Ultimate magazine theme for WordPress.

আঠারো বছর আগে ও পরের বন্ধুত্ব

একই লোক, একই জায়গায়, একই বয়স কিন্তু সময়টা পরিবর্তন। একটু উল্টানো। ১৮ বছর আগে এবং ১৮ বছর পরে। ছবি কথা বলে, এমনি একটা ছবি এটি। এই ছবিটা একবার চোখে পরলে আর একবার না দেখে যাওয়ার উপায় নেই। এই ছবিটা দেখ দেখার পর মনে হয় বন্ধুত্ব আসলে কি।

সামাজিক গণমাধ্যমের (ফেইসবুক) এসএসসি ২০১১ ও এইচএসসি ২০১৩ এর পেইজ থেকে পাওয়া একটা ছবি।

অবশ্যই বলা চলে এই ছবিটা একটি অসাধারণ একটি ছবি। ওরা যে পাঁচ জন ১৮ বছর আগে ঠিক যেভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলো। ঠিক ১৮ বছর পরে তেমনি একই ভাবে দাঁড়িয়ে সেইম স্টাইলে ছবি তুলেছেন। ছবিটা কেউই একবার দেখিলে তার আরেকবার দেখতে মন চায়। ওদের ছবি দেখে মনে পরে যায় ছোটবেলার কথা। মনে পরে যায় বন্ধুদের সাথে কাটানো জীবনে সুখ-দুঃখ, আড্ডা, ভালোবাসা ইত্যাদির সকল প্রকার ইতিহাস।

আসলে বন্ধু কথাটার গুরুত্ব ও ভালোবাসা অনেক। বন্ধুদের নিয়ে আমার কিছু কথা নিচে দেওয়া হলো।

‘বন্ধু’ এমন একটা শব্দ, যার সাথে জড়িয়ে আছে অনেক আবেগ, ভালোবাসা, ভরসা। বন্ধু সবার জীবনে খুবই অপরিহার্য একটা অংশ। শুধু মানুষ নয়, সমগ্র প্রাণীকূলের ক্ষেত্রেই। বন্ধু ছাড়া প্রাণীকূল টিকে থাকতে পারত না। আমাদের বাস্তুসংস্থানটাও যেন এক ধরনের বন্ধুত্ব। দেওয়া-নেওয়ার মেলবন্ধন।

বন্ধু আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি অংশ। এরা আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বন্ধুর কারণে আমরা বেঁচে থাকার আশা পাই। এরা আমাদের স্নায়বিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে; অবশ্যই ইতিবাচক অর্থে! এই স্নায়বিক উত্তেজনার ঘাটতি হলেই বরং আমাদের বেশ ক্ষতি হয়ে যাবে।

বন্ধু আমাদের জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেয়া যাক।

বন্ধু আমাদেরকে আমাদের মতো করে গ্রহণ করে। বন্ধুত্ব এমন একটা সম্পর্ক, যেখানে আমাদের নিজেকে লুকোনোর প্রয়োজন হয় না। আমরা নির্দ্বিধায় নিজেকে প্রকাশ করতে পারি। আমাদের ভালো দিক, খারাপ দিক, দোষ-গুণ, আবেগ-আহ্লাদ সবটা জেনেই বন্ধু আমাদের গ্রহণ করেন এবং কখনও অভিযোগ করে না। ছোট-বড় ভুল ভ্রান্তির জন্য তাদের সামনে লজ্জিত হতে হয় না।

বন্ধুর কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা পাই তা হচ্ছে, বিশ্বাস করার শিক্ষা। বন্ধু আমাদের শেখায় বিশ্বাস করতে। বন্ধুর কাছে মন খুলে গল্প করা যায়। মনের সকল গোপন কথা নিঃসঙ্কোচে আমরা তাদেরকে বলে দিতে পারি। গোপন কথাগুলো গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি নিতে হয় না হাজারবার। এক অজানা বিশ্বাস ও ভরসা কাজ করে বন্ধুর উপর সকলেরই। আমরা জানি, বন্ধু অসম্মান করবে না; অন্যদের মতো প্রতারণাও করবে না।

বর্তমানে আমরা অনেকটা যান্ত্রিক জীবনযাপন করে থাকি। সবসময় আবেগগুলো চেপে রাখতে রাখতে আমাদের মধ্যে আবেগ প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। কিন্তু বন্ধুর কল্যাণে আমাদের মধ্যে এখনও মানুষসত্ত্বা বেঁচে আছে। বন্ধুই একমাত্র মানুষ, যার সামনে মন খারাপ হলেই আমরা নির্দ্বিধায় ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলতে পারি। কারণ আমরা জানি, বন্ধু আমাদের কষ্ট দেখে আনন্দ পাবে না বা বিরক্ত হবে না। তারা অদমিত আবেগ দেখে ভ্রূ কুঁচকাবে না। বরং আমার কষ্ট বুঝবে; সেটা কমানোর চেষ্টা করবে। সবচেয়ে বড় কথা, মন খুলে আবেগ প্রকাশ করতে দেবে।

আমরা কেউই দোষের ঊর্ধ্বে নই। গুণ যেমন প্রতিটা মানুষের আছে, তেমনই দোষও রয়েছে। বন্ধুরা সে সকল দোষ উপেক্ষা করে চলে। আমাদের দোষগুলোর কারণে তারা কখনও আমাদেরকে ছেড়ে যায় না, ক্ষেত্র বিশেষে হয়তো দোষ শোধরানোর চেষ্টা করে। বরং একই রকম উদারতা ও ভালোবাসার সাথে আমাদের দোষ এবং গুণ দুটোই তারা গ্রহণ করে। তারা কখনও অনুভব করায় না, আমাদের দোষ কত বেশি বা আমরা কতটা গুণহীন! তারা শুধুই ভালোবাসা বিনিময় করতে জানে।

বন্ধু আমাদের সবচেয়ে মহৎ গুণের শিক্ষা দেয়, সততার শিক্ষা দেয়। বন্ধুর কাছ থেকে আমরা শিখতে পারি, ছোটখাট মিথ্যা কতটা গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় একটা সম্পর্কে। এবং দুটো মানুষ যখন একসাথে থাকছে, একইভাবে ভাবছে, তখন এই মিথ্যাগুলো কতটা অর্থহীন। যেহেতু, বন্ধুত্ব সকল প্রকার বিচার-বিবেচনার ঊর্ধ্বে, তাই আমাদের অযথা নিজের সত্ত্বাকে লুকিয়ে রাখা প্রয়োজন নেই, নেই অকারণে মিথ্যে বলার প্রয়োজন। কারণ এই মিথ্যেগুলো খুব সহজেই ধরা পড়ে যায় এবং শুধু শুধু সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে। কোনো উপকার হয় না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.