Ultimate magazine theme for WordPress.

৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি, দম্পতি গ্রেফতার

ভুয়া ২১টি সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে দুইটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ৭ জানুয়ারি সঞ্চয়পত্র জালিত চক্রের সদস্য সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি। গ্রেফতার দম্পতিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- এইচ এম এ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ এবং তার স্ত্রী মরশিদা আফরীন।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি সদর দফতরে সংস্থার ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্র নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে একটি প্রতারক চক্র এর বিপরীতে এবি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করে। এই ঘটনার সঙ্গে এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার তৎকালিন ম্যানেজার জড়িত ছিল। এই দম্পতি ওই চক্রের সদস্য। তারা জালিয়াতি করে ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। তাদের ব্যাংক হিসাবে জালিয়াতি করে উপার্জিত দুই কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছি। এছাড়াও তাদের নামে গুলশান-২ এ প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যে একটি ৯ তলা বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির তথ্য পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, ২০০৪ সালে জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এবি ব্যাংক মামলা করে। ওই মামলায় তার সাজাও হয়েছে। তখন থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে পালিয়ে ছিল মোস্তাক হাওলাদার। ১৬ বছর ধরে পলাতক মোস্তাককে খুঁজছিল পুলিশ। ২০১১ সালে গোপনে দেশে এসে আবার জালিয়াতি শুরু করে। ওই মামলায় এবি ব্যাংকের ধানমন্ডি ব্রাঞ্চের তৎকালীন ম্যানেজার আসিরুল হক গ্রেফতার হয়। এ ঘটনায় ২০০৬ সালে সে তিনমাস কারাভোগ করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর হৃদরোগে মারা যায়। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের আর কোনও কর্মকর্তা জড়িত আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি।

ব্যাংক থেকে ভুয়া সঞ্চয়পত্র দিয়ে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনায় দুদক ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় সাতটি মামলা করে। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে।

সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির মূলহোতা একজন শিল্পপতি। তার ঢাকা স্টক একচেঞ্জে ব্যবসা ছিল। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই শিল্পপতির নাম গোপন রেখেছে সিআইডি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে তারা। ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাৎ করে সে ব্যবসা করে শিল্পপতি হয়েছে। তার পরিচয় পেয়েছে সিআইডি। শিগগির তাকেও গ্রেফতার করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.