Ultimate magazine theme for WordPress.

নোবিপ্রবিতে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনস এসোসিয়েশন এর আয়োজনে নোবিপ্রবিতে চার দিন ব্যাপী ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে এবং ২৭,২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী সহ মোট চার দিন চলবে এবারের সম্মেলন।

আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) নোবিপ্রবির হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে “প্রতিকুলতা প্রতিরোধঃ সাশ্রয়ী মূল্যে ক্লিন এনার্জীর ব্যবহার বৃদ্ধি” শিরোনামকে প্রতিপাদ্য করে উক্ত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমগ্র দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের আগমনে মুখরিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল- আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন কোষাধ্যক্ষ ড. মো. ফারুক উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ড. আবুল হোসেন, প্রক্টর ড. নেওয়াজ মো. বাহাদুর এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক আফসানা মৌসুমি। এছাড়াও থাকবেন সংগঠনটির বর্তমান উপদেষ্টা সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুস সাকিব খান।

এবারের ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন সম্পর্কে নোবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ দিদার- উল-আলম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও নোবিপ্রবি ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন তাদের চতুর্থ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীরা এ সম্মেলন শেষে বিভিন্ন আত্মোন্নতিমূলক দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এই সংগঠনকে সকল প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করেন উপাচার্য।

প্রসঙ্গত, ছায়া জাতিসংঘ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম, যাতে তারা জাতিসংঘ এবং জাতিসংঘের আদলে সাজানো কমিটিগুলোতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এতে জাতিসংঘের আদলে ছায়া সম্মেলনে বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই সম্মেলন থেকে আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলোর সমাধানের সম্ভব উপায় সমূহ সম্পর্কে জানা যায় ।

শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গন, জাতিসংঘ ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা লাভ করে থাকে। এছাড়াও এর মাধ্যমে আত্মোন্নতিমূলক বিভিন্ন গুণাবলি যেমন গঠনমূলক চিন্তাধারা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, সংকটপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাবলীল বাচনভঙ্গি, দলগতভাবে কাজ করা, সুস্থ বিতর্কচর্চা ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে থাকে শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০১৫ সালে এই সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর ২০১৬ সালে আয়োজিত একটি অন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তর থেকে বিপুল সাড়া পায়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী ‘ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন’ আয়োজিত হয়। এতে সারা দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি জড়ো হয়েছিলো । এরপর যথাক্রমে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেও সম্মেলনের মাধ্যমে এই সংস্থাটি তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সমর্থ হয়।

ধারাবাহিকভাবে গত তিন বছরের আয়োজন অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং সর্বমহলে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তাই এবারও বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলপ্রসূ একটি সম্মেলন আশা করছেন আয়োজকরা।

তারা জানায়, এবারের আয়োজনকে সফল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাইরে থেকে আগত প্রতিনিধিদের যথাযথ আতিথেয়তা প্রদান করা এবং পূর্বের সম্মেলনগুলোর ন্যায় মান অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

Leave A Reply

Your email address will not be published.