Ultimate magazine theme for WordPress.

এশিয়ার দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু, লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত

এরইমধ্যে বাংলাদেশে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ডেঙ্গু নির্মূলে জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে হলেও কার্যত এখনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে তেমন কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে ১৭১২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৫০ জনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। স্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতি ঘণ্টায় ৭১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। 

তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়, এ বছর এশিয়ার, বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে দেশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে লাখ লাখ লোক এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। তবু মিলছে না পরিত্রাণ, প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বে ৩৯ কোটি লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এছাড়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন ১২৮টি দেশের প্রায় ৪০০ কোটি লোক।

বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয়া হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।

এ বছর থাইল্যান্ডে প্রায় ৫০ হাজার লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে মারা গেছেন ৬২ জন। সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ১০ হাজার রোগীর মধ্যে মারা গেছেন ৯ জন। ভিয়েতনামে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং মারা গেছেন ৪ জন। ভারতে ৭ হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪ জন। 

পাশাপাশি মিয়ানমারে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪ হাজারের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার, মারা গেছেন একজন। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশটিতে ডেঙ্গু জ্বরে ২২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে ফিলিপাইনে রীতিমতো মহামারি আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। দেশটির লক্ষাধিক লোক আক্রান্ত হয়েছেন এ রোগে, অর্ধ সহস্র লোকের মৃত্যু হয়েছে এরইমধ্যে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বেড়েছে যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও কিশোররা। মোট ডেঙ্গু রোগীর ৩৯ শতাংশের বয়স ৫ থেকে ৯ বছরের মধ্যে।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি সারা বছর থাকলেও মূলত বর্ষাকালেই এর প্রকোপ বাড়ে। বিগত কয়েক দশক ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বর্ষাকালে ডেঙ্গুর উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর ডেঙ্গু আক্রান্ত এইসব দেশগুলোতে এডিস মশা নিধনে প্রচলিত কোনও ওষুধ কাজে আসছে না। এসব দেশেও মশা নিধনে বাংলাদেশের মতোই ডেল্টামেথ্রিন ও মেলাথিউন ব্যবহার করা হয়। 

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) এশিয়া-প্যাসিফিকের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক তারহি হেইনাসমাকি। এর থেকে বাঁচতে ব্যাপকভাবে জনসচেতনা গড়ে তোলারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.