Ultimate magazine theme for WordPress.

শাটলে বসা নিয়ে চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারি

শাটল ট্রেনের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। বিবাদমান গ্রুপ দুইটি হলো সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ‘সিক্সটি নাইন’ ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ‘বিজয়’ গ্রুপ। এর মধ্যে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ও বিজয় গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

রবিবার (০৪ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে নগরগামী সাড়ে ৫ টার ট্রেনে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে দুই গ্রুপের বেশ কয়েকজন কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নগরগামী বিকাল সাড়ে ৫টার ট্রেনের একটি বগিতে তিনজনের সিটে বসে ছিলেন সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এমদাদুল হক। বিজয় গ্রুপের কর্মী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের বখতিয়ার হোসেন ফাঁকা একটি আসনের বসতে চাইলে এমদাদ বাধা দেয়। পরে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বখতিয়ারকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার রেশে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের দেলোয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে মারধর করে বিজয়ের কর্মীরা। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতাকর্মীদের শাহজালাল হলে এবং বিজয়ের নেতাকর্মীদের সোহরাওয়ার্দী হলে পাঠিয়ে দেয়। 

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘আমাদের এক জুনিয়রকে মারধর করার রেশে শোকের মাসে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি। বিকালে এমন ঘটনা ঘটলেও রাত পর্যন্ত সমাধানের জন্য সাধারণ সম্পাদক টিপু বা তার কোন প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাই জুনিয়ররা আমাদের না জানিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে ঘটেছে।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘জুনিয়রদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। ক্যাম্পাসে নওফেল ভাইয়ের গ্রুপের দায়িত্বে আছেন আমার সভাপতি। তাই তার সঙ্গে কথা বলেছি। সমাধান হয়ে যাবে বিষয়টি। এর বাইরে কেউ ছাত্রলীগের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে নাই। সভাপতি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে যোগাযোগ করিনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রিফাত রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখতে কোন রুপ বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। সংঘর্ষে সম্পৃক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি এর মদদদাতাকেও খুঁজে বের করা হবে।

হাটহাজারি মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা খবর পেয়ে এসে অবস্থান নিই। কোন সংঘর্ষ হয়নি। উভয়পক্ষ আমাদের উপস্থিতিতে নিজ নিজ হলে চলে যায়। পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.