Ultimate magazine theme for WordPress.

খুলনায় দখলে মরছে নদী

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা ও হরি নদী একসময় এই অঞ্চলের মানুষকে মায়ের মতো বুকে জড়িয়ে রাখত। খুলনা ও যশোর জেলার লাখ লাখ মানুষের জীবন প্রবাহ এই নদীর সঙ্গেই বয়ে চলত। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোক এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কালের বিবর্তনে পলি পড়ে নদীটির পানি প্রবাহ কমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার বা খনন না করায় দ্রুত এর নাব্যতা হারিয়ে যেতে থাকে। সম্প্রতি দুই তীর ঘেঁষে ভূমিদস্যুরা বেশ কয়েকটি ইটভাটা গড়ে তোলে। তারা নদী ভরাট করে বড় বড় পুকুর তৈরি করে জোয়ারের ঘোলা পানি তুলে পলি ভরাট করছে। পরে ইট তৈরির জন্য পলিমাটি নদীর তীরে স্তুপ করে রাখা হয়।

সূত্রে জানা যায়, নদী দখল করে ইটভাটা বন্ধ করার দাবি করে স্থানীয় এলাকাবাসী গত ২০১৭ সালে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহি অফিসার আশেক হাসান রুদাঘরা ইউনিয়ন তহশিলদারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপর আর কোন অগ্রগতি হয়নি। গত ২ বছর যাবত একটু একটু করে ওই ভাটা মালিক নদীর বুক দখল করেই চলেছে।সরেজমিনে যেয়ে এবং সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে উপজেলার সালতা, ভদ্রা ও হরি নদী ঘেষে গড়ে ওঠেছে অনেক অবৈধ ইটভাটা। আর ঐ সকল অধিকাংশ ভাটা মালিকরা সরকারি জমির কিছু অংশ দখল করে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ভাটার কার্যক্রম। অথচ কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধারে উদাসীন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থাকা ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করা না হলে অচিরেই হরি নদী খরস্রোতা ভদ্রা নদীর মতো ডুমুরিয়ার মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।

এলাকাবাসী জানায়, বার বার দখলদারদের উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে তালিকাও করা হয়। কিন্তু তারপর আর সেটি বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় না। নদীর অবৈধ দখলদার রয়ে যায় বহাল তবিয়তে। নদী খেকোরা বহাল থেকে যাওয়ায় নদী তার বাক পরিবর্তন করে। যে পাশে দখলদাররা দখলবাজি করে তার বিপরীত পাশে দেখা দেয় ভাঙন। ইতোমধ্যে নদী দখলদারের অপতৎপরতায় জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রাপাড়ের খর্ণিয়া বাজারের একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে শোলগাতিয়ার হরি নদীটিও ইটভাটা মালিকদের অবৈধ দখলদারের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে।

এ প্রসঙ্গে স্টোন ব্রিকস এর মালিক ইকবাল হোসেন জমাদ্দার জানান, নিয়মকানুন মেনেই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন, পরিবেশ, ছাড়পত্র নিয়েই ভাটা পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, ৩০ বিঘা ব্যক্তি মলিকানার জমি ইজারা নিয়ে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। কোন খাস জমি দখল বা নদী দখল করিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাহানাজ বেগম বলেন, নদী-খাল ও সরকারি জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছে। দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল দখলবাজদের উচ্ছেদ করা হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, বেআইনিভাবে নদীর বুক দখল করে কাউকে ইটভাটা স্থাপন করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ নদী দখল করে ইটভাটা স্থাপন করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নদীতে দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.