Ultimate magazine theme for WordPress.

পুড়ে ছাঁই হানিফ মিয়ার স্বপ্ন

নরসিংদীতে প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে ছাঁই হলো সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধের স্বপ্ন। বাছুরসহ একটি দুধের গাভী ও আটমাসের গর্ভবতী আরেকটি গাভীসহ সদ্য ঘরে তোলা ১০মন সরিষা ও বসত ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার মাধবদীর দরগাবাড়ি মাদরাসার পশ্চিম পাশে আবু হানিফ মিয়ার বসতঘরে এ বর্বরতার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আবু হানিফ বি-বাড়িয়া জেলার আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে। তিনি মাধবদীতে সাবেক রেললাইন সংলগ্ন দরগাবাড়ি ছোটমাধবদী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমানের বাড়ির পাশে একটি ছোট টিনের ঘরের অর্ধেকে স্ত্রী ও এক নাতিকে নিয়ে বাস করতো বৃদ্ধ হানিফ মিয়া ও বাকি অর্ধেকে ৩টি গরু পালন করতো। বুধবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ হানিফ মিয়ার বসতঘর থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।

এ সময় ফায়ার সার্ভিসের একটি উইনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরই মধ্যে পুড়ে মারা যায় গৃহপালিত ৩টি পশু, ১০মন সরিষা, নগদ ৫ হাজার টাকাসহ প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র। এ অগ্নিকাণ্ডে জীবনের অর্জিত সম্পদ সব হারিয়েছেন ভুক্তভোগি বৃদ্ধ হানিফ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তুপে বসে হাউমাউ করে কাঁদছে সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধ আবু হানিফ মিয়া। এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, নিজের কোন সহায় সম্বল না থাকায় মাধবদীর পল্লী চিকিৎসক হাজী শফি উদ্দিনের রেল লাইন সংলগ্ন জমিতে একটি টিনের ঘর তুলে গত ১০ বছর যাবৎ বৃদ্ধ দম্পতি বসবাস করে আসছিলেন।

গত কয়েকবছর আগে তার চার মেয়ে মিলে তাকে একটি গরু কিনে দেয়। সেটা লালন পালন ও বর্গাচাষের জমি থেকে আয়ের টাকায় একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন বৃদ্ধ হানিফ মিয়া। চলছিলেনও ভালোই। একটি গরু থেকে তার তিনটি গরু হয়। এর মধ্যে একটি থেতে প্রতিদিন ৮ লিটার দুধ পাওয়া যেতো, অন্যটিও ছিলো ৮মাসের গর্ভবতী।
এরই মাঝে দুর্বত্তদের দেয়া আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।

তিনি অভিযোগ করে বলেন তার পালিত গরুর মলমূত্রের গন্ধ যাওয়ার অজুহাতে পাশের বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান ও তার ছেলে মাসুদ প্রায়ই তাকে বকাঝকা করতো। এমনকি বিভিন্ন সময় বৃদ্ধ হানিফকে মারধরসহ এখান থেকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতো। গত মাসদেড়েক আগেও তার একটি খড়েরগাদা পুড়িয়ে দেয়াসহ একাধিকবার তার ফসল পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনাটিকেও তিনি পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বলে দাবি করেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তিযোদ্ধা আতাউর বলেন বৃদ্ধের সাথে তাদের কোন বিরোধ ছিলোনা; বরং এ অগ্নিকাণ্ডে তাদের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ করা হলে থানার উপ-পরিদর্শক মীর শিবলী কায়েস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজিনয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.