রোমাঞ্চ শেষে নাটকীয় জয় পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দল হিসেবে আজ ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। মাইলফলক ছোঁয়ার সে ম্যাচ অসাধারণ এক জয় দিয়েই রাঙালেন তাঁরা। ইংল্যান্ডকে ৩ রানে হারিয়ে ৭ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা ফেরাল বাবর আজমের দল।

জয়টাও এসেছে কী দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে। অবশ্য পাকিস্তানের তো এভাবেই জেতার অভ্যাস।

১৬৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। অন্যদিকে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৩ উইকেট। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম বল তুলে দেন মোহাম্মদ হাসনাইনের হাতে। কিন্তু হাসনাইনের করা প্রথম ৪ বলেই ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় পাকিস্তান। ১ ছক্কা ও ৩ চারে, প্রথম ৪ বলেই ১৮ রান তুলে নেন লিয়াম ডসন।

 

কিন্তু দলটার নাম যে পাকিস্তান! শেষ ২ ওভারে এই পাকিস্তান ফিরে এসেছে অবিশ্বাস্যভাবে। হারিস রউফের করা ১৯তম ওভারই পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরায়। ওই ওভারে রউফ দেন মাত্র ৫ রান, ফেরান পাকিস্তানের গলার কাটা ডসনকে। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪ রান, তবে মোহাম্মদের ওয়াসিমের করা শেষ ওভারে রিস টপলি রান আউট হলে ৩ রানের জয় পান বাবররা।

রোমাঞ্চ শেষে নাটকীয় জয় পাকিস্তানের

করাচিতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন রিজওয়ান। লিয়াম ডসনের বলে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে যার শুরু। পাকিস্তানের ইনিংসের প্রথম ৫টি বাউন্ডারির ৫টিই আসে রিজওয়ানের ব্যাট থেকে। অন্যদিকে বাবর খেলতে থাকেন রয়ে-সয়ে। রান তোলার গতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া এই জুটি এদিন পাওয়ারপ্লেতে তোলেন ৫২ রান।

৫০ রানের জুটি গড়ে ওপেনিং জুটিতে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের সর্বোচ্চ অর্ধশত রানের (১৪) জুটির রেকর্ডে ভাগ বসান বাবর-রিজওয়ান। যদিও রোহিত-রাহুলের চেয়ে পাঁচ ইনিংস বেশি খেলতে হয়েছে বাবর-রিজওয়ানকে। ১৪টি অর্ধশতক রানের জুটি গড়তে তাঁদের ৩৮টি ইনিংস খেলতে হয়। সেখানে রোহিত-রাহুলের লেগেছে ৩৮ ইনিংস।

রোমাঞ্চ শেষে নাটকীয় জয় পাকিস্তানের

২৮ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ৯৭ রানের সময় ফিরে যান বাবর। তারপর শান মাসুদের সঙ্গে ৪০ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন রিজওয়ান। রিজওয়ান শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৬৭ বলে ৮৮ রান করে। পাকিস্তান তোলে ৪ উইকেটে ১৬৬ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে রিস টপলি নেন ৩৭ রানে ২ উইকেট।

রোমাঞ্চ শেষে নাটকীয় জয় পাকিস্তানের

মঈন আলীকেই দেখে কিনা, বাবরও ইনিংসের প্রথম ওভার তুলে দেন মোহাম্মদ নওয়াজের হাতে। লিয়াম ডসন সফল না হলেও সফল হন নওয়াজ। পিটার সল্ট প্রথম তিন বলে দুই বাউন্ডারি মেরে দারুণ শুরু করলেও চতুর্থ বলে মিড উইকেটে মোহাম্মদ ওয়াসিমের কাছে ধরা পড়েন। পরবর্তী ওভারের শুরুটাও হয় বাউন্ডারি দিয়ে। তবে শর্ট মিড উইকেটে উসমান কাদিরের দারুণ ক্যাচে পরের বলেই ফিরতে হয় অ্যালেক্স হেলসকে। হাসনাইনের সে ওভারেই ০ রানে ফেরেন চলতি সিরিজে অভিষিক্ত উইল জ্যাকস।

 

১৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুক ৪৩ রানের জুটি গড়েন। তবে প্রথম ওভারে পাকিস্তানকে উইকেট এনে দেওয়া নওয়াজ সে জুটি ভাঙেন। অধিনায়ক মঈন ও ব্রুকের ৪৯ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখে। তবে আবারও সে জুটি ভেঙে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান নওয়াজ। ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অলআউট হয় ১৬৩ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় ইংল্যান্ডের

বিপিএলের মালিকানা পাচ্ছে যারা

Leave A Reply

Your email address will not be published.