কলা খাওয়ার উপকারিতা

কলা কেনো খাবেন জানুন...

কলা ইউনিক ফ্রুট বা সুপার ফুড নামে পরিচিত। উৎপাদন, স্বাদ ও সুগন্ধের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় কলাকে ফলের রানী বলা হয়। মানবদেহের ক্ষয়পূরণ, পুষ্টিসাধন এবং সুস্থ-সবল ও নীরোগ রাখার জন্য যেসব পুষ্টি উপাদান দরকার তার প্রায় সবগুলোই কলাতে আছে।

কলায় কি কি ভিটামিন থাকে?

কলায় A to Z ভিটামিন আছে। শুধু কলা খেলেই আপনি সব ভিটামিন পাবেন। এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি ও সি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, খাবার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় আছে ৭.০ গ্রাম প্রোটিন, ২৫ গ্রাম শর্করা, ০.৮ গ্রাম চর্বি, ০.১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০.০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্ল্যাভিন) ও ২৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় আছে ১৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৯০ মিলিগ্রাম লৌহ, ৮০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) এবং ১০৯ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি।

কলা

কলা খাওয়ার উপকারিতা:

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলা রাখলে ৪০ শতাংশ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া পাকস্থলীর দেয়ালকে এসিডের হাত থেকে রক্ষা করতে কলার যথেষ্ট ভূমিকা আছে। গলার ঘায়ে, শুল্ক কাশিতে ও কিডনি রোগের ক্ষেত্রে পাকা কলা উপকারী।

এছাড়া কলা খেলে মানসিক চাপ কমে, মানসিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি হয়। কলায় সোডিয়ামের পরিমাণ কম এবং পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমায়। কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি মাথাব্যথার প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে। তাই মাথাব্যথা করলে ঔষধ না খেয়ে কয়েকটা পছন্দের কলা খেয়ে নিন।

খালি পেটে কলা খেলে কি হয়?

 

যখন আপনি খালি পেটে কলা খাচ্ছেন তখন আপনার শরীরে শক্তি তো উতপন্ন হবেই না বরং আপনার শরীর খুব অলস হয়ে যাবে। শরীর ক্লান্ত হয়ে গিয়ে ঘুম পাবে। তাই খালি পেটে কলা না খাওয়াই ভালো।

কলায় অ্যাসিডিক কিছু পদার্থ থাকায় যা খালি পেটে খেলে পেটে অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক থাকেনা। তাই কলা কোন শুকনো খাবারের সাথে খাওয়াই ভালো। খালি পেটে কলা খেলে শরীরে উচ্চ মাত্রায় ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়।

এর ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু সকালে বলে না, কোন সময়ই খালি পেটে কলা খাওয়া উচিত্‍ নয়। কলা সব ফলের মধ্যে ভালো ও পুষ্টিকর কিন্তু খালি পেটে কখনই নয়।

 

কলা

কলা
কলা খাওয়ার উপকারিতা

কখন খাওয়া উচিত?

 

প্রতিদিন কলা অবশ্যই খাওয়া উচিত। সকালে কলা খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি হয়। তবে খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়। ভরা পেটে কলা খাওয়া বেশি উত্তম এতে আমাদের স্বাস্থ্যের উপকার হয়। সকালে কলা খাওয়া খুবই ভালো, তবে তা অন্য কোনো ফল বা ওটমিলের সঙ্গে খেলে ওজন হ্রাসের জন্য তা আশ্চর্যজনক কাজ করতে পারে। দুপুরে কলা খেতে পারেন। রাতে কলা খেলে মিউকাস তৈরি করে এবং হজমে সমস্যা করে।

পাকা কলার উপকারিতা:

 

পাকা কলা ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে পাকা কলা ইন্টারনাল কোষ ও রেডিক্যাল কোষের কারণে হওয়া ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে রোগের ঝুঁকি কমে।

পাকা কলার মধ্যে উচ্চ পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে এবং কম সোডিয়াম থাকে। নিয়মিত এই কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমতে সাহায্য হয়। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। আয়রন থাকার কারণে পাকা কলা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

উচ্চ পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট ও সুগার থাকার কারণে পাকা কলা শরীরে শক্তি জোগাতে কাজ করে। দুটো পাকা কলা টানা ৯০ মিনিট ব্যায়ামের শক্তি জোগায়।

কলার মধ্যে আঁশ থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে উপকারী। এটি হজম ভালো করতেও কার্যকর।

 

সবরি কলা:

সবরি কলার ঔষধি উপকারিতা আছে। সম্পূর্ণ বীজমুক্ত কলা সবরি। এই কলার মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ। এটি খেতেও বেশ মাজাদার।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়, এই ফল নারীর ঋতুস্রাবের সমস্যা সমাধান করে এবং দেহে শক্তি জোগায়। কলায় থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বিভিন্ন রোগ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

কলা
কলা খাওয়ার উপকারিতা

বিচি কলার উপকারিতা:

পাকলে মিস্টি স্বাদ যুক্ত কলার ভেতরে ছোট ছোট বিচি থাকে বলে এমন নাম। একটি বিচি কলায় ১৫ থেকে ৬২টি বীজ থাকতে পারে।

বিচি কলা বা এটে কলার অনেক ঔষধি গুণ আছে। এসব বীজ ওয়ালা কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস থাকে, যা শরীরে স্বাস্থ্যকর টিস্যু গঠনে কাজ করে।

বিশেষ করে আমাশয় ও পাতলা পায়খানা রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। শর্করা জাতীয় খাবার পরিপাকতন্ত্রকে হজম করতে সাহায্য করে। বিচি কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন ও স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করে। এ কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে।

বিচি কলাকে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা পথ্য হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

 

কলা খেলে কি ওজন বাড়ে?

 

অনেকে মনে করেন, কলা খেলে ওজন বাড়ে। কলায় ক্যালোরি আছে এবং এটা মোটা করে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

ফাইবার সমৃদ্ধ কলা খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হয়। তখন অন্য খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। এতে ওজন বাড়ার আশঙ্কাও কমে।

কলা খেলে কি আসলেই ওজন কমে?

 

ডায়েটেশিয়ানদের মতে, যারা কলা খেতে পছন্দ করেন তারা খাবারের তালিকায় কলা রাখতে পারেন। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। অধিক ক্যালরি সম্পন্ন খাবারের বিকল্প হিসেবে কলা খাওয়া হলে তা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। মাঝারি আকৃতির একটি কলায় মাত্র ১০৫ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও কলাতে রয়েছে ক্রোমিয়াম নামক খনিজ পদার্থ, যা বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।

 

কলার সব উপকারিতা:

কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

কলার মধ্যে থাকা তিন ধরনের প্রাকৃতিক চিনির শক্তিশালী মিশ্রণ (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ) আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখে এবং আপনাকে যোগান দেয় দিনের প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি। প্রতিদিনের খাবারে রাখুন কলা এবং যখন অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হয়ে দুর্বল অনুভূব করেন তখনই কলা খাবেন। শরীরে বল আসবে।

কলার মধ্যে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন ২টি করে কলা খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে। এ ছাড়া হজম শক্তিও বাড়ায় কলা।

কলা
কলা খাওয়ার উপকারিতা

প্রোবায়টিকের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস হলো কলা। এতে রয়েছে ফ্রুক্টোওলিগোস্যাকারাইড যা দেহে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমাদের দেহের অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রোবায়টিক গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কলায় থাকা আয়রন রক্ত কোষকে উজ্জীবিত করে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। যা রক্তস্বল্পতা দূর করে। এর ফলে অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনা কমে। এমনকি অ্যানিমিয়া সারাতেও সাহায্য করে কলা।

মানসিক চাপ কমায় এবং একইসঙ্গে মানসিক কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে কলা। তাই যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা স্ট্রেসফুল কাজ শুরু করার পুর্বে একটি কলা খেয়ে নিতে পারেন, অনেক উপকার পাবেন।

বড় ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামে শক্তি যোগায় কলা। এটি শরীরের পেশি, লিগামেন্ট ও রগ শক্তিশালী করে তোলে। যেহেতু এটি শারীরিক পরিশ্রমে প্রচুর সহায়তা করে, তাই ব্যায়াম করার পূর্বে কলা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

 

কলায় ট্রিপটোফেন নামক এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা সেরোটিন নামক হরমোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন ঘুমের জন্য সহায়ক।

ধূমপান ছাড়তে চাইলে বেশি করে কলা খান। কারণ কলায় উপস্থিত ভিটামিন বি৬, বি১২, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।

তাছাড়াও কলায় প্রচুর পরিমাণ ক্যালিশিয়াম থাকে যা শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া যারা হাড়ের বা বাতের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যাভাসে কলা রাখতে পারেন। কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি মাথাব্যাথার প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে।

ত্বক তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যেতে দেয় না কলা। রোজ কলা খেলে ত্বকের বুড়ো হওয়ার গতি ঢিমে হয়। এর কারণ, কলায় প্রচুর ভিটামিন সি ও ম্যাঙ্গানিজ আছে, ত্বকের পক্ষে যা অত্যন্ত জরুরি। ভিটামিন সি অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজও করে, যা ত্বকের কোষ ও টিস্যুকে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

 

কলা খেলে কি ঠান্ডা লাগে?

 

একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, কলা খেলে ঠান্ডা লাগে। তাই অনেক সময় অভিভাবকরা শিশুকে কলা খেতে দেন না বা নিজেরাও কলা খাওয়া এড়িয়ে যান। আসলেই কি বিষয়টি সঠিক?

এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কলার ভেতর রয়েছে ভিটামিন। এটি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তবে যারা ঠান্ডার সমস্যায় ভুগছেন বা যাদের এরই মধ্যে ঠান্ডা লেগে আছে, তাদের কলা খেলে শ্লেষ্মা বা মিউকাস বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, যেমন : অ্যাজমা, নাকে পানি ঝরা, হাঁচি এসব সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কলা খেলে সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কলা খাওয়া এড়িয়ে গেলে ভালো হয়। তবে ঠান্ডা সেরে গেলে আবার যথাযথভাবে কলা খেতে পারেন।

 

কলা
কলা খাওয়ার উপকারিতা

আরো পড়ুন:

জনবল নিয়োগ দিবে একে টেলিভিশন

মাত্র ৯০০ টাকা কিস্তিতে ১ কোটি টাকা লোন পাবেন যেভাবে

রেজিস্ট্রেশনের টাকা দিতে না পারায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

সুস্বাদু খেজুর গুড়ের পায়েস

চিকেন মোমো

র‌্যাবের হাতেই ভুয়া র‌্যাব সদস্য আটক

বিএনপির সাবেক এমপি মোমিন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেট কোচ নিতে চায় মালদ্বীপ

নিকের সঙ্গে বয়সের পার্থক্য নিয়ে যা বললেন প্রিয়াঙ্কা

Leave A Reply

Your email address will not be published.