েই না মানুষ। এই অবস্থা! বিজ্ঞানের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। গবেষণাতো ছিলই না। কোনো বিশেষ বরাদ্দও ছিল না। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ শুরু করি। সারাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলি যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী হয়।’

 

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কম্পিউটারের ওপর সব ধরণের ট্যাক্স উঠিয়ে দেই, যাতে সবাই এটা শিখতে পারে। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল, প্রযুক্তি। এখন আমরা পিছিয়ে নেই। দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরা বারবার আমাকে ভোট দিয়েছে। সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এক দশকের  ভেতরে বাংলাদেশের পরিবর্তন, সারাবিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে।

 

সংসদ নেতা বলেন, ভালো কাজ অনেকের চোখে পড়ে না। ভালো কাজটা চোখে না দেখলে আমাদের কিছু বলার  নেই। আমাদের যে সিআরআই আমরা তৈরি করেছি। সেন্টার ফর রিসার্চ এ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), এটা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটা ২০০১ সালে অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে খালেদা জিয়ার সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা পুনরায় চালু করি। তিনি বলেন, এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ইয়াংবাংলা নামে একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুব সমাজকে উৎসাহিত করা। তাদেরকে স্টার্টআপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। তাদেরকে এটাও বলা হয়, শুধু চাকরির পেছনে ঘুরবে কেন, চাকরি দেবার যোগ্যতা অর্জন করবে। নিজের পায়ে দাঁড়াবে। নিজের ব্যবসা করবে, নিজেরা অন্যকে চাকরি দেবে। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আমাদের সরকারের আমলে।
প্রধানমন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘আপনি (স্পিকার) জানেন যে, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানার (বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা) ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ আমাদের কিছু তরুণ সংসদ সদস্য সকলে মিলেই কিন্তু ইয়াবাংলা স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়েছে। এই প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি। ছেলেমেয়েরা যদি কেউ উদ্যোগ নিতে চায়, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। অনলাইনে কেনাবেচা, ই-কমার্স, ই-টেন্ডার চালু হয়েছে। আগামীতে আরো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর মেমোরি অব ওয়াল্ডের প্রামান্য দলিলে অন্তর্ভূক্ত করায় জাতিসংঘের অবদানকে স্মরণ করেন এবং জাতির পিতার নামে এই পুরস্কার প্রবর্তনে জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো এবং তাদের সহযোগি বিভিন্ন সংগঠন, দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.