চলে গেলেন সত্যজিতের ‘বিমলা’

বিনোদন ডেস্ক

সত্তরের দশকে ভারতের এলাহাবাদে নাট্যমঞ্চে স্বাতীলেখার অভিনয়জীবন শুরু। কলকাতায় আসার পর ১৯৭৮ সালে নাট্যদল নান্দীকারে যোগ দেন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চনাটকের সংগীতেও কাজ করতেন। পিয়ানো আর বেহালাতেও পারদর্শিতা ছিল। এ দলে কাজের সূত্রেই নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে পরিচয় ও পরে বিয়ে।

সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’-এর একটি দৃশ্যে স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’-এর একটি দৃশ্যে স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

১৯৮৪ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’-র ‘বিমলা’ হন স্বাতীলেখা। ক্যারিয়ারের শুরুতে সুচিত্রা সেনকে বিমলা করে এই ছবিটা করতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ। নানা কারণে তখন আর সেটা হয়ে ওঠেনি। ‘ঘরে বাইরে’তে স্বাতীলেখার সহশিল্পী ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং ভিক্টর ব্যানার্জি। সেই থেকে সৌমিত্র ও স্বাতীলেখার জুটিকে পছন্দ করেছিলেন অনুরাগীরা। দীর্ঘ ৩১ বছর পরে ‘বেলা শেষে’-তে আবার একত্রে কাজ করে এই জুটি।

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই ছবিতেও সৌমিত্র-স্বাতীলেখার রসায়ন দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। মাঝখানের সময়টা মঞ্চই ছিল তাঁর বেশি আপন।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের  ‘বেলা শেষে’-তে অভিনয়
করেছেন স্বাতীলেখা

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বেলা শেষে’-তে অভিনয় করেছেন স্বাতীলেখা

‘পাঞ্চজন্য’, ‘বিপন্নতা’, ‘নাচনী’, ‘অযত্নবাস’, ‘পাতা ঝরে যায়’-এর মতো বহু নাটকে তাঁর অভিনয় অবিস্মরণীয়। স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত অভিনীত ‘ধর্মযুদ্ধ’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগেই চলে গেলেন তিনি। গত নভেম্বরে চলে যান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বুধবারে স্বাতীলেখাও যেন তাঁর পথ ধরলেন।
২০১১ সালে ভারতীয় থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য তিনি সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার পান। পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

Loading...