চীনে এবার আঘাত হানল টাইফুন ইন-ফা

চীনে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যায় আক্রান্ত হবার পর এবার আঘাত হেনেছে টাইফুন ইন-ফা। আজ চীনের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেশটির পূর্ব উপকূলের ঝউশান শহরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরটির বাসিন্দাদের নিরাপদে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, টাইফুনের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে  পড়েছে।  উপকূলবর্তী এলাকাগুলো বন্যার ঝুঁকির মধ্যেও পড়তে পারে। এছাড়া ইন-ফার কারণে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বর্তমানে বাণিজ্য নগরী সাংহাইয়ের  একটি বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে  ছোট-বড় শতশত  জাহাজ। ইতোমধ্যে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে শহরটিতে বেশ কিছু পার্ক ও জাদুঘর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইন-ফার প্রভাবে ঝউশান শহরে বিমান ও রেলসেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝেজিয়াং প্রদেশে কর্তৃপক্ষ স্কুল, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে  স্থানীয় প্রশাসন। 

এদিকে টাইফুন ইন-ফা নিয়ে জাপান ও চীনের আবহাওয়া অধিদপ্তর  পূর্বাভাস দিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব উপকূল থেকে টাইফুনটি পশ্চিমে হ্যাংঝউ শহরের দিকে এগিয়ে যাবে। চীনের ন্যাশনাল মেটেরোলজিক্যাল সেন্টারে বরাতে জানা যায়, রোববার থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ‘টানা ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে’। তারা উপকূলবর্তী এলাকা গুলোতে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যাতে করে  যথাসম্ভব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা করা যায়। এদিকে বন্যায় বিপর্যস্ত চীনের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে এখন  অব্দি অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।  কোটি কোটি মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এর মধ্যে পড়েছে।  পরিস্থিতি সামাল দিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উদ্ধারকর্মীরা।  তবে এরই মধ্যে নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়  টাইফুন ইন-ফার কারণে  নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা। 

 

সম্পাদনা: আরিফুল ইসলাম লিখন।

চীনের অদ্ভুত খাবারগুলো নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনটি দেখুন:

Loading...