কঠোরতম বিধিনিষেধ অমান্য করে কাদের মির্জার ‘চা-চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই নোয়াখালী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান স্বাক্ষর করা গণবিজ্ঞপ্তির বিধিনিষেধের ৫ নম্বর ক্রমিকে বলা হয়, ‘জনসমাবেশ হয়, এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে একেটিভিকে বলেন, কঠোরতম বিধিনিষেধ অমান্য করে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেউ তাঁকে অবহিত করেনি। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন।

আবদুল কাদের মির্জার চা-চক্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের একাংশ। আজ সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌর মিলনায়তনে।

কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন কাদের মির্জা। বুধবার ভোর চারটায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সোমবার বিকেলে চা-চক্র অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চারটি ছবি পোস্ট করেন কাদের মির্জা। ছবিগুলোতে দুই শ থেকে আড়াই শ লোকের সমাগম দেখা যায়। ছবির সঙ্গে কাদের মির্জা লেখেন, ‘আমেরিকা যাওয়ার প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চা-চক্রে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়। কোম্পানীগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধৈর্যশীল হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিই। আসুন, সবাই শান্তশিষ্ট কোম্পানীগঞ্জ প্রতিষ্ঠায় যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী। একেটিভিকে তিনি বলেন, ‘নেতা আমেরিকা যাওয়ার উদ্দেশে কাল মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে রওনা হবেন। যাওয়ার আগে সবাইকে নিয়ে চা-চক্র করেছেন। সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের ঝামেলা যাতে না হয়, সেটি বলে দিয়েছেন।’

বিধিনিষেধ অমান্য করে চা-চক্র অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়ে জানার জন্য আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও ফোন ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে একই বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী কোনো কথা না বলে চুপ থাকেন। পরে উপস্থিতির সংখ্যা কত ছিল জানতে চাইলে বলেন, দুই-আড়াই শ হবে।

Loading...