খুলনায় একদিনে আরো ৬০ জনের মৃত্যু

একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরো এক হাজার ৫৯১ জনের

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে আরো ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৫৯১ জনের। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। রোববার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় ১৪ জন, বাগেরহাটে দুই জন, যশোরে ছয় জন, নড়াইলে সাত জন, মাগুরায় চার জন, ঝিনাইদহে তিন জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ছয় জন ও মেহেরপুরে পাঁচ জন মারা গেছেন।

এর আগে শনিবার খুলনা বিভাগে করোনায় ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আর গত ৯ জুলাই বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

গত বছরের ১৯ মার্চ খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায়। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৭১ হাজার ৫৫০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মারা গেছেন এক হাজার ৫৯৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ হাজার ২৯৯ জন।

এদিকে, ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোববার ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২১’ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

জেলা পর্যায়ে করোনায় মৃত্যুহার কমানো রোধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, গতকাল ও পরশু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে খুলনায় দেখা গেছে, প্রান্তিক প্রর্যায়ে, একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে সংক্রমণটা বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়নে যারা বসবাস করেন বিশেষ করে বয়স্করা বেশি মৃত্যুবরণ করছেন। কারণগুলো দেখলাম, যারা ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাস করেন, তারা অতোটা সচেতন নয়। তারা আক্রান্ত হলে মনে করেন সর্দি-কাশি হচ্ছে। যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছে, আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। নরমাল সর্দিকাশি মনে করে দেরি করে। দেরি করার পর যখন শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তখন হাসপাতালে আসে, দেখা যায় তাদের ফুসফুসের ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অক্সিজেন লেভেলও ৭০/৮০ তে মেনে গেছে। ওই রকম পর্যায়ে তাকে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, এই ধরণের পরিস্থিতির কারণে ওখানে মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে। ভারতের বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টও অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অ্যাগ্রেসিভ। ভারতের আবহাওয়া ও খাদ্যাভাস একই রকম এজন্য তারাও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে বেশি।

তিনি বলেন, এই বিষয়টাকে আমরা সামনে রেখে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা ওই এরিয়াতে নতুন করোনা হাসপাতালে স্থাপনের চেষ্টা করছি। সেটা আমরা অলরেডি নির্দেশনা দিয়েছি, সেটার কাজ চলছে। ওখানে যতুটুকু বেড বাড়ানো সম্ভব, বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যেহেতু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, আমরা জনবলও বৃদ্ধি করেছি। ওষুধ ও অক্সিজেনও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক আরো বলেন, মানুষকে সচেতন করতে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন করেছি। কমিটি ছিলো ওটাকে আরো জোরদার করা। চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত রায়েছেন কমিটিতে তাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটি সার্বক্ষণিক মনিটর করবে। যে অসুস্থ হলো, অসুস্থ ব্যক্তির জ্বরটা দেখে নেবে, অক্সিজেন লেভেলে দেখবে। যদি দেখে এটা নেমে যাচ্ছে তাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করবে।

তিনি বলেন, এই ব্যবস্থাটুকু আমরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে করেছি। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা কমিটিতে আবারো নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সেটা ক্যাবিনেট, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও দেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ আমরা বর্তমানে গ্রহণ করেছি। যার মাধ্যমে আমরা মনে করি সংক্রমণ কিছুটা কমবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করা উচিত জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানি পশু কেনার সময় যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, এদিকেও আমরা খেয়াল রাখতে বলেছি।

আর, করোনার এই দু:সময়ে ভ্যাকসিন নিয়ে যারা হাহাকার করে তারা রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সমালোচনা যারা করেন তারা সমালোচনা জন্য সমালোচনা করেন। ভ্যাকসিন নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। যারা এ নিয়ে কৃত্রিম সংকটের কথা বলেন তা ঠিক নয়। এ নিয়ে যারা হাহাকার করে তারা রাজনীতি করছে।

তিনি বলেন, এখন কোন রাজনীতি নয়। করোনার এই সংকটে একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর এটাই এখন আওয়ামী লীগের একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি। করোনা মহামারিতে দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যদি না থাকে তাহলে সংগঠন দিয়ে কি হবে!

জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজের সুরক্ষার জন্য হলেও সঠিকভাবে ও শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। অমনোযোগিতা ও অসাবধানতার জন্য করোনা সংক্রমণ বাড়ছে।

রূপগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগ দায়ি বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল হয়তো কোনও একসময় বলবেন বজ্রপাতে কেউ মারা গেলে তার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী! রূপগঞ্জের ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। যে সকল প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের ঝুঁকিতে রেখে ব্যবসা করছে তাদের জন্য রূপগঞ্জের ঘটনা সতর্কবার্তা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির।

Loading...