Ultimate magazine theme for WordPress.

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে বড় জয় বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ে বলেই হয়ত উত্তেজনার ছিটেফোটাও ছিলো না। জয়টা প্রত্যাশিত ছিলো, তবে ব্যবধানটা কেমন হবে সেটা নিয়েই যত আগ্রহ টাইগার সমর্থকদের। সমর্থকদের সেই আশার প্রতিদান দিয়েছে টাইগাররা। ১৬৯ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। রানের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় জয় এটি।

৩২২ রান তাড়া করতে নেমে কখনই ম্যাচে ছিলো না সফরকারীরা। শুরু থেকে তাদের চেপে ধরে টাইগার বোলাররা। উইকেট নেয়া শুরু করে ৭ মাস পর দলে ফেরা সাইফউদ্দিন। তার জোড়া আঘাতের পর অধিনায়ক মাশরাফি আঘাত হানে। এরপর তাইজুলের আঘাত। ৪৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

ওখানে আর ফিরে আসতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা চেষ্টা করলেও পারেননি তিনি। দলীয় ৭৯ রানে কাস্টার মাস্টার ফেরান তাকে, বিদায়ের আগে মাত্র ১৮ রান করেন এই অলরাউন্ডার। এর ঠিক ৫ রান পরই ফেরেন মাধেভেরে। এবার স্পট লাইনে মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ যখন মাধেভেরেকে ফেরালেন তখন জিম্বাবুয়ের দলীয় রান ৮৪। এরপর অলআউট হয় ১৫২ রানে। ফলে ১৬৯ রানের রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩টি, মাশরাফি বিন মর্তুজা ২টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি, মোস্তাফিজুর রহমান ১টি তাইজুল ইসলাম ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

রবিবার (১ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের উড়ন্ত সূচনা মাশরাফির সিদ্ধান্তের যথার্থতার প্রমাণ দেয়। ওপেনিংয়ে ৬০ রান তোলেন এ জুটি। ব্যক্তিগত ২৪ রানে উইসলি মাধেভেরের এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তামিম। অবশ্য ব্যাটিংয়ে তেমন সাবলীল ছিলেন না তিনি।

তবে শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দে ছিলেন লিটন দাস। ছন্দময় ব্যাট করেন তিনি। ব্যাটে ছোটান স্ট্রোকের ফুলঝুরিতে ফিফটি তুলে নেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। সেই যাত্রায় তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিজে নামার পর থেকেই জিম্বাবুয়ে বোলারদের শাসান তিনি। তেড়েফুড়ে খেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

কিন্তু বিধিবাম! আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শান্ত। তিনোতেন্দা মুতম্বোদজির বলে ফেরার আগে ২৯ রান করেন তিনি। পরে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, ইম্প্যাক্ট ছিল স্টাম্পের বাইরে। বলটি কোনোভাবেই স্টাম্পে লাগছিল না। রিভিউ ছিল না বলে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি শান্ত। কারণ, আগেই তা নষ্ট করেন তামিম। তাতে ভাঙে ৮০ রানের জুটি।

তবে আস্থার সঙ্গে খেলে যান লিটন। ব্যাটে ছোটান রানের ফোয়ারা। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। দ্বিতীয়বারের মতো তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন এ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেন এ ব্যাটার। দুই বছর পর পেলেন আরেকটি। তিন অংক ছোঁয়ার পথে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ১ ছক্কা।

এসময়ে তার সঙ্গে জোট বাঁধেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ খেলেন তারা। তাতে দ্রুত ঘোরে বাংলাদেশের রানের চাকা। বড় স্কোরের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে হঠাৎ ছন্দপতন। লিটনের সেঞ্চুরির পরই বিদায় নেন মুশফিক। ডোনাল্ড তিরিপানোর শিকার হওয়ার আগে তিনি করেন ১৯ রান। তবে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি একমাত্র টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

ক্রিজে নামার পর থেকেই ব্যাট হাতে স্বচ্ছন্দে ছিলেন লিটন। তবে শরীরটা ফিট ছিল না! সময় গড়ানোর সঙ্গে পা বেশ ভোগায়। রান নিতে খোঁড়ান। মাধেভেরেকে বিশাল ছক্কা হাঁকানোর পর আর পারেননি তিনি। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন লিটন। এর আগে ছাড়িয়ে যান ওয়ানডেতে নিজের আগের সেরা ইনিংস।

আগের ওভারেই তিরিপানোকে ৩টি চার মারেন লিটন। একবার হেলমেটে বল লাগলেও থমকে যাননি। কিন্তু মাধেভেরেকে ছক্কা মারার পর মাঠ ছাড়তেই হয় তাকে। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফেরত আসেন তিনি। এসময় তার রান ছিল ১০৫ বলে ১২৬। সেই পথে ১৩ চার ও ২ ছক্কা মারেন লিটন। ওয়ানডেতে তার আগের সেরা ভারতের বিপক্ষে ১২১, এশিয়া কাপে।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তোলেন মোহাম্মদ মিঠুন। তাকে যথার্থ সমর্থন দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনই একের পর এক চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। কিন্তু অতি আগ্রাসী হতে গিয়েই সর্বনাশ। ক্রিস এমপফুর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিনিশ হন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে ৩২ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হাতে পারেননি মিঠুন। ওডিআই ক্যারিয়ারে পঞ্চম ফিফটি হাঁকানোর পরই ফেরেন তিনি। প্যাভিলিয়নে ফেরত আসার আগে ৪১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় কাঁটায় ৫০ রান করেন এ মিডলঅর্ডার। সেই রেশ না কাটতেই কার্ল মুম্বার বলির পাঁঠা হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে রানের গতিতে ভাটা পড়েনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.