Ultimate magazine theme for WordPress.

ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবিতে ওয়াসা ভবনের সামনে গণ অবস্থান কর্মসুচি পালিত

দুনিয়ার মজদুর, এক হও!
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)
ঢাকা নগর শাখা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি                                                                                                              তারিখ : ১৫.০৩.২০২০

ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবিতে ওয়াসা ভবনের সামনে গণ অবস্থান কর্মসুচি পালিত
 

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)- ঢাকা নগরের উদ্যোগে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের দাবিতে কাওরানবাজারস্থ ওয়াসা ভবনের সামনে গণ অবস্থান কর্মসুচি পালিত হয়। ঢাকা নগরের ইনচার্জ নাঈমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্ত্বে এই কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন মিরপুর পল্লবীর অঞ্চলিক শাখার নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, পল্টন থানার নেতা রাজু আহমেদ, সুষ্মিতা রায় সুপ্তি।


গণ অবস্থানে বক্তারা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ১২ বছরে মোট ১৩ বার পানির দাম বাড়িয়েছে। এতে পানির দাম প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পানির দাম ছিল প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। এরপর কয়েক দফায় সেই দাম বেড়ে আবাসিকে হয়েছে ১১ টা ৫৭ পয়সা এবং বাণিজ্যিক ও শিল্পে হয়েছে ৩৭ টাকা ৪ পয়সা। ওয়াসার আইন অনুযায়ী, ওয়াসার বোর্ড প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারে। কিন্তু এবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে পানির দাম ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলে বাড়ানো হচ্ছে ২০ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ল ৪২.১৩%। আর বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে প্রতি হাজার লিটার পানির বর্তমান মূল্য ৩৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৫ টাকা। বর্তমানে ওয়াসার বাৎসরিক পানির গড় বিল করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; মূল্যবৃদ্ধির পর সেটা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জনগণ মাশুল দেবে।

ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে পান করে। অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ, পোকা, ময়লা এমনকি মল পর্যন্ত পাওয়ার ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানিতো নয়ই, প্রয়োজনীয় কাজ উপযোগি পানি সরবরাহ করতেও ওয়াসা ব্যর্থ। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরো ভয়াবহ।

ঢাকা ওয়াসার পানির বিলের সমান পয়ঃনিষ্কাশন বিল। এ জন্য পানির দাম দ্বিগুণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন বিলও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কাগজে-কলমে পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকা, বাসাবো-গেন্ডারিয়াসহ আশপাশের এলাকা, গুলশান-বনানী-বারিধারা, মতিঝিল, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, মগবাজার এলাকা, দনিয়া-শ্যামপুরসহ আশপাশের ৮৮২ কিলোমিটার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন এবং এর সঙ্গে সংযোগ রয়েছে ৬১ হাজার ৩৪৯ জন গ্রাহকের লাইন।


কিন্তু, বাস্তবে অধিকাংশ এলাকায় ঢাকা ওয়াসার পয়ঃসংযোগ লাইনের অস্তিত্ব নেই। কেননা, দীর্ঘ সংস্কার না করায় এসব সংযোগ অকেজো হয়ে গেছে। এরপরও বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ওয়াসা এসব গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। পানির সমান পয়ঃবর্জ্যে দাম বাড়ায় সেটা দাঁড়াবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

বক্তরা জনগণকে এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং সরকার ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি তোলেন –

১. অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির (৪২.১৩%) সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
২. পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে।
৩. নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ওয়াসার পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. রাস্তার মোড়ে জনগণের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.