Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনার কারণে সংসদ ভবনে জানাজা পাচ্ছেন না সাবেক এমপি

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামালের নির্ধারিত জানাজা বাতিল করেছে সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১১টা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার জানাজার সময় নির্ধারণ করার পর থেকে সংসদে আতঙ্ক দেখা দেয়। সিঙ্গাপুরে তিনি মারা যাওয়ায় অনেকে এ নিয়ে আপত্তিও তুলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সংসদের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৮টায় সংসদে তার জানাজা বাতিল করা হয়।
এর আগে ১২ মার্চ করোনোভাইরাসের আতঙ্কে বিএনপির সাবেক এমপি রহিম উদ্দিন ভরসার নামাজে জানাজাতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। সেদিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় লোক সমাগমের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি।
জানা যায়, জানাজা বাতিল হওয়া সৈয়দ শহীদুল হক মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শহীদুল হক জামাল দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে জাতীয় সংসদের হুইপ করা হয়।

চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যরা মারা গেলে তাদের জানাজা হয় সংসদে। কিন্তু কোনো ছোঁয়াচে রোগের কারণে এবারই প্রথম কারও জানাজা বাতিল হলো বলে সেখানে দীর্ঘদিন কর্মরত এক উপসচিব জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘শুনেছি করোনা আতঙ্কে কারণে তার জানাজা বাতিল করা হয়েছে।’
এর আগে করোনা আতঙ্কের মধ্যে বিএনপির আরেক সংসদ সদস্যের জানাজা হলেও দলটির শীর্ষ নেতারা ছিলেন অনুপস্থিত। সাধারণত এ ধরনের জানাজায় শত শত লোক উপস্থিত হন। রহিম উদ্দিন ভরসার এ জানাজায় উপস্থিতি ছিল ৯০ জনের মতো। অথচ সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাই প্রায় ১২০০।
রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতির জানাজায় নিজ দলের চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদেরই বেশি উপস্থিতি দেখা গেছে।
বিএনপির জয়নুল আবেদীন ফারুক, মো. হারুন অর রশিদ, সাবেক সংসদ সদস্য নিজামুদ্দিন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ, মো. হাবিবে মিল্লাত, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.