Ultimate magazine theme for WordPress.

বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত জামালপুরের সড়ক পথ, ক্ষতি হাজার কোটি

জামালপুর: জামালপুরের সাত উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সাড়ে ৭শ কিলোমিটার সড়ক পথ ক্ষত-বিক্ষত হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ঘর হারিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ জন। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫ হাজারেও বেশি। 

এছাড়া বন্যায় ৭ হাজারেরও বেশি পুকুরের মাছ ভেসে যায়। ১৭ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়। ৮শ’র বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সড়ক যোগাযোগের মধ্যে ৭৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা বন্যায় তলিয়ে যায়। ১৩৫ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ১৪৫টি ব্রিজ কালভার্ট বন্যার প্রবল স্রোতে ধ্বংস হয়। এছাড়া দু’টি রেলপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নিয়ন্ত্রণাধীন রাস্তায় মেরামত ও নির্মাণ বাবদ ২৪৮ কোটি টাকা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বলে জানান দুই বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিকে গ্রামীণ অবকাঠামোর আওতায় রাস্তা সংস্কার বা মেরামত বাবদ আরও ২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়বে বন্যার পর পরই। সরকারি ও বেসরকারি সব মিলিয়ে এবারের বন্যায় ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার ১৩ লাখ মানুষ। পানিতে তলিয়ে যায় সিংহভাগ ভাগ পাকা সড়ক। এসব সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় প্রায় সাড়ে ৭শ কিলোমিটার সড়ক। পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ-কালভার্ট। সড়ক পথে সরাসরি যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে জেলার লাখো মানুষ।

বন্যার পানি নেমে গেলেও এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল। সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের রৌমার রাজীবপুরগামী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ থেকে বকশীগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। মেলান্দহ টু মাহামুদপুর রাস্তায় কোনো যান চলাচল করতে পারছে না। ইসলামপুর থেকে গুঠাইল সড়ক পথে চলছে নৌকা।

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বাংলানিউজক জানান, বন্যায় ৭শ’ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ছোট-বড় ১৫৫টি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক-ব্রিজ পুনর্নির্মাণ ও মেরামতে আড়াইশ’ কোটি টাকা খরচ হবে। এমনকি পানি পুরোপুরি নামার পর ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।

জামালপুর সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, জামালপুর থেকে রৌমারী, জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ থেকে বালুগাঁও, জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ী রাস্তায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা দ্রুত সংস্কার করলেও পুরোপুরি শেষ হতে আরও প্রায় ৬০ কোটি টাকার উপরে প্রয়োজন।

বন্যায় জামালপুরের ৭টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়নাধীন রাস্তাগুলো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী বাংলানিউজকে জানান, এবারের বন্যায় জেলার সাত উপজেলার আটটির মধ্যে ৭টি পৌরসভা ও ৬২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব বন্যা কবলিত এলাকার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩৫টি পরিবারের প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি যত কমে যাচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ ততই বাড়ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.