চুয়াডাঙ্গায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১শো ছাড়ালো

চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১শো ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় পাঁচজনের মৃত্যু এবং ৩শো ৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯৯ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১শো ১ জন। মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৬। ভারত সীমান্তবর্তী এ জেলায় শুরু থেকে এযাবৎ মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে চলতি মাসের ২৮ দিনে।

এই মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৩ জন মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮০ জন। এ ছাড়া, করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকেরই আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ও সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাতেহ আকরাম জানান, হাসপাতালের ইয়েলো জোনে ভর্তি হওয়া রোগীরা তাঁদের চিন্তায় ফেলেছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের করোনার সব উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষায় কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। রেড জোনে আইসোলেশনে থেকে বেশির ভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ফাতেহ আকরাম বলেন, উপসর্গে ভুগতে থাকলেও বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না। চিকিৎসা না নেওয়ায় অনেকে মারা যাচ্ছেন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ কারণেই পরিস্থিত খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের রেড জোনে আইসোলেশনে দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আকবর আলী সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় এবং একই দিন দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার চকহারদী গ্রামের ফকির মোহাম্মদ মারা যান।

সদর হাসপাতালের রেড জোন থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হলে সোমবার সকালে মারা যান চুয়াডাঙ্গা শহরের শান্তিপাড়ার তরুণ নারী উদ্যোক্তা অনিয়া রহমান। এছাড়া, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের রিজিয়া খাতুন ও দামুড়হুদা উপজেলা শহরের মাদ্রাসাপাড়ার ফাতেমা খাতুন একই দিন হোম আইসোলেশনে মারা যান।

জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের এপ্রিল মাসে জেলা প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই মাসে ২৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ২২ শতাংশ। সেখানে ২২ জুন জেলায় শনাক্তের হার গিয়ে দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৭৫ শতাংশে।

Loading...