Ultimate magazine theme for WordPress.

​আতঙ্ক ছাড়াচ্ছে ‘করোনা ভাইরাস’, কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

করোনা ভাইরাস, এই মুহূর্তে বিশ্বে অন্যতম আতঙ্কের নাম। মরণব্যাধি ভাইরাসটি চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত চীনে। সেখানে মারা গেছে অর্ধশতকের বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে কয়েক হাজার।

সময়ে সঙ্গে সঙ্গেও বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। চীনের সঙ্গে সরাসরি বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে। ব্যবসা-শিক্ষাসহ নানা কারণে প্রতিদিন অনেক মানুষ বাংলাদেশ-চীনে যাওয়া-আসা করছে। ফলে করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে বাংলাদেশও। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

ইতোমধ্যে জ্বর ও কাশি নিয়ে করোনা ভাইরাস সন্দেহে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে একজন চীনা নাগরিক। তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবুও প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গে ‘করোনা ভাইরাস’ রোগী ধরা পড়ায় বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। ভৌগলিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চীনের  ‘করোনা ভাইরাসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশও। প্রশ্ন উঠেছে, ‘করোনা ভাইরাস’ ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই করোনা ভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি) দ্রুত ছড়ায়। আর ঢাকাও জনবহুল বা ওভার পপুলেটেড সিটি। এ ধরনের শহরে কোনও ভাইরাল ডিজিজ এলে খুব সহজেই সেটা একজনের মাধ্যমে অন্যজনে ছড়ায়। আর নতুন এই ‘করোনা ভাইরাস’ অন্যান্য ভাইরাসের মতো নয়। এটির ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমও একাধিক (সোর্স)। এ জন্য আরও বেশি সতর্কতা দরকার।

যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ভাইরাস ঠেকাতে প্রস্তুতি নিয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরসহ দেশের সব বন্দরে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। চীন থেকে গত ৭ দিনে আগত প্রায় দুই হাজারের বেশি যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও নতুন এ ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ভাইরাসটি প্রতিরোধের জন্য এ সংক্রান্ত প্রচার কার্যক্রমও নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে নির্দিষ্ট রেখে সেখানে ওয়ার্ডও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগ প্রতিরোধী পোশাক মজুদ রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আইইডিসিআর দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জন, আট বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ও সকল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক জানিয়ে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়।

চীনের সঙ্গে যেহেতু সরাসরি বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে। ব্যবসা-শিক্ষাসহ নানা কারণে প্রতিদিন অনেক মানুষ বাংলাদেশ-চীনে যাওয়া-আসা করছে। ফলে বাংলাদেশে আক্রান্তের কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেহেতু চীনের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ফলে সেখান থেকে করোনা ভাইরাস আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত সভা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হবে। ফলে করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান আইইডিসিআর পরিচালক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.