করোনা মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ২০২০ সালের অংশীদারত্ব বৈঠকে চিহ্নিত সহযোগিতার ক্ষেত্রে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সরকারের মধ্যে অংশীদারত্ব গভীরতর করার জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে-বাইরে জড়িত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে করোনার অতিমারির বিরূপ প্রভাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সালমান এফ রহমান কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশকে করোনার ৫৫ লাখেরও বেশি ডোজ টিকা সরবরাহ করার জন্য মার্কিন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

মহামারির প্রথম দিন থেকেই করোনা মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন সালমান এফ রহমান। তিনি করোনা মোকাবিলায় টিকা ও অন্য ব্যবস্থাপনা সরঞ্জামাদির বৈশ্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টিকা উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশের দক্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে উৎসাহ প্রদানের জন্য মার্কিন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ এ ধরনের অংশীদারত্বের জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

মার্শা বার্নিকাট করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিপিইর পাশাপাশি করোনার টিকা ও থেরাপিউটিক্স উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেবে।

বৈঠকে শ্রমিকের অধিকার ও সুরক্ষা, জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনঃস্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে শ্রমিকের অধিকার ও সুরক্ষা আরও উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গৃহীত বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে বার্নিকাটকে অবহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্র এ সেক্টরে বাংলাদেশের নিরন্তর প্রচেষ্টার প্রশংসা করে। আরও বেশি অগ্রগতি অর্জনে তারা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে, ২০২০ সালের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৈঠক দুটি দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতাকে গতি দিয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে পরবর্তী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৈঠক আয়োজনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Loading...