কেন রাসেলের জায়গায় খেললেন সাকিব, জানালেন ম্যাককালাম

এওইন মরগান, আন্দ্রে রাসেল, লকি ফার্গুসন, সুনীল নারাইন, সাকিব আল হাসান, টিম সাউদি, বেন কাটিং, টম সেইফার্ট। প্যাট কামিন্স না থাকার কারণে ঘুরেফিরে এ বিদেশিদের মধ্য থেকেই চারজনকে নির্বাচিত করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

অধিনায়ক হওয়ার কারণে প্রতি ম্যাচে এওইন মরগানের একাদশে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতই ছিল। বাকি তিনজন কে কে খেলবেন, সেটা নিয়েই প্রতি ম্যাচের আগে হয়েছে যত গবেষণা। সংখ্যাটা হয়তো তিনজনের জায়গায় দুজন হতো, যদি আন্দ্রে রাসেল ফিট থাকতেন।

কলকাতা একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এই ক্যারিবীয়। বিভিন্ন চোটের কারণে কলকাতার একাদশে নিজের সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি রাসেল।

চোট থেকে ফেরার পরও যে কারণে ফাইনালে সাকিব আল হাসান, সুনীল নারাইন বা লকি ফার্গুসনের জায়গায় রাসেলকে খেলায়নি কলকাতা নাইট রাইডার্স। গ্রুপ পর্বে এই চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে এক ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়েই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিলেন রাসেল। ফাইনালে সে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে রাসেলের না থাকাই কি তবে কাল হলো কলকাতার জন্য?

প্রশ্নটা ওঠাই স্বাভাবিক। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯২ রান করা চেন্নাইকে হারাতে এমন একজনকে দরকার ছিল কলকাতার, যিনি ইনিংসের শেষদিকে এসে ঝড় তুলতে পারেন। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও শুবমান গিল ঝড় তোলার কাজটা ইনিংসের শুরুতে করলেও শেষদিকে এসে সাকিব, নারাইন বা মরগান—কেউই রান তোলার কাজটা করতে পারেননি। ফলে চোট থেকে ফেরা রাসেলকে না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল কি না, উঠেছে প্রশ্ন।

তবে কলকাতার কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ওসবে কান দিচ্ছেন না। নিজের একাদশের পাশেই দাঁড়িয়ে এ কিউই বলেন, ‘দেখুন টুর্নামেন্টের শুরুতে আন্দ্রে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছিল। সে অবিশ্বাস্যভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেছে চোট থেকে ফেরার জন্য। তবে তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি ছিল। আর ফাইনালের আগে আমরা কাউকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। শেষ পর্যন্ত আমরা তাঁদেরই নির্বাচন করেছি, যাঁদের জন্য আমরা ফাইনাল পর্যন্ত এসেছি।

শেষ পর্যন্ত নিজের স্কোয়াড নিয়ে গর্বিতই হয়েছেন ম্যাককালাম, ‘আমি আমার স্কোয়াডের অর্জন নিয়ে গর্বিত। ব্যাপারটা লজ্জার যে আমরা শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা জিততে পারলাম না। তবে চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দুর্দান্ত একটা দলের কাছে হেরেছি আমরা।

ব্যাট হাতে কলকাতার অধিনায়ক এওইন মরগান একদম ম্লান ছিলেন পুরো টুর্নামেন্টে। তা–ও নিজের অধিনায়কের নেতৃত্বের প্রশংসাই ঝরেছে ম্যাককালামের কণ্ঠ থেকে। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা এলেই অনন্য। একটা টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় অধিনায়কত্ব দিয়ে যা যা করা সম্ভব, মরগান সেটাই করেছে। ওর কাছে একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি যা যা চেয়েছিলাম, ও সেটাই করেছে। ও অধিনায়কত্ব দিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ওর ভাগ্য খারাপ, ও রান পায়নি একদম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.