ওমানকে হারিয়ে স্বস্তি টাইগারদের

 

আল আমিরাত স্টেডিয়ামের জায়ান্ট ক্রিনে বারবার দেখাচ্ছিল তামিম ইকবালের সেই সেলিব্রেশন। ২০১৬ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে এই ওমানের বিরুদ্ধে ভারতের ধর্মশালায় করেছিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। কাল গ্যালারিতে দর্শকরাও ‘মিস ইউ তামিম’ প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হয়েছিলেন।

 

বাংলাদেশ দলও তামিম ইকবালকে ভীষণভাবে মিস করছে তা পাওয়ার প্লের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশনের প্রথম ৬ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে করেছিল মাত্র ২৯ রান। অথচ ওমানের রান ছিল পাওয়ার প্লেতে ৪৭। তার পরও অভিজ্ঞতার কারণেই ২৬ রানের দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এ জয়ে সুপার টুয়েলভে খেলার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

 

এখন আগামীকাল পাপুয়া নিউগিনিকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে। গতকাল জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে ওমানের দরকার ছিল ৫৮ রান। হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু স্বাগতিকরা ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি। ওমানের         ইনিংস থমকে যায় ৯ উইকেটে ১২৭ রানে। ম্যাচ বাংলাদেশের গ্রিপে চলে আসে সাকিবের ১৭তম ওভারে। মাত্র ৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। পরের ওভারে মুস্তাফিজ এসে ২ উইকেট নিয়ে ওমানকে রীতিমতো ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন। ৪ ওভারে মুস্তাফিজ ৩৬ রান দিলেও নিয়েছেন ৪ উইকেট।

 

সাকিব ২৮ রানে নিয়েছেন ৩টি। তবে ১টি করে উইকেট পেলেও অসাধারণ বোলিং করেছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও মেহেদী হাসান। ব্যাট হাতে দুই অলরাউন্ডারই দারুণ বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে মেহেদী দিয়েছেন ১৪ আর সাইফুদ্দিন ১৬ রান। ব্যাট হাতে এ দুই তারকা রানের খাতা খুলতে না পারলেও বল হাতে কিপ্টেমি দেখিয়ে তা পুষিয়ে দিয়েছেন।

 

প্রথম ম্যাচে বাদ পড়া ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম গতকাল খেলেছেন ৬৪ রানের ক্যারিশমাটিক ইনিংস। দারুণ ব্যাটিং করেছেন সাকিব আল হাসানও। তিনিও ২৯ বলে খেলেছেন ৪২ রানের ইনিংস। এ ছাড়া ১৭ রান করেছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ দলের বাকি আট ব্যাটারের কেউই নিজেদের স্কোর ডাবল ফিগারে নিয়ে যেতে পারেননি। লিটন দাস ৬, মেহেদী হাসান ০, নুরুল হাসান সোহান ৩, আফিফ হোসেন ১, মুশফিকুর রহিম ৬, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ০, মুস্তাফিজুর রহমান ২ এবং ১ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন আহমেদ।

 

তৃতীয় উইকেট জুটি সাকিব-নাঈমের ৮০ রানের জুটিই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিল বড় স্কোর। টি-২০ ক্রিকেট এমনই, যত অনিশ্চয়তাই থাকুক না কেন একটি জুটিই অনেক সময় খেলার চিত্র পাল্টে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে এ ম্যাচ জিতলেও ব্যাটিং নিয়ে তাই দুশ্চিন্তা থাকছেই। বিশেষ করে ‘পাওয়ার প্লে’! এই রোগের এখনই সঠিক ব্যবস্থাপত্র তৈরি করতে না পারলে সুপার টুয়েলভে উঠেও খুব একটা লাভ হবে না বাংলাদেশের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.