করোনা ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন ২ জনসহ ৭ জনের মৃত্যু

করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন ২ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। নতুন ৬৪ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩৯৬ জন। এর মধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। ভারতে বর্তমানে ৩৬৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন।
শুরুতে দেশটিতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু সময় যত পেরোচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে । ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯৬। যে ভাবে সংক্রমণের সংখ্যাটা বাড়ছে, তাতে গোটা দেশে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো যাতে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য রাজ্যে, শহরে লকডাউন, শাটডাউনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা মতোই রবিবার দেশ জুড়ে পালিত হয়েছে ‘জনতা কার্ফু’। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে ব্যাপক সাড়াও মিলছে রবিবার সকাল থেকেই।
এছাড়া করোনার জেরে ভারতে সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার ১১টার সময় খোলা থাকবে। অন্য সব বেঞ্চে যে সব মামলা রয়েছে, তা আপাতত স্থগিত থাকবে। সপ্তাহের মাঝামাঝি, বুধবার বাকি দুই বেঞ্চ খোলা হবে।
আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশ জুড়ে বন্ধ থাকবে এক্সপ্রেস, মেল, প্যাসেঞ্জার, লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো রেল পরিষেবা। এটি কার্যকরী হয়েছে রবিবার মধ্যরাত থেকে। দিল্লি মেট্রো সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ।
করোনা রুখতে সীমানা বন্ধ করে দিল কর্নাটক। স্থগিত দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও। বুধবার পর্যন্ত চারটে শহরে লকডাউন ঘোষণা করল গুজরাত। এগুলো হল—আমদাবাদ, সুরাত, রাজকোট, বদোদরা। রাজস্থানে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পঞ্জাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান এবং বিহারে।
সমস্ত রাজ্যকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জিম, মিউজিয়াম, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সুইমিং পুল, থিয়েটার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডাতে হাসপাতাল, মুদি, ওষুধ, দুধের দোকান ছাড়া সব অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ ছুটি ঘোষণা করেছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।
এদিকে করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৬০৩ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৬ জনের। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬১। চীনের বাইরে মারা গেছে ১১ হাজার ৩৫৫ জন।
এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৮০২ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৬৩৬ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৪ জন।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৪৬ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১০ হাজার ৬৪০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়।
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
Loading...