চয়নিকা চৌধুরী কে কেন নিয়ে যায় ডিবি?

পরীমনি ইস্যুতে ঘুরেফিরে নানাভাবে আসছে নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীর নাম। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাঁকে রাজধানীর পান্থপথের রাস্তা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আবার ছেড়ে দেয় পুলিশ।

কেন চয়নিকা চৌধুরী কে এভাবে গোয়েন্দা পুলিশের দল নিয়ে যায়, তা জানতে আজ শনিবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা বলে ‘বিনোদন’ বিভাগ। কোথা থেকে পুলিশ আপনাকে নিয়ে যায়, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পরীমনি গ্রেপ্তারের পর আমাকে নিয়ে অনেক ট্রল হয়েছে। আমি আছি কি নাই, কেন যাই নাই। আমার ফেসবুকও কেন ডিঅ্যাক্টিভেট? এসব বিষয়ে একটি টেলিভিশন আমার অবস্থান জানতে চেয়েছিল। আমিও আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। অনুষ্ঠান শেষে টেলিভিশন চ্যানেল থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ পুলিশের একটি দল আমার গাড়ি ঘিরে ধরে। বিষয় হচ্ছে, হঠাৎ করে এভাবে নিয়ে যাওয়াতে ভয় পেয়ে গেছিলাম একটু। আমি বুঝতে পারিনি। ভাবছি, কারা ওরা। ভয় পাইছি। আমি নেমে গেলেই ভালো হতো। যা–ই হোক, আমারই বুঝার ভুল।

ভয় পেয়েছিলেন কেন? উত্তরে চয়নিকা বললেন, ‘ভয় পাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। কে বা কারা। পরে যখন পরিষ্কার করে বলল, ওদের (গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তাদের) লোকজনকে বললাম, তাহলে আপনারা ওঠেন আমার গাড়িতেই। আমি গেলাম। ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার পর সবাই সুন্দর ব্যবহার করল। তারা আমার কাছে কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে। আমিও সুন্দরভাবে উত্তর দিয়েছি।

কী ব্যাপারে জানতে চেয়েছে? চয়নিকা চৌধুরী বললেন, ‘সেটা তো বলব না। এটা তদন্তাধীন। পরীমনির ব্যাপারে কিছু তথ্য দরকার ছিল। পরীমনির ব্যাপারে ওরা কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে। আমি সুন্দর করে উত্তর দিয়েছি। আমার উত্তরে তারা হ্যাপি হয়েছে। আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। দ্যাটস ইট।’

কয়েক শ নাটকের পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী ‘বিশ্বসুন্দরী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এই ছবিতে তাঁর অভিনয়শিল্পী ছিলেন পরীমনি। এই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘অন্তরালে’র জন্য সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হন পরীমনি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর শুটিং শুরু হওয়ার কথা।

চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে ডাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর সব সময় তাঁকে পরীমনির পাশে দেখা গেছে। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে ঢাকাই সিনেমার অন্যতম নায়িকা পরীমনিকে আটক করা হয়। তবে পরীমনি আটকের পর চুপ ছিলেন চয়নিকা চৌধুরী।

 

চয়নিকা চৌধুরী কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

 

নাটক ও সিনেমার নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টা তিনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম একেটিভিকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাত ১০টায় মিন্টো রোডের কার্যালয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিলো। সবাই প্রশ্ন করছিল, পরীমনির কথিত মা চয়নিকা চৌধুরীকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকেও কথিত এই মা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন ডাকা হবে, তিনি আসবেন। এই শর্তে তাঁকে ছাড়া হচ্ছে।

 

 

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়ি ডিবি পুলিশ ঘিরে ফেলে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে যেতে হবে জানিয়ে নেমে আসতে বললেও তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর একপর্যায়ে তিনি তাঁর গাড়িতে নারী পুলিশ সদস্যদের ওঠার অনুমতি দেন। এরপর ওই গাড়িতে ডিবির আরও কয়েকজন উঠে পড়েন। সেই গাড়িতে করেই তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চয়নিকা চৌধুরী ও পরীমনির মধ্যে সখ্যের বিষয়টি সবারই জানা। চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর পরীমনির পাশে সব সময় দেখা গেছে তাঁকে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব। রাত আটটার পর তাঁকে বাসা থেকে বের করে র‌্যাবের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

 

নাটক ও সিনেমার নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘণ্টা তিনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম একেটিভিকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাত ১০টায় মিন্টো রোডের কার্যালয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, চয়নিকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিলো। সবাই প্রশ্ন করছিল, পরীমনির কথিত মা চয়নিকা চৌধুরীকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকেও কথিত এই মা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যখন ডাকা হবে, তিনি আসবেন। এই শর্তে তাঁকে ছাড়া হচ্ছে।

 

 

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়ি ডিবি পুলিশ ঘিরে ফেলে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে যেতে হবে জানিয়ে নেমে আসতে বললেও তিনি রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর একপর্যায়ে তিনি তাঁর গাড়িতে নারী পুলিশ সদস্যদের ওঠার অনুমতি দেন। এরপর ওই গাড়িতে ডিবির আরও কয়েকজন উঠে পড়েন। সেই গাড়িতে করেই তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চয়নিকা চৌধুরী ও পরীমনির মধ্যে সখ্যের বিষয়টি সবারই জানা। চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর পরীমনির পাশে সব সময় দেখা গেছে তাঁকে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করে র‌্যাব। রাত আটটার পর তাঁকে বাসা থেকে বের করে র‌্যাবের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

 

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী আটক

নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে আটক করা হয়। চয়নিকা চৌধুরীকে আটকের বিষয়টি একেটিভিকে নিশ্চিত করেছেন ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি ও পরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলু।

লাভলু জানালেন, ‘আমাকে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক তাঁর আটকের খবরটি জানিয়েছেন।’ এদিকে সাজু মুনতাসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানালেন, ‘পরীমনি ইস্যুতে ডিবি তাঁকে আটক করেছে বলে শুনেছি।’

এদিকে চয়নিকা চৌধুরীকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি থেকে আতঙ্কিত হয়ে বলছিলেন, ‘আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আমি কিচ্ছু জানি না।’ কয়েক শতাধিক নাটকের পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী ‘বিশ্ব সুন্দরী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এই ছবিতে তাঁর অভিনয়শিল্পীরা হলেন পরীমনি, সিয়াম আহমেদসহ আরও অনেকে। এই নির্মাতার ওয়েব ফিল্ম ‘অন্তরালে’র জন্য সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হন পরীমনি। এর শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

চয়নিকা চৌধুরী ও পরীমনির মধ্যে যে সখ্য রয়েছে, তা সবারই জানা। চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে থাকেন পরীমনি। উত্তরা বোট ক্লাব-কাণ্ডের পর পরীমনির পাশে সব সময় দেখা গেছে তাঁকে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে ঢাকাই সিনেমার অন্যতম নায়িকা পরীমনিকে আটক করা হয়। রাত আটটার পর তাঁকে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরীর সঙ্গে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পরীমনি আটকের পর চুপ ছিলেন চয়নিকা চৌধুরী।

 

 

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবারের ঘটনার সময় আমি ফেসবুকে ছিলাম না। সন্ধ্যার দিকে জানতে পারি। তখন ছয়টার বেশি বাজে। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম। কিন্তু কী করব বুঝতে পারছিলাম না। এর মধ্যে লাইভও বন্ধ হয়ে গেছে। র‍্যাব সদস্যরা ঢুকেছেন ওর বাসায়। তখন আমি ছুটে যেতে পারতাম, কিন্তু বাসায় ঢুকতে পারতাম না। এখানে আমার আসলে কিছু করার ছিল না।

চয়নিকা চৌধুরী

পরীমনির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে এই নির্মাতা বলেন, ‘পরীমনির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গে কাজভিত্তিক আলোচনা হয়। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পরীমনির সঙ্গে কোনো দিনই আলাপ করিনি। আর আমিও তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাইনি, জানতেও চাইনি।’ বৃহস্পতিবার রাত থেকে চয়নিকা চৌধুরীর ফেসবুক প্রোফাইল ডিঅ্যাক্টিভ পাওয়া গেছে।

 

আদালতে পরীমনি

রাত ৮টা ২৬ মিনিট। দুজন নারী কনস্টেবল চিত্রনায়িকা পরীমনিকে হাত ধরে এজলাস কক্ষে নিয়ে আসেন। জনাকীর্ণ আদালতে পরীমনিকে তোলা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরীমনি প্রথমে কথা বলেন তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে। এরপর কথা বলেন তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাতের সঙ্গে। স্বাক্ষর করেন ওকালতনামায়। তখন পরীমনিকে বিমর্ষ দেখায়। এ সময় এক মিনিটের মতো কাঠগড়ায় মাথা ঠেকিয়ে নিচের দিকে চেয়েছিলেন। একপর্যায়ে মাথা উঠিয়ে গালে বাঁ হাতে দিয়ে নির্বাক তাকিয়ে থাকেন সামনের দিকে।

সময়ের আলোচিত-সমালোচিত এই চিত্রনায়িকাকে বৃহস্পতিবার রাতে মাদকের মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আগের দিন রাজধানীর বনানীর বাসায় র‍্যাবের অভিযান আটক পরীমনিকে বিকেলে বনানী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে র‍্যাব।

পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হবে-সেই খবরে বিকেল থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা আদালতের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। সন্ধ্যার পর আদালতের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও বেড়ে যায়। আইনজীবীরাও আদালতের সামনে ভিড় করতে থাকেন।

 

চয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা চৌধুরীচয়নিকা

পরীমনিকে যখন এজলাসে তোলা হয় সে সময় আদালত কক্ষে ছিল আইনজীবীদের উপচেপড়া ভিড়। পরীমনি কক্ষে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আইনজীবীরা কাঠগড়ার দিকে এগিয়ে যান। কাঠগড়ায় পরীমনির সঙ্গে প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ অপর দুই আসামিকে তোলা হয়। সবার সামনে ছিলেন পরীমনি। তাঁর কাছেই ছিলেন একই সঙ্গে আটক হওয়া প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ। কাঠগড়ায় কনুই রেখে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকার একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন পরীমনি। একপর্যায়ে আদালত কক্ষে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই আলমগীর হোসেন।

 

 

আলমগীর হোসেন জানান, পরীমনি ও তাঁর সহযোগী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বনানী থানার মাদকের মামলা হয়েছে। এই মামলায় তাদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বিচারক এজলাসে আসার পর শুরু হয় শুনানি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতকে তিনি বলেন, পরীমনির বাসায় বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে।

 

 

এই মাদকের উৎস জানার জন্য পরীমনিকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন পিপি আব্দুল্লাহ আবু। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়ানো পরীমনি চুপচাপ তাঁর বক্তব্য শুনছিলেন।

পিপির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত আদালতে বলেন, পরীমনি দেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়িকা। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সবাই পরীমনিকে চেনে। তাঁর ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পরীমনি সম্প্রতি একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বাসা থেকে যে মদ উদ্ধার দেখানো হয়েছে, তা ছিল সাজানো।
আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

 

পরীমনি প্রথমে কথা বলেন তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে। এরপর কথা বলেন তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাতের সঙ্গে।
পরীমনির রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর কাঠগড়ার সামনে এগিয়ে যান আরেক আসামি নজরুল ইসলাম রাজ। এরপর তাঁর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। তখন পরীমনি কাঠগড়ার মাঝামাঝি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত নজরুল ইসলামকেও চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন। আদালতে আসার পর প্রায় এক ঘণ্টা পর পরীমনিকে আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে নিচে নামানো হয়। তখন আদালতে ঢোকার প্রধান ফটকের সামনে থাকা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি গাড়িতে পরীমনিকে তোলা হয়। পরে গাড়িটি আদালত চত্বর ত্যাগ করে।

করোনা টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ হচ্ছে

 

দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার বর্গ একর জমি। আগুনে পুড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে অঙ্গরাজ্যটির গ্রিনভিল শহর। নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে শহরটির ৮০০ বাসিন্দাকে। স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে শহরটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

আজ শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, দাবানলের ঘটনায় গ্রিনভিল শহরে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে শহরটি থেকে নিরাপদে যাওয়ার নির্দেশনা এখনো অনেকেই পায়নি বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এবারের দাবানলকে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে অষ্টম বৃহত্তম বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, আগুনে পুড়ছে গ্রিনভিল শহরের গাছগুলো। আগুনের তাপে ঝলসে গেছে বিভিন্ন কাঠামো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে শহরটির ছবি পোস্ট করেছেন একজন আলোকচিত্রী। সেখানে দেখা যায়, তাপে ধাতব একটি লাইটপোস্ট পর্যন্ত গলে গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের মাত্র ৩৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপণ দলের কর্মীরা। তবে তাঁদের চেষ্টা ব্যর্থ করে গত বুধবার রাতে গ্রিনভিল শহরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডাসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে দাবানল হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তি তাপমাত্রাই এই ভয়াবহতার জন্য মূলত দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে এখন পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

 

যৌন হয়রানি: গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত শুরু

 

একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরু করেছেন স্থানীয় প্রসিকিউটররা।

অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক স্বাধীন তদন্তে ১১ জন নারীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কুমোর বিরুদ্ধে এখন একাধিক অপরাধ তদন্ত শুরু হলো।

ম্যানহাটন, উয়েস্টচেস্টার ও লং আইল্যান্ড সিটি কাউন্টির প্রসিকিউটররা ৪ আগস্ট বুধবার কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরুর কথা জানান। তাঁরা ইতিমধ্যে অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক সিভিল তদন্তের নথিপত্র সংগ্রহের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

 

ব্রুকলিনের সাবেক প্রসিকিউটর জুলি রেন্ডেলম্যান বলেছেন, স্বাধীন তদন্তে উঠে আসা বিবরণে যৌন হয়রানির প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে অপরাধ আইনের আওতায় পড়বে।

৩ আগস্ট ১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস। তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদেরা কুমোকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও এক সম্পাদকীয়তে একই আহ্বান জানিয়েছে।

 

তিন দফার নির্বাচিত গভর্নর কুমো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বলেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে মূল ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ না করার অবস্থানে অবিচল রয়েছেন।

কুমো বলেছেন, তিনি রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালী লোকজন কর্তৃক নয়, বরং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত গভর্নর। তাই অন্য কারও আহ্বানে তিনি পদত্যাগ করবেন না।

 

গভর্নর কুমোর পদত্যাগ চান বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি মনে করেন, কুমোর পদত্যাগ করা উচিত। তবে কুমো এখনো বলছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা রাজনীতিবিদের মধ্যে কুমো অন্যতম। তিনি একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি এবং ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে পাওয়া গেছে। তাঁকে অভিশংসনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের মামলা তাঁকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

 

 

একের পর এক নারীর অভিযোগের পর গত মার্চ মাসে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার ঘোষণা দেন।

কুমো শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্ত দলের তদন্তে পাওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

 

 

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত তিন মাসব্যাপী তদন্ত দল অভিযোগকারী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত দলের পক্ষ থেকে গভর্নর কুমোকেও ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সাক্ষ্য ও আলামতের বিস্তারিত তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমো অঙ্গরাজ্যের বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি করেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, সাহসী নারীরা এগিয়ে না এলে কিছুতেই তদন্ত করা সম্ভব হতো না।

 

 

তদন্ত দলের অন্যতম সদস্য আইনজীবী জুন কিম বলেছেন, কোনো কোনো নারীকে কুমো অপ্রত্যাশিতভাবে স্পর্শ করেছেন। এমনকি তিনি অভিযোগকারী কোনো কোনো নারীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ স্পর্শ করেছেন, যা ছিল অভিযোগকারী নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। পীড়নের শিকার নারীরা কুমোর আচরণে বিরক্ত হয়েছেন। অপমানিতবোধ করেছেন। তদন্তে তা উঠে এসেছে।

কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত দলের সদস্য হিসেবে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিষয়ক আইনের বিশেষজ্ঞ অ্যানি ক্লার্কও কাজ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গভর্নর কুমো এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনা যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

 

কুমো আবার দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেননি। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতামূলক কোনো কাজ তিনি করেননি।

কুমো বলেন, ‘আমি ৬৩ বছর বয়সী একজন মানুষ। আমার সারা জীবনই জনসমক্ষে কেটেছে। আমি কখনো এমন লোক নই।’

কুমো নিজের পক্ষে সাফাই দিতে ৮৫ পৃষ্ঠার একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, তিনি নারী-পুরুষদের নানাভাবে চুমু দিচ্ছেন। স্পর্শ করছেন। কপাল, থুতনি ও হাতে চুমু দেওয়া তাঁর স্বভাবজাত বলে দাবি কুমোর।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, গভর্নর কুমোর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কুমোর সঙ্গে কথা হয়নি এবং প্রতিবেদন নিজে দেখেননি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, অঙ্গরাজ্য আইনসভায় গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন।

 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার স্পিকার কার্ল হেইস্টি বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত হাতে পাওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও কুমোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। জাতীয়ভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির তারকা নেতা কুমোর পক্ষে এখন দলের আর কেউ প্রকাশ্যে নেই।

 

 

প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় গভর্নর কুমো চতুর্থবারের মতো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। করোনা মহামারি মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। তবে নার্সিংহোমে করোনায় মৃত্যুর হিসাব ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে তিনি সমালোচনায় পড়েন। এ নিয়েও ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের মধ্যভাগ থেকে একের পর এক নারী কুমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে কুমো চাপে পড়েন। অঙ্গরাজ্য গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগসহ তাঁর অভিশংসনের দাবি উঠতে থাকে। স্বাধীন তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর গভর্নর কুমোর ওপর চাপ আরও জোরালো হলো।

 

 

ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কুমোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে রাজনীতির মধ্যগগন থেকে তাঁর খসে পড়া ঠেকানো কঠিন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলে হচ্ছে।

 

যৌন হয়রানি: গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত শুরু

 

 

একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরু করেছেন স্থানীয় প্রসিকিউটররা।

অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক স্বাধীন তদন্তে ১১ জন নারীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কুমোর বিরুদ্ধে এখন একাধিক অপরাধ তদন্ত শুরু হলো।

 

 

ম্যানহাটন, উয়েস্টচেস্টার ও লং আইল্যান্ড সিটি কাউন্টির প্রসিকিউটররা ৪ আগস্ট বুধবার কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরুর কথা জানান। তাঁরা ইতিমধ্যে অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক সিভিল তদন্তের নথিপত্র সংগ্রহের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

 

ব্রুকলিনের সাবেক প্রসিকিউটর জুলি রেন্ডেলম্যান বলেছেন, স্বাধীন তদন্তে উঠে আসা বিবরণে যৌন হয়রানির প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে অপরাধ আইনের আওতায় পড়বে।

৩ আগস্ট ১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস। তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

 

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদেরা কুমোকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও এক সম্পাদকীয়তে একই আহ্বান জানিয়েছে।

 

তিন দফার নির্বাচিত গভর্নর কুমো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বলেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে মূল ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ না করার অবস্থানে অবিচল রয়েছেন।

 

 

কুমো বলেছেন, তিনি রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালী লোকজন কর্তৃক নয়, বরং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত গভর্নর। তাই অন্য কারও আহ্বানে তিনি পদত্যাগ করবেন না।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বাইরে হামলা চালিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের বাস প্ল্যাটফর্মে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই প্রতিরক্ষা দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার বর্গ একর জমি।

দাবানলে

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাকারীর নাম অস্টিন উইলিয়াম ল্যাঞ্জ। ২৭ বছর বয়সী এই যুবক জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি মঙ্গলবার সকালে পেন্টাগনের কাছেই একটি স্টপেজে বাস থেকে নামেন। তারপর কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ কর্মকর্তা জর্জ গঞ্জালেজকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অস্টিন নিজেই নিজেকে গুলি করেন।

 

এফবিআই আরও জানায়, এই হামলার পরপরই পুলিশের অন্য সদস্যরা সেখানে যান। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। তবে হামলাকারীর ওপর অন্য পুলিশ সদস্যরা গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা উল্লেখ করেনি এফবিআই। ঘটনাস্থল থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

 

হামলার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তা গঞ্জালেজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

গঞ্জালেজের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গঞ্জালেজ প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন, সেখানে আসেন—এমন মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারা গেছেন।

 

 

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা এক পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এফবিআই।

অস্টিন কেন এই হামলা চালিয়েছেন, সে সম্পর্কে এফবিআইয়ের বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

অস্টিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে জর্জিয়ার স্থানীয় একটি গণমাধ্যম। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের ওপর হামলা, সন্ত্রাসী হুমকি, চুরিসহ নানা অভিযোগ আছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের শহরতলি আরলিংটোনে পেন্টাগন ভবনের প্রবেশমুখের কয়েক মিটার দূরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পেন্টাগন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানরত লোকজনকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা এক ঘণ্টার বেশি সময় অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকেন। ঘটনার ৯০ মিনিট পর এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলা,পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের আরলিংটনে পেন্টাগনের ওই ভবনের প্রবেশপথ থেকে কয়েক মিটার দূরে একটি বাস এবং পাতাল রেলস্টেশনে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গোলাগুলির ৯০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কীভাবে ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

 

 

এ ছাড়া ওই হামলার পর পাতাল রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই রুটে চলাচলকারী বাসগুলো অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পেন্টাগনের সদর দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির প্রধান উডরো কুসে বলেন, যেখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেই স্থান এখন নিরাপদ। এই মুহূর্তে কোনো হুমকি নেই। মঙ্গলবারের ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেননি কুসে। যদিও কয়েকটি সূত্র বলেছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

 

 

এদিকে নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের অনেক সদস্য মোতায়েন রাখতে দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন এবং সেখানে নিয়মিত যান, এমন হাজার কর্মীকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা শহীদ দিবস; মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ইতিহাস হয়ে থাক

Loading...