Ultimate magazine theme for WordPress.

অবৈধ ভাটায় পুড়ছে ইট, ঝুঁকিতে পরিবেশ

গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার জনবসতি এলাকা ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা ইটভাটাগুলো বছরের পর বছর ধরে চললেও রহস্যজনক কারণে জেলা প্রশাসন চুপচাপ রয়েছে। ফলে দিন দিন এসব ইটভাটার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় একদিকে যেমন পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে,অন্যদিকে মানবদেহে সর্দি,কাশি ও শ্বাসকষ্ট সহ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ১৬৭টি। এর মধ্য ১৭টির পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া ইটভাটাগুলোর বেশীর ভাগই স্থাপন করা হয়েছে কৃষি জমিতে ও জনবসতি এলাকায়। আর পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইসেন্স বিহীন চলছে ১৫০টি ইটভাটা।

সেগুলো হলো, সুন্দগঞ্জ উপজেলায় ২৬টি, সদর উপজেলায় ২০টি, সাদুল্লাপুরে ১৩ গোবিন্দগঞ্জে ৩৪ পলাশবাড়ীতে ৪৬ ও সাঘাটা উপজেলায় ১১টি ইটভাটা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক বলেন, কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হয় বলে বেশি উচ্চতার ইটের চিমনি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এই ইটের চিমনী তৈরিতে খরচ বেশি হওয়ায় সরকারের এই আইন মানছেন না গাইবান্ধার অনেক ইটভাটার মালিক।

তিনি অভিযোগ করেন, এখনও অল্প উচ্চতার ড্রামসিটের এবং ইটের চিমনি ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। এমনকি প্রশাসনের সামনে এভাবে ইটভাটা স্থাপন করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এজন্য তিনি  জেলা অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কাছে ইট প্রস্তুতকরণের জন্য (ইটভাটা স্থাপনের) লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন অনুসন্ধান কমিটি অনুসন্ধান পূর্বক জেলা প্রশাসকের কাছে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিজে যাচাই করবেন। তার পর নির্ধারিত ফি নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করবেন।

আইনে পরিষ্কার বলা আছে, জিগঝাক ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ করতে হবে। সেখানে আইনকে উপেক্ষা করে গাইবান্ধায় ফিক্সড চিমনিতে ইট পোড়ানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক জানান, সর্বনিম্ন ৪৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১২০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন জিকঝাক চিমনি স্থাপন করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু ফিক্সড চিমনিতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে ভাটা মালিকরা ফিক্সড চিমনিতে ইট পোড়াচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে এবং কমপক্ষে চারদিকে ১ কিলোমিটার জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার কথা। কিন্তু গাইবান্ধায় যেসব ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার বেশীর ভাগই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে জনবসতি এলাকায় ও কৃষি জমিতে।

আর দেড় শতাধিক ইটভাটা মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

৬ সদস্যের এই অনুসন্ধান কমিটিতে যারা রয়েছেন, জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহ্বায়ক হবেন, এবং পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয় বা জেলা কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মকর্তা হবেন সদস্য সচিব। আর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোনো বন কর্মকর্তা এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ হক্কানী বলেন, জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৭টির। তিনি বলেন, কিভাবে লাইসেন্স বিহীন এসব ইটভাটা বছরের পর বছর এভাবে চলতে পারে তা তার জানা নেই। অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ ধরনের ইটভাটার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো গুড়িয়ে দেওয়াসহ এসব মালিকদের বিরুদ্ধে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক মিহির লাল সরদার মোবাইল ফোনে জানান, ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র চেয়ে অনেক ভাটা মালিক আবেদন করেছেন। কিন্তু শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.