কানের শেষটাতেও থাকছেন না সাদ-বাঁধনরা

বিশ্ব চলচ্চিত্রের তীর্থভূমি কানে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিটে সমাপনী আয়োজনে ঘোষণা করা হবে স্বর্ণপামজয়ী ছবির নাম। এর মধ্য দিয়ে উৎসবের ৭৪তম আসরের পর্দা নামছে।

উদ্বোধনী আসরের মতো সমাপনীতেও থাকছে না বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। বাংলাদেশের ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-টিম আজ সকাল ৮টার ট্রেনে দক্ষিণ ফ্রান্সের সাগরপাড় ছাড়লো। উদ্দেশ্য প্যারিস হয়ে ঢাকায় ফেরা। এর আগে উদ্বোধনী আয়োজনে দাওয়াত পেয়েও অংশ না নেওয়ার কারণ হিসেবে ছবিটির প্রধান চরিত্র বাঁধন প্যারিস থেকে জানালেন, পুরো টিমের সম্মানেই তারা এতে যুক্ত হননি। কারণ, সেই আসরে দাওয়াত পেয়েছেন মূলত তারা তিনজন- নির্মাতা, প্রযোজক ও প্রধান অভিনয়শিল্পী। তাদের এই নির্মোহ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বেশিরভাগ মানুষ।

এরপর গত ৭ জুলাই পালে দে ফেস্টিভাল ভবনের সাল দুবুসি থিয়েটারে হয়েছিলো আঁ সার্তে রিগা বিভাগে নির্বাচিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। সেখানে ছবিটির পুরো টিম হাজির ছিলো। এরপর লালগালিচা হয়ে পুরো উৎসব এলাকা চষে বেড়িয়েছেন রেহানা টিমের প্রাণচঞ্চল সদস্যরা। কান উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের প্রথম ছবিটি বোদ্ধাদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও সেই প্রতিধ্বনি মেলেনি ১৬ জুলাই রাতে পুরস্কার ঘোষণার আয়োজনে। এই রাতে আঁ সার্তে রিগা বিভাগের পুরস্কার বিতরণ করা হয় বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। যেখানে কোনও বিভাগে স্থান পায়নি রেহানা ও তার দল।

কিন্তু উদ্বোধনীর মতো সমাপনীতেও কেন থাকছে না টিম রেহানা! একই কারণ? নাকি পুরস্কার না পাওয়ার অভিমান! বাঁধন বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘একদমই তা না। আমি পুরস্কার ঘোষণার আগেও বলেছি, এখনও বলছি- এ পর্যন্ত আমরা যা যা পেয়েছি- তাতেই আমরা মুগ্ধ। এটাও আশাতীত পাওয়া বলে মনে হয় আমাদের। বাংলাদেশের ছবি প্রথমবার এতোটা পথ এলো- এই সম্মানটাই বা কম কি! কানে থাকলে সমাপনীতে আমরা যোগ দিতাম। কিন্তু ১৮ তারিখ সকালে আমাদের ঢাকার ফ্লাইট। ভিসা মেয়াদের লিমিটেশনও আছে। ফলে ১৭ তারিখ সকালে কান ছাড়ার বিকল্প নেই। সেজন্যই আমরা সমাপনীতে যোগ দিতে পারছি না।’

এদিকে সাগরপাড়ের শহরটিতে এখন প্রশ্ন একটাই—কার ভাগ্যে আছে আসরের সবচেয়ে বড় পুরস্কার স্বর্ণপাম? এবার মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারকদের সভাপতি আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ পরিচালক স্পাইক লি। বিচারক প্যানেলে বাকি আট বিচারকের পাঁচজনই নারী। এজন্য ফ্রান্সের ক্যাথেরিন করসিনির ‘দ্য ডিভাইড’, মিয়া হানসেন-লাভের ‘বার্গম্যান আইল্যান্ড’ ও জুলিয়া দুকুরনোর ‘টাইটেন কিংবা হাঙ্গেরির ইলদিকো এনিয়েদির ‘দ্য স্টোরি অব মাই ওয়াইফ’ স্বর্ণ পাম জিততে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৬ জুলাই শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে থাকা ২৪টি চলচ্চিত্রের মধ্যে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে বেশিরভাগই। এ তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস অ্যান্ডারসনের ‘দ্য ফ্রেঞ্চ ডিসপাচ’, শন বেকার পরিচালিত ‘রেড রকেট’ ও শন পেনের ‘ফ্ল্যাগ ডে’, চাদের মোহাম্মদ সালাহ হারুনের ‘লিঙ্গুই, দ্য স্যাক্রেড বন্ডস’, রাশিয়ার কিরিল সেরেব্রেনিকোভের ‘পেত্রোভস ফ্লু’, নরওয়ের ইওয়াকিম ট্রিয়ারের ‘দ্য ওর্স্ট পারসন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’, ইসরায়েলের নাদাভ লাপিডের ‘আহেদস নি’, ইতালির ন্যানি মোরেত্তির ‘থ্রি ফ্লোরস’ এবং নেদারল্যান্ডসের পল ভারহোভেনের ‘বেনেদেত্তা’। পছন্দের তালিকা থেকে পিছিয়ে নেই স্বাগতিক ফ্রান্সের তিন ছবি জ্যাক অদিয়াঁরের ‘প্যারিস থার্টিন্থ ডিস্ট্রিক্ট’, ফ্রাসোয়া ওজোর ‘এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন’ ও লিও ক্যারাক্সের ‘আনেট’।

Loading...