Ultimate magazine theme for WordPress.

ডিজিটাল মূল্যতালিকা মানবেন তো ব্যবসায়ীরা?

কাঁচাবাজারে এনালগ মূল্যতালিকাবাজারদর নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোতে এনালগ পদ্ধতির মূল্যতালিকা বোর্ড রয়েছে। তবে সেগুলো কার্যকর না হওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তার নিজস্ব ১৩টি কাঁচাবাজারে ডিজিটাল মূল্যতালিকা বোর্ড বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) এক অনুষ্ঠানে সংস্থার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এমন কথা জানিয়েছেন।

কিন্তু রমজান এলে প্রতিটি বাজারে তালিকা লাগানোর পাশাপাশি কড়াকড়ির চেষ্টা চললেও তা পালন করেন না ব্যবসায়ীরা। এ বছর থেকে যদি নতুন করে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়, তার বাস্তবায়ন নিয়েও নগরবাসীর মাধ্যে রয়েছে শঙ্কা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর রমজান এলে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এবছরও তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস ৫২৫ টাকা, বিদেশি গরুর (বোল্ডার) মাংস ৫০০ ও মহিষের মাংস ৪৮০, খাসির মাংস ৭৫০ এবং ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৬৫০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হবে।

তবে বাজারে গিয়ে দেখা গেছে উল্টো চিত্র, নির্ধারিত দামে কোনও ব্যবসায়ী মাংস বিক্রি করছেন না। এ জন্য খোদ সংস্থা দুটির ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করেছেন। সিটি করপোরেশন বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের আয়ত্বে রাখার চেষ্টা করলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্যের দাম নির্ধারণ করে আসছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসূফ আলী সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের ১৩টি মার্কেট রয়েছে। প্রতিটি মার্কেটে ডিজিটাল মূল্যতালিকা বোর্ডের মাধ্যমে পণ্যের দর নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। নগর ভবন থেকে সার্ভারে যে দর দেওয়া হবে তা ওই বোর্ডে প্রদর্শন হবে।

করপোরেশনের উদ্যোগটি ভালো হলেও তার বাস্তবায়ন বা কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে নগরবাসীর। বৃহস্পতিবার হাতিরপুল কাঁচাবাজার পরিদর্শনে এসে যখন মেয়র সাঈদ খোকন এ ঘোষণা দিয়েছেন ঠিক তখনই তার থেকে একটু দূরে কাঁচাবাজার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, ‘মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মানছে না। সিটি করপোরেশন দুই-একটি দোকানকে জরিমানা করা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। কাঁচাবাজারেও মাঝেমধ্যে মূল্যতালিকা দেখি। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সেই দামের কোনও মিল নাই। দোকানিরাই ওই তালিকা দিয়ে থাকেন। এখন ডিজিটাল মূল্যতালিকা বোর্ড দিয়ে দিলেই হবে না। তা কার্যকর আছে কিনা তাও দেখতে হবে।’

ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটির ১৩টি কাঁচাবাজার থাকলেও কয়েকটি বাজার ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ে এ কাজ শুরু করা হবে। সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ৫ থেকে ৬টি মার্কেটে ডিজিটাল মূল্যতালিকা বোর্ড লাগানো হবে।

সিটি করপোরেশন বলছে, এ পদ্ধতির মাধ্যমে সংস্থার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই ডিজিটাল মূল্যতালিকা বোর্ডে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রদর্শন করা হবে। আগের মতো এনালগ পদ্ধতিতে এসব নিয়ম অনুসরণ করা হবে না। আর অনেক সময় দেখা যাচ্ছে এনালগ পদ্ধতির মূল্যতালিকা বোর্ডে করপোরেশনের বাজার মনিটরিংকর্মীরা নিয়মিত বাজারদর লিখে আসলেও ব্যবসায়ীরা তা মুছে নিজেদের মতো করে লিখে দেন। যে কারণে গ্রাহকরা প্রকৃত মূল্য জানতে পারেন না। বিষয়টি তদারকিও করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই ডিজিটাল বোর্ড লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি।

যদি কোনও ব্যবসায়ী নিয়ম না মানেন তাকে অবশ্যই ভোক্তা অধিকার আইন বা সিটি করপোরেশন আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে জেল-জরিমানাও করা হবে।

সিটি করপোরেশন নির্ধারিত পণ্যের দর তো ব্যবসায়ীরা মানে না। সে ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসূফ আলী সরদার বলেন, ‘অবশ্যই ব্যবসায়ীদেরকে তা মানতে হবে। যদি কেউ এই তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডেরও বিধান থাকবে। আমরা ভোক্তা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আইনও প্রয়োগ করবো।’

আরও পড়ুন- ৩ সপ্তাহের মধ্যে ডিএসসিসির বাজারগুলোতে ডিজিটাল মূল্যতালিকা

Leave A Reply

Your email address will not be published.