চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, ভুয়া সাংসদসহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিনিধি

সাংসদ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অফিসে তদবির করেন, করেন চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা। এই ভুয়া সাংসদ জহির উদ্দিন বাবুলকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সহযোগী গুলশান আরা খানমকে (৪৪)।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গতকাল বুধবার অভিযান চালিয়ে ঢাকার ফকিরাপুল থেকে জহির উদ্দিন বাবুলকে এবং ময়মনসিংহ মহানগরীর সানিকপাড়া থেকে গুলশান আরা খানমকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, একজন প্রয়াত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী গুলশান আরা খানম। তিনি গ্রামের সহজ–সরল নারীদের ফাঁদে ফেলে তাঁদের ছেলেমেয়েদের ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। গ্রেপ্তারের পর গুলশান আরা খানমের কাছ থেকে আটটি চেক উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে চেকগুলোয় ৪৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ আছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রতারণাকাজের মূল হোতা জহির উদ্দিন বাবুল। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর গ্রামে। অতীতে তিনি বাজিতপুর-নিকলী (কিশোরগঞ্জ-৫) আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কোনোবারই জয়লাভ করতে পারেনি। তিনি নিজেকে সব জায়গায় ফোন করে সাংসদ বলে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন অফিসে তদবির করতেন। তিন বছর ধরে তিনি বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে আসছিলেন।

প্রতারণার শিকার ময়মনসিংহ মহানগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ভাষ্য, গুলশান আরা খানম নিজেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বজন পরিচয় দিয়ে তাঁর ভাতিজা ও ভাতিজিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত জানুয়ারি মাসে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি করে। নগদ ৬ লাখ টাকা এবং বাকি টাকার জন্য ৫টি ফাঁকা চেক সই করিয়ে নেন। গুলশান খালি চেকগুলোয় ২০ লাখ টাকা বসিয়ে উল্টো তাঁদের কাছে উকিল নোটিশ পাঠান।

মহানগরীর বাউন্ডারি রোড এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ ও ফাঁকা চেক নিয়েছিলেন গুলশান আরা। কিন্তু তাঁর চাকরি হয়নি। অর্থ ফেরত না পেয়ে তিনি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেল পর্যন্ত এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ছয়জন লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ দুজনকে গ্রেপ্তারের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Loading...