র‍্যাব হেফাজতে কেমন ছিলেন পরীমনি

 

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বাস করা চিত্রনায়িকা পরীমনির ভিন্ন রকম দিন কাটল। বুধবার রাতে আটক হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আদালতে হাজির করার আগপর্যন্ত ২০ ঘণ্টার মতো র‍্যাব সদর দপ্তরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে আদালতে হাজির করে মাদকের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরীমনিকে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। আদালত তাঁর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

এর আগে বুধবার বিকেলে বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে মদ ও বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করে র‍্যাব। অভিযান শেষে মধ্যরাতে তাঁকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি।

র‍্যাব সূত্র জানায়, পরীমনিকে র‍্যাব সদর দপ্তরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়। সেখানে আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে সদর দপ্তর পৌঁছানোর পর পছন্দমতো পরীমনি দুটি সেদ্ধ ডিম, ভাত ও চায়নিজ সবজি খান। এ ছাড়া তাঁকে লেমন জুস দেওয়া হয়। সকালে পরীমনিকে দেওয়া হয় পরোটা, সেদ্ধ ডিম ও গরুর মাংস। পরীমনি দুপুরে খেয়েছেন ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি-ডাল।

র‍্যাব হেফাজতে কেমন ছিলেন পরীমনি

একাধিক র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, পরীমনি যতক্ষণ র‌্যাব সদর দপ্তরে ছিলেন, একটু পরপরই তিনি লেমন জুস চেয়ে খেয়েছেন। র‌্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক।

র‍্যাব হেফাজতে পরীমনি কেমন ছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাইরুল ইসলামের কাছে। জবাবে তিনি একেটিভিকে বলেন, র‍্যাব সদর দপ্তরের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে রাখা হয়েছিল পরীমনিকে। তাঁর আচরণ ছিল স্বাভাবিক। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি র‍্যাব কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেছেন।

 

গত জুনে রাজধানীর অদূরে বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে তাঁকে হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে বলে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন পরীমনি। পরে তাঁর মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী ওরফে অমিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন এখন জামিনে মুক্ত।

গতকাল বিকালে পরীমনির বাসায় যায় র‍্যাবের একটি দল। এ সময় পরীমনি ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। এ সময় তিনি থানা-পুলিশ, ডিবির কর্মকর্তা ও পরিচিতজনদের কাছে ফোন করে তাঁকে রক্ষার আকুতি জানান। র‍্যাবের সদস্যরা বারবার পরিচয় দিলেও ভেতর থেকে দরজা খুলছিলেন না পরীমনি।

একপর্যায়ে দরজা খুলে দেওয়া হলে র‍্যাবের সদস্যরা ভেতরে ঢোকেন। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। একপর্যায়ের পরীমনিকে আটক করা হয়। অভিযান শেষ র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরীমনির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াইন, আইস, এলএসডি ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

পরীমনিকে আটকের পর রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজকে আটক করে র‍্যাব। পরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরীমনি ও নজরুল রাজসহ এই চক্র ডিজে পার্টির আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করত। এসব অর্থ তারা বিভিন্ন ব্যবসার কাজে লাগাত।

 

এদিকে রাতে পরীমনির মামলা তদন্তের দায়িত্বভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরীমণির বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি’র বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। সর্বশেষ প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানের পর বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব।

তার বাসা থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে— বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, নতুন মাদক এলএসডি ও আইস।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রায়ই রাতেই মাতাল হয়ে দলবেঁধে বিভিন্ন ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করতেন না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তার বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গত ১৪ জুন প্রথমে ফেসবুকে ও পরে সংবাদ সম্মেলন করে নাসির ইউ মাহমুদ নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ আসতে থাকে। তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনের নানা দিক নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা।

 

 

১৪ জুন প্রথমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন তিনি। ফেসবুকে অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর ওইদিন রাতে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ী ও ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেন, ৮ জুন তিনি ঢাকা বোট ক্লাবে গেলে সেখানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার সঙ্গীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেছেন।

পরদিন নাসির ইউ মাহমুদসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় নাসির ইউ মাহমুদসহ দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়। ১৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান নাসির ইউ মাহমুদ।

এর একদিন পর ১৬ জুন অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয় পরীমণির বিরুদ্ধে। তখন অল কমিউনিটি ক্লাবের সভাপতি কে এম আলমগীর ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, বোট ক্লাবের ঘটনার আগের দিন পরীমণি একজন সদস্যের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়ে কমিউনিটি ক্লাবে আসেন। তার পোশাক ও আচার-আচরণ দেখে তাকে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

 

 

তখন পরীমণি চিৎকার ও চেচামেচি শুরু করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫-২০টি গ্লাস ও ছাইদানী ছুঁড়ে মারেন এবং ভাঙচুর করেন।

গুলশান থানা পুলিশও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯–এর একটি কলে গুলশান থানা-পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কথা-কাটাকাটির জেরে ক্লাবে গ্লাস ভাঙচুর করেছেন পরীমণি। পরে আর ওই ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি।

পরীমণির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হচ্ছে— প্রায়ই তিনি মধ্য রাতে মাতাল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। মানতেন না কোনও নিয়ম। নিজের খেয়াল ‍খুশি অনুযায়ী, গভীর রাতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে দল বেঁধে মদপান করতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, তার কারণে প্রায়ই বিভিন্ন ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। এক ক্লাবে কিছু সময় কাটিয়ে আর যেতেন অন্য ক্লাবে।

 

 

চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযানের পর বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদসহ তাকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। র‍্যাব সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বিপুল পরিমাণে মাদকসহ পরীমনিকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরীমনিকে বাসা থেকে বের করা হয়নি।

এর আগে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় বিকেল ৪টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযান শুরুর ৩০ মিনিট পর তার বাসায় একে একে তিন থেকে চারজন র‍্যাবের নারী সদস্যকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপরই পরীমণিকে আটক করা হতে পারে বা হয়েছে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাকে আটক করার জন্যই র‍্যাবের নারী সদস্যরা বাসার ভেতরে গিয়েছেন বলে মনে করছেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।

 

 

অভিযানে থাকা র‍্যাবের সদস্যরা ছাড়া বাসার ভেতরে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাসার প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে র‍্যাব।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমণির বনানীর লেক ভিউ ১৯/এ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে র‍্যাবের এ অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

 

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণির বাসায় অভিযান

পরীমণির বাসার মূল গেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র‍্যাব-১ এর কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, র‍্যাব সদর দফতরের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা সদরদফতরের টিমকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে এসেছি। তিনি বলেন, আমরা মূলত অভিযানস্থলের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছি। তবে কী কারণে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তাকে আটক করা হবে কি না এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।

এর আগে, র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

অভিযান চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরীমণি তার বাসার বারান্দায় এসে নিচে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের উপরে ওঠার জন্য ডাকতে থাকেন। এর আগে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, তার বনানীর বাসায় কেউ হামলা চালিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই লাইভ ভিডিও ভাইরাল হয়।

গত জুন মাসে রাজধানীর একটি ক্লাবে পরীমণিকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান। এরপর তা আমলে নেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত নাসির ইউ আহমেদ গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি পরীমণি

জটিল রোগে আক্রান্ত পরীমণি

অনেকদিন ধরেই ভার্টিগো রোগে ভুগছেন পরীমণি। লকডাউনের আগে ভারতে গিয়ে লম্বা সময় চিকিৎসাও করিয়েছেন। কিন্তু উন্নতি সেভাবে হয়নি।

গুরুতর অসুস্থ পরীমণি দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে। ৩ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্টাটাসে নিজের অসুস্থতার কথা জানান।

 

তিনি বলেন, রোগটি এখন মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে বলে আমি অনুভব করছি। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরী।

লকডাউনের পুরোটা কাটিয়েছেন বাসাতেই। মাঝে ‌প্রীতিলতার লুক নিয়ে কিছুদিন কাজ করলেও এখন রয়েছেন বিশ্রামে।

 

 

ভার্টিগো হলো এমন একটি অসুখ বা অনুভূতি, যাতে আপনি বা আপনার চারপাশের পরিবেশ নড়াচড়া করছে বা ঘুরছে বলে মনে হবে। এটি ক্রমশ এতো তীব্র হতে পারে যে, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে চলমান লকডাউনের কারণে, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়াও পরীর জন্য জটিল হয়ে গেল। তবে আগের চিকিৎসাপত্র অনুসরণ করেই ঔষধ সেবন করছেন বলে জানান পরী।

 

আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব

 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, তার বনানীর বাসায় কেউ অভিযানে গিয়েছে। বুধবার বিকেলের দিকে পরিমণির বনানীর লেক ভিউ ১৯/এ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান শুরু হয়। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান করছে

 

 

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় র‍্যাব অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

অভিযান চলাকালে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরীমণি তার বাসার বারান্দায় এসে নিচে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের উপরে ওঠার জন্য ডাকতে থাকেন। এ সময় তিনি ভবনের পাঁচতলার বারান্দায় এসে সাংবাদিকদের বলেন, ভাই আপনারা উপরে কেন আসছেন না, আপনারা উপরে আসেন।

 

 

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পরীমণির বাসার নিচে দেখা যায়, র‍্যাব-১ এর একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া, পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িও রয়েছে। বাসার আশপাশে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। মূল গেটের সামনে কয়েকজন র‍্যাব সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছিলেন র‌্যাবের কয়েকজন নারী সদস্যও।

জানা গেছে, পরীমণির বাসার মূল ফটক বন্ধ করে র‍্যাব সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে র‍্যাবের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা না থাকায় প্রাথমিকভাবে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সেখানে দায়িত্বরত এক র‍্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযানটি মূলত পরিচালনা করছে র‍্যাব সদর দফতর, সহযোগিতায় রয়েছেন র‍্যাব-১ এর সদস্যরা।

এর আগে, ফেসবুক লাইভে এসে পরীমণি অভিযোগ করেন, তার বাসায় বিভিন্ন পোশাকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে বলছেন। কিন্তু তিনি দরজা খুলতে ভয় পাচ্ছেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

পরীমণি লাইভে বলেন, ওই ব্যক্তিরা বাসার গেট ভেঙে উপরে এসে বারবার কলিং বেল বাজাচ্ছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশের লোক বলে দাবি করছেন। যদিও তাদের গায়ে বিভিন্ন রঙের পোশাক থাকায় বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।

এই অবস্থায় পরীমণি বনানী থানায় যোগাযোগ করেছেন বলেও লাইভে জানান। সেখান থেকে ফোর্স পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো এসে পৌঁছায়নি লাইভে বলেন পরী।

পরীমণির ভাষ্য, আমি এ কারণেই ভয় পাচ্ছিলাম। এখানে আমার কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি এতো অসুস্থ। তিন দিন ধরে ঠিকমতো উঠতেই পারছি না। এক পর্যায়ে সহকর্মী, সাংবাদিক ও পরিচিতদের দ্রুত তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন আলোচিত এ অভিনেত্রী।

 

 

গত জুন মাসে রাজধানীর একটি ক্লাবে পরীমণিকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান। এরপর তা আমলে নেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত নাসির ইউ আহমেদ গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, পরীমনির বাসায় অভিযানের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের টিমের কোনো সদস্য পরীমনির বাসায় যায়নি।

মৌ ও পিয়াসার দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের দুই সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদকসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় জানিয়েছে র‌্যাব। তাঁর নাম মিশু হাসান। আজ বিকেল সোয়া চারটায় কুর্মিটোলায় র‌্যাবের সদর দপ্তরে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে।

পরীমনি

গত রোববার রাতে পিয়াসাকে গুলশানে ও মৌকে মোহাম্মদপুরে তাঁদের নিজ নিজবাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি জানায়, এ সময় দুজনের বাসা থেকে ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এই দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পিয়াসা ও মৌয়ের উদ্ধার করা ভিডিও ক্লিপগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়াসা ও মৌ তাঁদের বাসায় নাচ–গানের আসর বসাতেন। লোকজন ডেকে এনে মদ, ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করতেন। তবে পিয়াসা ও মৌয়ের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, একটি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়ায় তাঁদের মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও ১০ মডেলের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ

ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লেট নাইট পার্টি করে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করা আরও ১০-১২ জন মডেলের সন্ধান মিলেছে। তারা দু’একটি বিজ্ঞাপন ও ইউটিউবভিত্তিক নাটকে অভিনয় করে নিজেদের সামান্য পরিচিত করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ে নামে। নিজেদের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই সক্রিয়। নিজেদের মধ্যে একটি চক্র গড়ে তুলে এসব মডেলরা ব্ল্যাকমেইলিং করে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা।

সম্প্রতি এই চক্রের দুই সদস্য মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, চক্রের অধিকাংশ সদস্য ঢাকার বাইরের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা মডেল হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে আসেন। ছোট কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর নিজেদের মডেল হিসেবে তেমন প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি । আবার অনেকে ইউটিউবভিত্তিক কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে নিজেদের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে এমন ৮-১০ জন কথিত মডেল একত্রে একটি চক্র গড়ে তোলেন। যার অন্যতম সদস্য ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ।

 

পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি পরীমনি 

 

 

আরও জানা যায়, এ চক্রের সদস্যরা বিজ্ঞাপন ও নাটকে কাজের সুবাদে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে পার্টিতে যেতেন। সেখানে গিয়ে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতেন। ধনীর দুলালদের সঙ্গে সখ্যতার পর অনেক ক্ষেত্রে পার্টির পর তাদের সঙ্গে রাত কাটাতেন। লিপ্ত হতেন অসামাজিক কাজে। কথিত এসব মডেলদের মধ্যে অনেকে লেট নাইট পার্টির দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করতেন।

পার্টি শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরে এসব ধারণ করা ভিডিও এসব ধনীর দুলালদের পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করতেন চক্রটির সদস্যরা। এদের মধ্যে অনেকেই নিজদের মান-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে চক্রটিকে টাকা দিয়ে ভিডিও ডিলিট করাতেন। আর যারা টাকা দিতে রাজি হতেন না তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিত। বাধ্য হয়ে টাকা দিতেন অনেকে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের মোবাইল পরীক্ষা করে এমনই কয়েকটি ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিও দিয়েই মূলত ব্ল্যাকমেইল করা হতো।

বারে কিংবা পার্টি সেন্টারে এসব মডেলদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই লেট নাইট পার্টি হতো

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলের বারে কিংবা পার্টি সেন্টারে এসব মডেলদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই লেট নাইট পার্টি হতো। এসব পার্টিতে সমাজের বিত্তশালী পরিবারের সদস্যরা আসতেন। তারা মদ্যপান ও নাচ-গান করে রাত কাটাতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে নিয়মিত লেট নাইট পার্টিতে যেতেন এমন ১০ ধনীর দুলালকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও তাদের কড়া নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।

মডেল চক্রের বিষয়ে ডিবি দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, এমন একটি চক্র রাজধানীতে সক্রিয় আছে জানতে পেরে তারা বারিধারা থেকে পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌকে গ্রেফতার করেন। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের বিষয়ে অনেক তথ্যই তারা জানতে পেরেছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তারা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত গত রোববার রাতে রাজধানীর বারিধারায় থেকে পিয়াসা ও মোহাম্মদপুর থেকে মৌকে গ্রেফতার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারের সময় দুজনের কাছ থেকে মাদক ও ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে গুলশান থানায় পিয়াসার বিরুদ্ধে ও মোহাম্মদপুর থানায় মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। পরে সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত পিয়াসা ও মৌকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

নারী দেহের যে ৫টি অঙ্গ বড় হলে সৌভাগ্যবতী হিসেবে ভাবা হয়

 

 

 

শিল্পার স্বামীর পর্নো ব্যবসার জাল কলকাতা পর্যন্ত ছড়ানো

খবর হয় যে কলকাতা ও শহরতলিগুলোর বুকে পর্নোগ্রাফি র‍্যাকেট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আর এর জালে জড়িয়ে পড়ছেন অসংখ্য তরুণী। বিদেশি ওটিটিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে বলে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও বানানো হয়। আর এই সবকিছু পর্নো সাইটে আপলোড করা হয়।

 

তাঁদের প্রাণের হুমকি দিয়ে এসব ছবি এবং ভিডিও বানানো হয় বলে অভিযোগ। প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত এক নারী এ ব্যাপারে নিউটাউন পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করেছেন। ওই নারীর অভিযোগ, তাঁকে মডেলিংয়ে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আর সেই সুযোগে তাঁর ভিডিও তোলা হয়। পরে এই ভিডিওর ভিত্তিতে নারীটিকে ব্ল্যাকমেল করে তাঁর অশ্লীল ভিডিও বানানো হয়।

আর এই ভিডিও পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। নারীটির অভিযোগ, রাজ কুন্দ্রার ওয়েবসাইটে এসব ভিডিও পোস্ট করা হয়। সোদপুরের এক নারীও এই পর্নোগ্রাফি জালে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।

 

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, তারা রাজ কুন্দ্রার আরও দুই-তিনটি অ্যাপের লিংক তদন্ত করছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ, রাজ তাঁর কোম্পানি ‘ভিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ’–এর মাধ্যমে অশ্লীল অ্যাপ ‘হটশটস’ চালাতেন।

ফেব্রুয়ারিতে রাজের বিরুদ্ধে অশ্লীল ব্যবসা করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ রাজকে জেরার আগে এ–সম্পর্কিত সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিল। এরপর ১৯ জুলাই রাতে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায়। প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত রাজকে ১৪ দিন জেলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত

 

আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি

আমি যে মাধ্যমে কাজ করি, সেই মাধ্যমটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে আমি একটি পরিবারের সদস্য মনে করি। প্রযোজক, পরিচালক কিংবা শিল্পী-কলাকুশলী, আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য। আমি আমার নাট্য পরিবারের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ভুলে তাদেরও কষ্ট দিয়েছি।

ঘটে যাওয়া ভুলের জন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। ভুল থেকে আমি, আমরা নতুন করে শিক্ষা নিয়েছি। একই সঙ্গে নিজের সামাজিক অবস্থান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারছি। আমি দুঃখিত, লজ্জিত, বিব্রত এবং অনুতপ্ত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সামাজিক যেকোনো বিষয়ে আমি, আমরা আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল থাকব।

 

 

বিশেষ শিশুদের প্রতি আমার বিশ্বাস, ভালোবাসা বরাবরই ছিল। এক ভুলে তা শেষ হয়ে যেতে দেব না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বিশেষ শিশুদের কল্যাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাব। কারণ আজকের শিশুরা আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আমাদের সম্পদ।
আমার নাট্য পরিবারের প্রতিটি সংগঠন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের উদ্দেশে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি, আমরা সুন্দর এবং শুদ্ধ শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যাবো।

সম্প্রতি ছোট পর্দার সংগঠনগুলো ‘ঘটনা সত্য’ নাটকে অভিনয়শিল্পী কলাকুশলীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসেন। সেখানে ‘নাটকটি কোনোভাবেই আর পরিবর্তন পরিবর্ধন করে ইউটিউবসহ অন্য যেকোনো মাধ্যমে প্রচার করা যাবে না’সহ বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তিনি মনে করেন, কুমোর পদত্যাগ করা উচিত। তবে কুমো এখনো বলছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা রাজনীতিবিদের মধ্যে কুমো অন্যতম। তিনি একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি এবং ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে পাওয়া গেছে। তাঁকে অভিশংসনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের মামলা তাঁকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

 

 

একের পর এক নারীর অভিযোগের পর গত মার্চ মাসে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার ঘোষণা দেন।

কুমো শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। ৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্ত দলের তদন্তে পাওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে অ্যাটর্নি জেনারেল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

 

 

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত তিন মাসব্যাপী তদন্ত দল অভিযোগকারী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্ত দলের পক্ষ থেকে গভর্নর কুমোকেও ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সাক্ষ্য ও আলামতের বিস্তারিত তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুমো অঙ্গরাজ্যের বর্তমান ও সাবেক নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি করেছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, সাহসী নারীরা এগিয়ে না এলে কিছুতেই তদন্ত করা সম্ভব হতো না।

 

শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা শিল্পা 

 

তদন্ত দলের অন্যতম সদস্য আইনজীবী জুন কিম বলেছেন, কোনো কোনো নারীকে কুমো অপ্রত্যাশিতভাবে স্পর্শ করেছেন। এমনকি তিনি অভিযোগকারী কোনো কোনো নারীর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ স্পর্শ করেছেন, যা ছিল অভিযোগকারী নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। পীড়নের শিকার নারীরা কুমোর আচরণে বিরক্ত হয়েছেন। অপমানিতবোধ করেছেন। তদন্তে তা উঠে এসেছে।

কুমোর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত দলের সদস্য হিসেবে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিষয়ক আইনের বিশেষজ্ঞ অ্যানি ক্লার্কও কাজ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গভর্নর কুমো এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনা যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, প্রকৃত চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

 

কুমো আবার দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেননি। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনতামূলক কোনো কাজ তিনি করেননি।

কুমো বলেন, ‘আমি ৬৩ বছর বয়সী একজন মানুষ। আমার সারা জীবনই জনসমক্ষে কেটেছে। আমি কখনো এমন লোক নই।’

কুমো নিজের পক্ষে সাফাই দিতে ৮৫ পৃষ্ঠার একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, তিনি নারী-পুরুষদের নানাভাবে চুমু দিচ্ছেন। স্পর্শ করছেন। কপাল, থুতনি ও হাতে চুমু দেওয়া তাঁর স্বভাবজাত বলে দাবি কুমোর।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, গভর্নর কুমোর পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কুমোর সঙ্গে কথা হয়নি এবং প্রতিবেদন নিজে দেখেননি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, অঙ্গরাজ্য আইনসভায় গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন।

 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার স্পিকার কার্ল হেইস্টি বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত হাতে পাওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মার্কিন কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও কুমোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। জাতীয়ভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির তারকা নেতা কুমোর পক্ষে এখন দলের আর কেউ প্রকাশ্যে নেই।

 

 

প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় গভর্নর কুমো চতুর্থবারের মতো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। করোনা মহামারি মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। তবে নার্সিংহোমে করোনায় মৃত্যুর হিসাব ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে তিনি সমালোচনায় পড়েন। এ নিয়েও ফেডারেল তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গত বছরের মধ্যভাগ থেকে একের পর এক নারী কুমোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে কুমো চাপে পড়েন। অঙ্গরাজ্য গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগসহ তাঁর অভিশংসনের দাবি উঠতে থাকে। স্বাধীন তদন্তের প্রতিবেদন আসার পর গভর্নর কুমোর ওপর চাপ আরও জোরালো হলো।

 

 

ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কুমোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে রাজনীতির মধ্যগগন থেকে তাঁর খসে পড়া ঠেকানো কঠিন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলে হচ্ছে।

 

যৌন হয়রানি: গভর্নর কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত শুরু

 

 

একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরু করেছেন স্থানীয় প্রসিকিউটররা।

অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক স্বাধীন তদন্তে ১১ জন নারীর আনা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর কুমোর বিরুদ্ধে এখন একাধিক অপরাধ তদন্ত শুরু হলো।

 

 

ম্যানহাটন, উয়েস্টচেস্টার ও লং আইল্যান্ড সিটি কাউন্টির প্রসিকিউটররা ৪ আগস্ট বুধবার কুমোর বিরুদ্ধে অপরাধ আইনে তদন্ত শুরুর কথা জানান। তাঁরা ইতিমধ্যে অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক সিভিল তদন্তের নথিপত্র সংগ্রহের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

 

ব্রুকলিনের সাবেক প্রসিকিউটর জুলি রেন্ডেলম্যান বলেছেন, স্বাধীন তদন্তে উঠে আসা বিবরণে যৌন হয়রানির প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনা নিশ্চিতভাবে অপরাধ আইনের আওতায় পড়বে।

৩ আগস্ট ১৬৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লাটিশিয়া জেমস। তিনি বলেন, স্বাধীন তদন্তের পর তদন্ত দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে গভর্নর কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।

গভর্নর গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর গভর্নর গভর্নর গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর  গভর্নর গভর্নর

যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা নারীদের বিরুদ্ধে কুমো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিসহ প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদেরা কুমোকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও এক সম্পাদকীয়তে একই আহ্বান জানিয়েছে।

 

তিন দফার নির্বাচিত গভর্নর কুমো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বলেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে মূল ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ না করার অবস্থানে অবিচল রয়েছেন।

 

 

কুমো বলেছেন, তিনি রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালী লোকজন কর্তৃক নয়, বরং জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত গভর্নর। তাই অন্য কারও আহ্বানে তিনি পদত্যাগ করবেন না।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের বাইরে হামলা চালিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের বাস প্ল্যাটফর্মে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই প্রতিরক্ষা দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

 

 

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাকারীর নাম অস্টিন উইলিয়াম ল্যাঞ্জ। ২৭ বছর বয়সী এই যুবক জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি মঙ্গলবার সকালে পেন্টাগনের কাছেই একটি স্টপেজে বাস থেকে নামেন। তারপর কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ কর্মকর্তা জর্জ গঞ্জালেজকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অস্টিন নিজেই নিজেকে গুলি করেন।

 

এফবিআই আরও জানায়, এই হামলার পরপরই পুলিশের অন্য সদস্যরা সেখানে যান। ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। তবে হামলাকারীর ওপর অন্য পুলিশ সদস্যরা গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা উল্লেখ করেনি এফবিআই। ঘটনাস্থল থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

 

 

হামলার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তা গঞ্জালেজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

গঞ্জালেজের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গঞ্জালেজ প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন, সেখানে আসেন—এমন মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি মারা গেছেন।

 

 

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা এক পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এফবিআই।

অস্টিন কেন এই হামলা চালিয়েছেন, সে সম্পর্কে এফবিআইয়ের বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

অস্টিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে জর্জিয়ার স্থানীয় একটি গণমাধ্যম। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের ওপর হামলা, সন্ত্রাসী হুমকি, চুরিসহ নানা অভিযোগ আছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের শহরতলি আরলিংটোনে পেন্টাগন ভবনের প্রবেশমুখের কয়েক মিটার দূরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পেন্টাগন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানরত লোকজনকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা এক ঘণ্টার বেশি সময় অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকেন। ঘটনার ৯০ মিনিট পর এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

 

পেন্টাগনের বাইরে হামলা,পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের আরলিংটনে পেন্টাগনের ওই ভবনের প্রবেশপথ থেকে কয়েক মিটার দূরে একটি বাস এবং পাতাল রেলস্টেশনে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পরপরই পেন্টাগনে অবস্থানকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গোলাগুলির ৯০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে কীভাবে ওই কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া ওই হামলার পর পাতাল রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই রুটে চলাচলকারী বাসগুলো অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। পেন্টাগনের সদর দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির প্রধান উডরো কুসে বলেন, যেখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেই স্থান এখন নিরাপদ। এই মুহূর্তে কোনো হুমকি নেই। মঙ্গলবারের ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেননি কুসে। যদিও কয়েকটি সূত্র বলেছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

 

 

এদিকে নিহত ওই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের অনেক সদস্য মোতায়েন রাখতে দেখা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লয়েড অস্টিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনে কাজ করেন এবং সেখানে নিয়মিত যান, এমন হাজার কর্মীকে বাঁচিয়েছেন তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে স্বাধীন তদন্তে উঠে এসেছে

গভর্নর

সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর

সৌদি সরকার বলছে, ২৩ আগস্টের মধ্যে যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরা সব ধরনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা তাঁদের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য লাভজনক আর্থিক কার্যক্রমের বৈধ পূর্ণ ও আংশিক মালিকানার সুযোগ পাবেন।

এই আইনের আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের সাজা ভোগ শেষে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে সৌদি আরবে তাঁদের আর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।

 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। অথবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি সব ব্যবসা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর আগের আইনে জরিমানার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ হাজার রিয়াল। অথবা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পাশাপাশি বাজেয়াপ্তের বিধান ছিল ব্যবসা ও সম্পদের ১০ শতাংশ। আইনটি সংশোধন করে এখন কঠোর করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে শাস্তি।

সৌদি সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী একেটিভিকে বলেন, ‘আমরা অনেক সৌদি নাগরিককে দেখেছি নিজে বিনিয়োগ না করেও অর্ধেক মুনাফা নিয়ে যান। কারণ, ব্যবসা তাঁর নামে। কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ যেহেতু নিষিদ্ধ, এই সুযোগ নেন সৌদি নাগরিকেরা। সৌদি সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমস্যা হবে যদি কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যবসা ভিসায় স্থানান্তর করা না হয়। এ জন্য বাংলাদেশি দূতাবাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

 

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের পর সৌদি সরকার আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি রিয়ালের বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালিকানা তাঁর নামে রাখা হবে। বাকি ২৫ শতাংশ থাকবে সরকারের মালিকানায়। কোনো বিনিয়োগকারীর বার্ষিক লেনদেন যদি ২ কোটি রিয়ালের কম হয়, সেই অনুপাতে তাঁর মালিকানা নির্ধারিত হবে। নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার পর কেউ যদি অবৈধ ব্যবসার খবর সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন সন্ধানদাতাকে ওই ব্যবসার ৩০ শতাংশ মালিকানা দিয়ে ৭০ শতাংশ সরকার নিয়ে নেবে। সৌদি আরবে এখন ২৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।

সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর

বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কর্মী ভিসায় গিয়ে গোপনে অন্য ব্যবসা করছেন—সরকারের কাছে এই খবর অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু এত বছর সৌদি সরকার ততটা কঠোর হয়নি। কিন্তু এবার এত কঠোর হওয়ার মূল কারণ, দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। সে জন্য গোপনে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের মূল স্রোতে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

 

সৌদি ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার জালাল আহমেদ একেটিভিকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে অনেকে টাকাপয়সা জমিয়ে সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা শুরু করেন। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে নির্মাণ ব্যবসা, সুপারমার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি, জনশক্তি রপ্তানি। যখন ব্যবসা বেশ বড় ও লাভজনক হয়, তখন ওই সৌদি নাগরিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে বের করে দেন। যেহেতু নিজের নামে ব্যবসার নিবন্ধন নেই, তাই আইনিভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না বাংলাদেশিরা। এখন যদি অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যবসায় নিরাপত্তা থাকবে।

আফগান পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায় নিলো তালেবান

আফগান পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তালেবান। গতকাল বৃহস্পতিবার তালেবান এ কথা স্বীকার করে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজল মোহাম্মদ। তিনি ‘খাসা জওয়ান’ নামে বেশি পরিচিত। অনলাইনে হাস্যরসাত্মক নানান ভিডিও পোস্ট করার জন্য আফগানদের কাছে তিনি তাঁর পুলিশ পরিচয়ের চেয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই বেশি পরিচিতি অর্জন করেন।

 

গভর্নর

 

ফজল কান্দাহার প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে ফেরার পর তাঁকে তালেবান তুলে নিয়ে যায়। ফজলের এক সহকর্মী এই তথ্য জানান।

ফজলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার কথা শুরুতে অস্বীকার করে তালেবান। কিন্তু গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরই তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করে তালেবান।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফজলের দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। সে অবস্থায় তিনি একটি গাড়িতে বসে আছেন। তাঁর দুই পাশে লোক বসা। এ সময় তাঁকে বারবার চড় মারা হচ্ছিল। অপর একটি ভিডিওতে ফজলের মরদেহ দেখা যায়।

 

দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশে শেখ কামালের বিরাট অবদান: প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রবর্তিত এ পুরস্কার সাতটি ক্যাটাগরিতে মোট ১০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামালের সাদাসিধে জীবনে দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন বা ক্রীড়া অঙ্গন—এসব কিছুর উন্নতি করা, এটাই ছিল তাঁর কাছে সব থেকে বড় কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, শেখ কামাল বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তন করে, খেলাধুলাকে উন্নত করে এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলে। ঠিক এর পূর্বে আবাহনী সমাজকল্যাণ সংস্থা করা হয়। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটা করার পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল, ধানমন্ডি এলাকায় তখন খেলাধুলা বা শিশুদের প্রতিভা বিকাশের কোনো সুযোগ ছিল না। তাই শিশু এবং তরুণদের জন্য একটা খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করাই ছিল কামালের উদ্দেশ্য এবং সে এ ব্যাপারে আলোচনা করেই প্রতিষ্ঠানটা গড়ে তোলে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল যেমন খেলাধুলার দিক থেকে, তেমনি সাংস্কৃতিক চর্চার দিকেও ছিল। চমৎকার গান গাইতে পারত। স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী সে গড়ে তোলে। নাট্যচর্চার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা ছিল। সুরেলা গানের গলার সঙ্গে সে চমৎকার সেতার বাজাতে পারত।’

ক্রীড়াবিদ হিসেবে রোমান সানা (আর্চারি), মাবিয়া আক্তার (ভারোত্তোলন), মাহফুজা খাতুন (সাঁতার), ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে মনজুর কাদের (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব) এবং ক্যা শৈ ল হ্ন (কারাতে ফেডারেশন), উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হিসেবে আকবর আলী (ক্রিকেট) ও ফাহাদ রহমান (দাবা), উন্নতি খাতুন (ফুটবল), ফেডারেশন,

অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, আজীবন সম্মাননায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার লাভ করেন।
পুরস্কার হিসেবে প্রত্যককে এক লাখ টাকা এবং ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তিনিই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে শহীদ শেখ কামালকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়কও উন্মোচন করেন। শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

ধামইরহাটে বিন্যাস বিষ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে তিন বিঘা জমির ধান

Loading...