Ultimate magazine theme for WordPress.

‘মন্ত্রী-এমপি, ডিসি-এসপি সব আমার নিয়ন্ত্রণে চলে’

গাইবান্ধা- ‘গাইবান্ধা ডিস্ট্রিকের ডিবি (পুলিশ) কন, ওসি কন, এসপি কন, ডিসিসহ যতো কিছুই কন সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে। ৭ উপজেলায় এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান যতো কিছুই থাক না কেন, আমার চেয়ে বড় মাইকেল কেউ নেই। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম কোনো এমপি, মন্ত্রী যদি আমার সঙ্গে টিকে থাকতে পারে তাহলে সংস্থা থেকে পদত্যাগ করবো।’

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে এক কর্মী সমাবেশে এভাবেই বক্তব্য রাখছিলেন স্থানীয় আশার আলো প্রভাতি সংস্থার চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু।

কর্মী সমাবেশে তিনি বলেন, আমার এক লাখ সদস্য। আমি তাদের একবার করে চাল দিতে গেলে দেড় কোটি টাকা লাগে। আমার মতো ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ছেলে জন্ম নিলে দেশে এমপি মন্ত্রী বা সরকার লাগতো না। এই ৬৪ জন দিয়েই দেশ চালানো যাবে। আমাকে ধরতে গেলে ডেপুটি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে ধরতে হবে। আর ডেপুটি স্পিকার ফুলছড়ি থানার এমপি। মাথার মধ্যে কথা মনে রাখবেন, গোটা গাইবান্ধা ডিস্ট্রিক পরিচালনা করার মতো ক্ষমতা সরকার আমাকে দিয়েছে।’

শফিকুল ইসলাম সাজু বলেন, সরকার শিক্ষা ভাতা ৬ মাসে দেয় ৩০০ টাকা, আমি দেই ৯০০ টাকা। কম দিচ্ছি নাকি? সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করা লাগলেও আমি করব, তবুও জনসেবা করবো। কোথাও কেউ আমার কোনো কর্মীর কাজের প্রতিবাদ করলে তোমরা আমাকে অবগত করবা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের তুলে আনবো। অন্যথায় ক্ষমতা ছাড়ব।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রভাতি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের আসলাম প্রধান, আবদুল মতিন, সংস্থার বাদিয়াখালি শাখা ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, জুমারবাড়ি শাখার ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও এরিয়া ম্যানেজার মাহতাব।

জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঘুড়িদহ গ্রামে। তিনি গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকারের ছোট ভাই। ২০১৭ সালে সেচ্ছাসেবী সংগঠন রেজি নং- ১৪৪৩/২০১৭ লাইসেন্স নিয়ে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় প্রভাতি সংস্থা পরিচালনা করে আসছেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। শফিকুল যেসব কথা বলেছেন তা যদি সত্য হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.