গোটা বাড়িটাই যেনো বোমা

বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে ৮ হাজার ২০০ লিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড আর ঘরের ভেতরে আড়াই হাজার লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড। মোট ১১ হাজার লিটার অ্যাসিড একটি বাড়িতেই মজুত করে রাখা। গোটা বাড়িটাই যেন একটি বোমা। যেকোনো সময় ঘটতে পারত ভয়াবহ বিস্ফোরণসহ অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা।

যশোর সদর উপজেলার কেসমত-নওয়াপাড়া গ্রামের ওই বাড়িতেই গড়ে তোলা হয়েছে নকল পরিষ্কারক তৈরির অনুমোদনহীন কারখানা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেন।

কারখানার স্বত্বাধিকারী মামুন-অর-রশিদকে (৩৮) আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মামুন–অর–রশিদ যশোর সদর উপজেলার কেসমত–নওয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, কেসমত–নওয়াপাড়া গ্রামের আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির মধ্যে নকল পরিষ্কারক তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে যান। অভিযানে দেখা যায়, কারখানায় কোনো পরীক্ষাগার নেই। কোনো রসায়নবিদ নেই। বিজ্ঞানশাস্ত্রের জ্ঞান নেই এমন শ্রমিকদের দিয়ে ‘পাওয়ার ভিকসল’ ও ‘পাওয়ার হ্যান্ডওয়াশ’ নামে নকল পরিষ্কারক তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোদন নেই। অথচ বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে মজুত করে রাখা হয়েছে ৪১টি ব্যারেলে ৮ হাজার ২০০ লিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড এবং ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে ৫২টি ব্যারেলে ২ হাজার ৬০০ লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড। এগুলো অতি দাহ্য পদার্থ। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা না হলে যেকোনো সময় বিস্ফোরণসহ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে মজুত করে রাখা হয়েছে ৪১টি ব্যারেলে ৮ হাজার ২০০ লিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। ছবি: প্রথম আলো

বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে মজুত করে রাখা হয়েছে ৪১টি ব্যারেলে ৮ হাজার ২০০ লিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। ছবি: প্রথম আলো

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আতিকুর রহমান বলেন, কারখানাটির কোনোই অনুমোদন নেই। একটি বাড়ির ভেতরে কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে কোনো যন্ত্রপাতি বা কোনো রসায়নবিদ নেই। শ্রমিকেরা ইচ্ছেমতো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের মিশ্রণ করে পরিষ্কারক তৈরি করে বাজারজাত করছেন, যা শরীরের কোথাও লাগলে পুড়ে ফোসকা পড়াসহ ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া অসতর্কতার কারণে বিস্ফোরণও ঘটতে পারে। এসব কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী কারখানার স্বত্বাধিকারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Loading...