Ultimate magazine theme for WordPress.

বিদ্যুৎ-পানির দাম বৃদ্ধিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

সারাদেশে একযোগে বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ, গাড়ি ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ নগর জীবনের জরুরি সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানানে হয়। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নির্দেশে জাতীয় ও জনস্বার্থ পদদলিত করে বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবন ও জীবিকার তাগিদে এই নগরে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন আজ সমস্যা, সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলছে। দৈনদ্দিন জীবন-যাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত অতি প্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম লাগামহীনভাবে বা ইচ্ছামতো বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করায় চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে। গ্রাম থেকে আসা শাঁক-সবজি ট্রাকে করে ঢাকার আসার পথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদার দাবি মেটাতে গিয়ে খুচরা বাজারে এক কেজি পেঁপে পড়ে ৩০ টাকা।

এছাড়াও রাজধানীতে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করাও রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটে সিটিং সার্ভিস বা এসি বাসের নামে ইচ্ছামাফিক ভাড়া নির্ধারণ করছে এবং ভাড়া বাড়িয়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেন ব্ক্তারা।

বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরের পাড়া মহল্লায় সরকার দলীয় নেতা ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্বের কারণে মহল্লার মানুষ এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকে। এর পাশাপাশি দেশব্যাপী হত্যা, খুন, গুম, নারী ধর্ষণ, নির্যাতন, ক্রসফায়ার, পুলিশ, হেফাজতে মৃত্যু আজ স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্তব্দ করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস, যার নির্মম শিকার হলো বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ।

সমাবেশ আরও বলা হয়, জাতীয় ও নগরজীবনের এই সমস্যা বিচ্ছিন্ন কোন সমস্যা নয়। এই সমস্যার জন্য দায়ী হচ্ছে প্রচলিত আর্থ-সামাজিক কাঠামো। যার মূল কারণ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা, দালাল, পুঁজিপতিশ্রেণির শাসন, শোষণ, নিপীড়ন।

বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল কুমার ভৌমিক গ্যাস, বিদ্যুৎ,পানির দামি বৃদ্ধিসহ বিদেশি শত্রুকে প্রতিহতের জন্য জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর আসা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ দেশের মানুষ নরেন্দ্রে মোদিকে মেনে নেবে না। প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের দাম শুধু এখন বাড়ানো হয়নি, সামনে আরও বাড়ানো হবে। সুতরাং চুপ করে থাকলে চলবে না। আপস না করে প্রতিরোধে এগিয়ে আসেন। এই জালিমদের প্রতিরোধ-প্রতিবাদের বিকল্প নেই।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি খলিলুর রহমান খান বলেন, ‘এই বিদ্যুতের দামি বৃদ্ধি হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে এবং আমাদের দেশের দালালদের স্বার্থে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি, ধিক্কার জানাচ্ছি। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে, আমাদের দেশের গ্যাস দিয়ে নিজেদের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সেই দেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রয়োজন পড়ে না। আমরা এই শহরে বিশুদ্ধ পানি চাই, সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছেদ চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের শ্রমিক উৎপাদন করে নিজে খেতে পারবে না। এ দেশের কৃষক উৎপাদন করে খেতে পারবে না। এই ব্যবস্থা আমরা চাই না। এদেশের শ্রমিক, কৃষক জনগনের অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা কোনটাই নেই। এভাবে একটা সমাজ চলতে পারে না। এ দেশের জোদদার, মহাজন, দালাল, বুর্জোয়ারা, দুর্নীতিবাদ আমলাদের উচ্ছেদ ছাড়া এ দেশের মেহনতি মানুষের মুক্তি নেই। এদেরকে উচ্ছেদ ছাড়া এদেশের শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তি হবে না। আমরা অন্য বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চয়তা চাই।’

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকাশ দত্তের উপস্থাপনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বিগ্রেডিয়ার (অব.) জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পদক শাহজাহান কবির প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে হাইকোর্টের এলাকার কদম ফোয়ারা মোড় হয়ে পুরানা পল্টনে এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.